রবিবার, নভেম্বর ২৮

আমার শিক্ষক কবি অসীম কুমার দাস : আহমেদ স্বপন মাহমুদ

0

প্রতিনিয়ত জীবনে থাকা এবং যেসব জীবন ধেয়ে আসছে সেইসব জীবনে বেঁচে থাকা আনন্দের। এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যু এবং যেসব মৃত্যু ধেয়ে আসছে সেইসব মৃত্যুর ভিতর মরে যাওয়াও কম আনন্দের নয়! সময়হারা মৃত্যুহীন কবিতার মতো তা চিরআনন্দের। জীবন বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার সময়টুকুমাত্র নয়; সময় মানে ইতিহাস, চিরকালীনতা। জীবনের এই সময়কে ছুঁয়ে যাওয়া, ছুঁয়ে যেতে পারা, সময়ের সাথে নাচা এবং সময়কে নাচাতে পারা, ইচ্ছামত সময়কে ঘোরাতে পারা, হাতের মুঠোয় নিয়ে চেপে ধরা খুব সহজ তো নয়!

সময়কে শাসন করবার ক্ষমতা, জীবনকে ছেঁকে নির্যাসটুকু চেখে আস্বাদ নেবার ক্ষমতাও সবার থাকে না। জীবনকে উচ্চকিত করে তুলবার ক্ষমতা, আবার সময়ের ভিতরে ডুব দিয়ে থাকবার ক্ষমতাও থাকে না সবার। কীভাবে সময়কে কলরবমুখর করে আবার তার মধ্যে ডুব দিতে হয়, হারিয়ে যেতে হয় গভীর ধ্যানমগ্নতায় তা যাপন করেছেন, করছেন কবি অসীম কুমার দাস। তিনি বাংলা ভাষার খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন কবি। ‘ঝঞ্ঝা ও পুনরুত্থান’-এর কবি।


অসীম কুমার দাস

কবি অসীম কুমার দাস ও দুই নেওটা সালাম এবং জাহাঙ্গীর। রাতের পথের নাক্ষত্রিক আড্ডা স্বপ্ন। ৯০দশকের গোড়ায়। ছবি ও ক্যাপশন ঋণ : মোহম্মদ কামালের ফেসবুক ওয়াল থেকে


অসীম কুমার দাস একজন মদমত্ত ঘোরের সওয়ারি। উড়ন্ত হাওয়ায় তিনি বেঘোরে উড়তে জানেন, এবং সময়ের গভীর ঘুমে গভীর আলোকধ্যানে মগ্ন হয়ে যেতেও পারেন। কবি অসীম কুমার দাসের জীবনপর্বে অন্তত দুটি পর্ব স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়। একটি উচ্চকিত কলরবমুখর ঘোরমত্ত সময় পর্ব, অন্যটি আলোকধ্যানমগ্ন সাধন পর্ব।

অসীম কুমার দাস আমার সরাসরি শিক্ষক। পরম পুজনীয় তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর সরাসরি পাঠ যেমন নিয়েছি, জীবনের শিক্ষাটাও নিয়েছি তাঁর কাছ থেকে। খুব কাছে থেকে কেবল দেখা নয় বরং তাঁর নিবিড় সাহচর্যে বেড়ে ওঠা ছিল আমার সৌভাগ্যের।

অসীম কুমার দাস আমার সরাসরি শিক্ষক। পরম পুজনীয় তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর সরাসরি পাঠ যেমন নিয়েছি, জীবনের শিক্ষাটাও নিয়েছি তাঁর কাছ থেকে। খুব কাছে থেকে কেবল দেখা নয় বরং তাঁর নিবিড় সাহচর্যে বেড়ে ওঠা ছিল আমার সৌভাগ্যের। একজন শিক্ষকের সীমা ও সীমানা পার হয়ে তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিশতেন। আমি একজন সৌভাগ্যবান হিসেবিই তাঁর সাথে মেশা এবং তাঁর সখ্যতা পেয়েছি। এ নিয়ে কানাঘুঁষাও কম ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তার ছাত্রদের সাথে আড্ডা দেয় রিক্সায় ঘুরে বেড়ায় এটা অনেক ছাত্রশিক্ষকের চক্ষুশূল ছিল। এমনকি আড়েঠারে স্যারকে মনে করিয়েও দিতেন কেউ কেউ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সময়কালটা বেশ দীর্ঘ ছিল সেশন জটের কারণে। এই সুদীর্ঘ ৬/৭ বছর স্যারের সাথে চলা, আড্ডা, কবিতাযাপন, সাহিত্য, দর্শন, সংগীত— এমন শত শত বিষয়ে শত শত দিন বুঁদ হয়ে পার করেছি একসাথে। দিনরাত্রিকে যেন উল্টেপাল্টে দিতে পারতাম আমরা, রাতদিনকে হাওয়া করে দিয়ে নিজেরাও হারিয়ে যেতে পারতাম।

