সোমবার, আগস্ট ১৫

অর্বাচীনের আহ্নিক : পরিবর্তিত এই নগর-সংস্কৃতির গল্প : বিনয় দত্ত

0

সমকালীন কথনমালায় নতুন সংযোজন ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’। এই নামের বিভিন্নরকম অর্থ দাঁড়ায়। পাঠক নিজস্ব ভাবনায় অর্থ ধরে নিতে পারেন। সেই ভাবনায় আপনারা মুক্ত।

গল্পকথক হিসেবে আমার আগ্রহ শুধু গল্প বলাতে, সময় ধরাতে। ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’-এ আমি একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প বলতে চেয়েছি। গল্প মূলত একটি, এর শাখা-প্রশাখা অসংখ্য।


Orbachiner Anhik-01

অর্বাচীনের আহ্নিক | বিনয় দত্ত | প্রকরণ : সমকালীন কথনমালা | প্রকাশক : পুথিনিলয় | প্রচ্ছদ : সারাজাত সৌম | মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ | বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন


গল্প সময়ের, এই শহরের, শহরে বেঁচে থাকা মানুষের, এই জনপদের, পরিবর্তিত এই নগর-সংস্কৃতির, এই জাতির ধর্মান্ধ হয়ে ওঠার।

গল্পগুলো ঠিক গল্প নয়। সময়ের চালচিত্র, বিশ্লেষণ, প্রশ্ন করার নতুন কৌশল, সূত্র। গল্পগুলো কখনো গল্প, কান্না, আহাজারি, কষ্ট, হতাশা, আবার কখনো সুবোধ ফিরিয়ে আনার কথন। গল্পগুলো পরিচিত। কিন্তু ভাবনা অচেনা, অপরিচিত। এই অচেনা ভাবনা পাঠককে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে। প্রশ্ন করার সাহস জোগাবে।

গল্পগুলো ঠিক গল্প নয়। সময়ের চালচিত্র, বিশ্লেষণ, প্রশ্ন করার নতুন কৌশল, সূত্র। গল্পগুলো কখনো গল্প, কান্না, আহাজারি, কষ্ট, হতাশা, আবার কখনো সুবোধ ফিরিয়ে আনার কথন। গল্পগুলো পরিচিত। কিন্তু ভাবনা অচেনা, অপরিচিত। এই অচেনা ভাবনা পাঠককে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে। প্রশ্ন করার সাহস জোগাবে।

চিরচেনা এই দেশের অচেনা-অজানা সংকট-সমস্যার গল্প। আমি সবসময় আয়েশি ঢঙে গল্প বলি। এখানেও তার প্রভাব প্রবল। এগুলো ঠিক গল্প না, সংকটের কথ্যরূপ, তির্যক ভাষ্যরূপ, রূঢ় বাস্তবতা, স্পষ্ট উচ্চারণ, মেদহীন সত্যবচন, গন্ধহীন-বিবর্ণ শব্দজট। এই জটে আটকা আমাদের প্রাণ, শ্বাস, মনন। নেই কোনো উচ্চারণ। উচ্চারণ শুধু অর্বাচীনের মুখে।

যেমন সাংস্কৃতিক সংকট এখন প্রধান অন্তরায়। কিন্তু কেউ স্বীকার করছে না। স্বীকার করতে দায় নিতে হয় এই ভয় সর্বত্র। রাষ্ট্র তো কখনো নেবেই না, সংগঠনও হাওয়া-বাতাস লাগিয়ে দিনক্ষণ দেখে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। এ দিয়ে কি মুক্তি মিলবে? অর্বাচীন বলছে, মুক্তি তখনই মিলবে যখন সবাই ধর্ম, বর্ণ, জাত ভুলে একই কাতারে মিলবে।

পাঠ্যপুস্তকে কী থাকবে আর কী থাকবে না তা বলবে কে? জানা লোক নিশ্চয়ই। যদি অন্ধকারে ডুবে থাকা বর্বর উগ্রবাদী বলে তা কি সাজে? নিশ্চয়ই নয়। অথচ শিশুদের পাঠ্যপুস্তক তাদের নির্দেশে পরিবর্তিত হয়ে যায় দিনের আলোয়। এই দায় কার? রাষ্ট্রের। অর্বাচীন বলে, সত্য সবসময় তেঁতো।

