বৃহস্পতিবার, মে ৩০

অকালের ঘুড়ি : শাদমান শরীফ

0

ফিরে আসে বিকেলের মেঘ


ট্রামের যাত্রাপথে ফিরে আসে বিকেলের মেঘ
ফিরে আসে শ্রাবণের বর্ষণমুখর রাত, দূর সমুদ্রে নাবিকের মাতাল ঘুম
মদিরায় ডুবে থাকা সূর্য হঠাৎ চোখ খুলে অর্বাচীন তাকায়, আর
বাতাস ছড়িয়ে দেয় তোমার লাশের গন্ধ—

চেয়ে দেখো, মৃতরা কতটা ঠিকানাহীন
যেন জলে ভাসমান অর্ধগলিত পানকৌড়ি
বেওয়ারিশ সাম্পান আর আর ক্ষীণপদী মাছের খাবার।


ডোম


মাথার ওপর ঝুলে থাকা পাখার দিকে তাকিয়ে
আমার লুপ্ত অতীত বলে দেয় মর্গের ডোম
কীভাবে কপালে আঘাত পেয়েছিলাম তা আমার
বুকের পাঁজর কাটতেই নাকি বেরিয়ে এসেছে।

শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে
বলছে সে, আমিও তোমার মতোই ছিলাম একদিন ঠিক
এ বেডে জীবন্ত শবদেহে।

বৃদ্ধ ডোমের সাথে চা-পানির আলাপ জমে দীর্ঘক্ষণ
ক্রমাগত বলে যাচ্ছে সে আর আমার তাজা দেহ
কেটে আলাদা করে ভেতর থেকে বের করছে কলিজা
আমি টের পেয়ে গেছি জেনে লোকটি দাঁত কেলিয়ে হাসছে
বিদ্‌ঘুটে তার চেহারা
আর কপালভর্তি চোখ আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

এর চেয়ে বিনাশ্রমে কারাদণ্ড হলে অনেক ভালো হতো
আমার চোখে জল, ডোম বললেন—
মৃত মানুষের চোখে অশ্রু জমে না, জানো তো?


জীবন পাঠ


মাটি থেকে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিয়ে শুয়ে পড়েছি মাটিতে
ভাবছি এবেলা মাটিতেই ঘুমাব।

তুমিও আমার পাশ ফিরে ঘুমাতে পারো
বিছানার অদূরে রক্তজবা নেশাতুর মাধুরী বিলোয়
দূরে অবিশ্বাসের আকাশে ওড়ে শরীরের ঘ্রাণ
আমরা এভাবে আমাদের জীবন পাঠ করি পুনর্বার।

মাতাল অনুভূতি জীবনের গতি মন্থর করে
ঘুংঘুর রোদে বেলা ভিড়ে গেছে, অবশেষে
ক্লান্ত বিছানায় দুর্বিসহ নিশ্বাস নিয়ে
দ্রুত উঠতে পারো তুমি।

বৃষ্টির যৌনতায় অগত্যা মাটি পোয়াতি হয়
অথচ বিছানাহীন পোয়াতি হলে তুমি
পুরুষবীর্য ছাড়া।


অকালের ঘুড়ি


আমাদের পদস্থান পথের ধূলায় তলিয়ে গেছে বেখেয়ালী স্রোতে
আকাশে হারায় পথ দিকভ্রান্ত ঘুড়ি
সময়ের সুতো ছিঁড়ে নীল আকাশ দেখি গভীর সমুদ্রে
লবণের খেতে শরীর ক্ষত করে মজে আছি মথুরার রথে

হরি অথবা যীশু বাইবেলে মুখ লুকিয়ে
স্বর্গের শান তোলে শান্তির লোভে, অথচ স্বর্গচ্যুত আমার
অকথিত বেদনায় নীল হয় সাগর-আকাশ।

মাথায় আসন পেতে বসে আছে দিবাকর
অকালের ঘুড়ি আমি, উড়তে উড়তে হারিয়ে যায় পথ।


ক্লান্ত বিছানায় রাখো পিঠ


পথের ধুলো আমার পায়ে শেকল পরিয়ে দেয়
যেন অযাচিত আর্তনাদে ক্রোধে ফেটে যাচ্ছে তার যিশুজীবন
হাতের কলম বিশ্বাস করে না আমাকে
অল্প অল্প করে জীবনের ইতি ঘটছে ব্যর্থতার চাকায়।

কে জানত পুরনো স্মৃতির পাতা ইতিহাস হবে
শতবর্ষী বটমূলে জড়ানো ছায়ার রং কালো, আর
শূন্য ছায়ায় নিরর্থক প্রশ্ন আমাকে বারবার অভিযোগ করে

কামনার জমিনে ধর্ষণের দুর্গন্ধ
জারজ বীর্যে ফসলের আরাধ্য অভিসারে
মেনে নিয়েছি ভবিষ্যৎ

তোমার স্তনে মুখ রেখে চুষে নিই বাঁচার আস্বাদ
তুমি ক্লান্ত বিছানায় পিঠ রাখো আরেকবার।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ২৫শে নভেম্বর ১৯৯০ সালে চাঁদপর জেলা হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন পশ্চিম হাটিলা গ্রামে। নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন লিটল ম্যাগ এবং স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে। শিল্প- সাহিত্যের সংগঠন সাহিত্যমঞ্চ, চাঁদপুরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। প্রকাশিত কবিতার বই ‘লালসার ঘোড়া’। প্রকাশিত হয়েছে ২০২২ সালে।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।