আমি কবির কাব্যকীর্তি নিয়ে লিখব না কিছু, বরং তাঁকে দেখা এবং তাঁর কাছ থেকে শেখার টুকটাক স্মৃতি নিয়ে লিখতে চাই। তবে সমস্যার কথা জানিয়ে রাখি। স্যারের প্রতি আমার পরম শ্রদ্ধা। তাঁর সাথে খুব বেশি মেশার কারণে এবং তাঁকে জানার কারণে আমি লিখতে গিয়ে মুশকিলে পড়ছি। বিস্মৃতিও কম হয়নি! আবার সময়েরও তাড়া আছে। ১৩ নভেম্ভর স্যারের জন্মদিন। এটি স্যারের জন্মদিনে তাঁর প্রতি আমর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কবি অসীম কুমার দাসের কাব্যগ্রন্থ ‘ঝঞ্ঝা ও পুনরুত্থান’ ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বইটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম আগে থেকেই। সম্ভবত ১৯৯১ সাল। খুব টালমাটাল সময়। দিনরাত্রির চোখ তখন কুহেলিকাময়। কী বিভ্রম! ঘোরগ্রস্ত সময় অনেক কিছু ফাঁকি দেয়। বইটির প্রথম সংস্করণে তাই অনেক বানান ভুল ছিল। গ্রন্থণাতেও কিছু সমস্যা রয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাহেব বাজার মোড়ের কাছাকাছি একটা ছোটো কম্পিউটার কম্পোজের দোকানের ছোট্ট রুমে বসে আমি আর স্যার বইয়ের প্রুফ দেখতাম। রাতের চোখ তো ঘোলা! কিন্তু কবিতার প্রতি উদ্দাম ভালোবাসা ছিল খুব স্বচ্ছ। বই প্রকাশের যে উন্মাদনা তা আমরা টের পাচ্ছিলাম খুব। কবিতা প্রিন্ট হচ্ছে আমরা প্রুফ দেখছি, স্যার কখনো-বা সম্পাদনা করছেন এমন হুলস্থ’ল একটা ব্যাপার ছিল। এবং যখন বইটি প্রকাশ পায় সে কী আনন্দ ও উচ্ছ্বাস!

৯৯২ ফেব্রুয়ারির বাংলা একাডেমির বইমেলায় স্যার আসেন। সে আরেক মহাকাণ্ড! কী এক বিপত্তি! ঢাকা তখন নেশার ঘোরে মত্ত থাকে। নানা গ্রুপে ভাগ হয়ে আড্ডা হয়। মৌলী, সিলভিয়া, আজিজ মার্কেট, সোহরাওয়ার্দী এইসব নানা জায়গায় কবি লেখকদের আড্ডা। ইচক দুয়েন্দে বসেন পিজির পেছনে, গোল বেঁধে তাঁর সাথে আরও কতজন! তখন রাত্রি ধোঁয়াময়! তিনি থাকতেন ফকিরাপুলের গ্রিনলিফ হোটেলে। সেখানে যাতায়ত ছিল অনেক কবি-সাহিত্যিকের। সৈয়দ তারিক, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, বিষ্ণু বিশ্বাসসহ আরও কতজনের!