সাম্প্রদায়িক দেশে উগ্রতা এখন মগজে-মননে। অসাম্প্রদায়িকতা কাগজে-কলমে। কেন এমন হলো? কেউ কি প্রশ্ন করেছে? দুর্গাপূজায় কেন হামলা হলো কেউ দায় নিয়েছে? একটা বৃহৎ গোষ্ঠীর বিশ্বাস কেন ভাঙা হলো কেউ জিজ্ঞেস করেছে? আদতে রাজনৈতিক কিন্তু বলা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক হামলা, আচ্ছা এই হামলায় যারা মারা গেল তাদের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়িয়েছে? দাঁড়ালে বুঝি দায় নিতে এই ভয়? অর্বাচীন বলে, এই অন্ধত্ব ঘুঁচবে না, যদি আলো না আসে।

শুধু কি এই? ধর্ষণ কেন বন্ধ হচ্ছে না? দুর্নীতি কেন থামছে না? পিচঢালা সড়কে কেন রক্তের দাগ শুকাচ্ছে না? সবাই কেন সরকারি চাকরির পেছনে ছুটছে? ত্রাণের খাবার কেন ক্ষুধার্তের মুখে না গিয়ে রাক্ষসের পেটে যাচ্ছে? করোনার মতো ভয়ংকর মহামারি কেন উগ্রবাদীদের মুখে পড়ছে? বাঙালি কেন তার আদি রূপ থেকে আরোপিত বা আমদানি করা রূপে ঘুরছে? এইরকম অসংখ্য প্রশ্ন কেউ করছে না। অথচ প্রশ্ন করা ছিল ঐচ্ছিক। এই প্রশ্ন করেছে অর্বাচীন, উত্তরও খোঁজার চেষ্টা নিজেই করেছে।

যে কাল আমরা পার করছি তা ধরেছি সমকালীন কথনমালায়। সময়ের কথন টুকে রাখার তীব্র অভিপ্রায় ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’-এ। কয়েকযুগ পর সাক্ষ্য দেবে এই কথনমালা। যেমন আমরা পূর্বের সময়, চরিত্র, প্রতিবেশ জানি প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে।

যে কাল আমরা পার করছি তা ধরেছি সমকালীন কথনমালায়। সময়ের কথন টুকে রাখার তীব্র অভিপ্রায় ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’-এ। কয়েকযুগ পর সাক্ষ্য দেবে এই কথনমালা। যেমন আমরা পূর্বের সময়, চরিত্র, প্রতিবেশ জানি প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে।

লেখার ভাষা সরল এবং সাবলীল। ‘এই শহর সুবোধদের’, ‘আরোপিত এই নগরে’-র পর এটি তৃতীয় সিরিজ। ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’ পড়া শুরু করলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মিলবে নিশ্চিত। ‘এই শহর সুবোধদের’, ‘আরোপিত এই নগরে’ পাঠক সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাই আবারও লিখতে উৎসাহিত হয়েছি।

প্রতিবারের মতো এইবারও যা করেছি তা হলো, পাঠকের বোধের দরজায় সজোরে ধাক্কা দিয়েছি। কাজটা করেছি সচেতনভাবে। যাতে মুক্তমত, মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি বিকশিত হয়। সুবোধ জেগে ওঠে।

‘অর্বাচীনের আহ্নিক’ বইটি মূলত সমকালের বিভিন্ন ঘটনার সমন্বিত রূপ। এর সাক্ষী আমরা সবাই। সময়ের ব্যবধানে বইটি পড়া হবে। তখন এইসব ঘটনা সম্পর্কস্থাপন করবে পাঠকের কাছে। তাই বইটি সকলের পাঠ্য হোক এই প্রত্যাশায় আবারও আমন্ত্রণ ‘অর্বাচীনের আহ্নিক’-এ।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

মুক্তমনা কথাসাহিত্যিক এবং প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। জন্ম ২০ ফেব্রুয়ারি, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তার অবস্থান সদৃঢ়। লেখালেখির শুরু ছেলেবেলাতেই। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, চিত্রনাট্য, মুক্তগদ্য লেখেন। এছাড়া সামাজিক সংকট ও সমস্যা নিয়ে জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে লেখালেখি করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণায় যুক্ত আছেন। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ে দেশের স্বীকৃত জার্নালে তার একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গল্পগ্রন্থ: ‘চিলতে মেঘ ও কুহুকেকার গল্প’, [চৈতন্য, ২০১৭]; উপন্যাস: ‘অমৃতায়ন’, [পুথিনিলয়, ২০১৮]; সমকালীন কথনমালা: ‘এই শহর সুবোধদের’, [পুথিনিলয়, ২০১৯]; সমকালীন কথনমালা: ‘আরোপিত এই নগরে’, [পুথিনিলয়, ২০২০]। স্বীকৃতি: ‘আবুল মনসুর আহমদ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা পুরস্কার ২০২০’-এ প্রথম স্থান অর্জন।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।