১৯৯২ ফেব্রুয়ারির বাংলা একাডেমির বইমেলায় স্যার আসেন। সে আরেক মহাকাণ্ড! কী এক বিপত্তি! ঢাকা তখন নেশার ঘোরে মত্ত থাকে। নানা গ্রুপে ভাগ হয়ে আড্ডা হয়। মৌলী, সিলভিয়া, আজিজ মার্কেট, সোহরাওয়ার্দী এইসব নানা জায়গায় কবি লেখকদের আড্ডা। ইচক দুয়েন্দে বসেন পিজির পেছনে, গোল বেঁধে তাঁর সাথে আরও কতজন! তখন রাত্রি ধোঁয়াময়! তিনি থাকতেন ফকিরাপুলের গ্রিনলিফ হোটেলে। সেখানে যাতায়ত ছিল অনেক কবি-সাহিত্যিকের। সৈয়দ তারিক, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, বিষ্ণু বিশ্বাসসহ আরও কতজনের! স্যার ঢাকায় আসা মানে তাঁরা সবাই স্যারের সঙ্গী। কচি ভাই স্যারের বন্ধু। তখন তুমুল আড্ডা। আর স্যারের তখন উপচে পড়া জৌলুস! সবাই তাকে সমীহও করে। ভালো কবিতা তো লেখেনই কিন্তু তাঁর সুনাম ছাত্রজীবন থেকেই, খুব মেধাবী হওয়ার কারণে। অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস একজনই, তাও বিশ বছর পরে। পরপরই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান, স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করতে বিদেশ ভ্রমণ এবং তা শেষ না করেই এক বছর পর ফিরে আসা। এসব তখন কেবল রাজশাহী নয় ঢাকাতেও অনেক কবি সাহিত্যিকের মুখে মুখে। তো ঢাকায়ও তিনি খুব কমই আসেন। যখন আসেন তখন তাকে ঘিরেই আড্ডা-আলাপ। তো, বইমেলায় একদিন আমাদের গণ্ডগোল বাঁধে কবি ও বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন আজাদের সাথে। তাঁর প্রবচন গুচ্ছ বেরিয়েছে, নানা উল্টাপাল্টা কথা তো অছেই তাতে! তাঁর উপর লিটলম্যাগ নিয়ে তিনি এক বাজে মন্তব্য করে বসলেন। তখন তো সব জৌলুস লিটল ম্যাগাজিনের। এ নিয়ে আমরা তরুণরা খেপে গেলাম। এছাড়া যদ্দুর মনে পড়ে স্যারের বইটি তাঁকে দিতে গিয়েছিলাম। তিনি এ নিয়ে স্যার সম্পর্কেও অশোভন/কটাক্ষ টাইপের কী যেন মন্তব্য করেন। মেলায় কবিদের মাঝে বিষয়টা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে আমি আর বদরুল মানে কবি বদরুল হায়দার হুমায়ুন আজাদের প্রবচন গুচ্ছে আগুন লাগিয়ে দেই। অন্যান্য অনেকে এসে জড়ো হয়। একটা হৈচৈ পড়ে যায়। কবি লেখকদের একটা গ্রুপ স্যারের পক্ষ নেয়, অন্য আরেক গ্রুপ হুমায়ুন আজাদের পক্ষে। বিষয়টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটে ছাত্রদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। স্যারের ছোটো ভাই বুয়েটে পড়তেন এবং তিনি হলে তাঁর ছোটো ভাইয়ের রুমেই উঠেছিলেন। এ নিয়ে পরদিন পিজিতে সশস্ত্র মহড়াও দেখা যায়। ভোরের কাগজ ঘটনার রিপোর্টও করে। সে বছরে সম্ভবত হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ প্রকাশিত হয়। ভোরের কাগজ রিপোর্ট করে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম কুমার দাসের নেতৃত্বে/ প্ররোচনায় ‘নারী’ গ্রন্থ পোড়ানো হয় বইমেলায়। যাক, সে ঘটনা আর এগোয়নি।


অসীম কুমার দাস

কবি অসীম কুমার দাস-এর কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী আনোয়ার এবং অসীম কুমার দাস। ছবি ও ক্যাপশন ঋণ : নিশাত জাহান রানার ফেসবুক ওয়াল থেকে


প্রতিদিন আড্ডা একটা রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল আমাদের। স্যারকে কোনোদিন ক্লাস মিস করতে দেখিনি। কখনো ক্লাসের আগে পরে মৈত্রীর টেন্টে বা লাইব্রেরির কোণায় গিয়ে চা খাওয়া আড্ডা দেওয়া। মেইন গেইটের বাইরে মাজারে আড্ডা দেওয়া নিত্যদিনের বিষয়। সেখানে জড়ো হতো অনেকেই। আর ক্লাস শেষে রুমে ফিরে বিকাল সন্ধ্যায় আবার স্যারের বাসায় গিয়ে হাজির হওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। স্যার হয়তো ঘুমাচ্ছেন বা ঘুম থেকে উঠছেন। সেসময় মোজার্ট বা বিটোফেন শুনছি, বসে বসে নতুন নতুন বই দেখছি। বিশেষ করে, ইংরেজি সাহিত্য ও দর্শনের বইপুস্তক। কখনো স্যার বিভিন্ন বই নিয়ে কথা বলতেন। কেন ভালো এই লেখক, বইটি কেন গুরুত্বপূর্ণ সেইসব কথা। সন্ধ্যায় হালকা নাস্তা তো রেগুলার। মাসী নাস্তা দিতেন। স্যার মুখে খাবার তুলে দিতেন। তো, আমরা বেরিয়ে পড়তাম। পদ্মার পাড় ধরে হাঁটাহাঁটি,তারপর ঘোরগ্রস্ত রাত্রির নেশায় ডুব দেওয়া। কখনো শহর থেকে ক্যাম্পাসে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের বাসায়ও চলে যেতেন স্যার। একবার কোনো এক রাতে স্যার গেলেন হাসান স্যারের (হাসান আজিজুল হক) বাসায়। সাথে আমি। রাতের মাথা তো খুব ঠিক নাই! তো আমরা সোফায় বসলাম। হাসান স্যার খুব স্বস্তি বোধ করছেন এমন মনে হলো না। হাসান স্যার হয়তো কফির কথা বললেন। আমি কিচেনের দিকে যেতে লাগলাম। হাসান স্যার মনে হয় কিছুটা ভয়ই পেয়ে গেলেন! এসব ঘটনায় এখন লজ্জাই লাগে!

একবার কোনো এক রাতে স্যার গেলেন হাসান স্যারের (হাসান আজিজুল হক) বাসায়। সাথে আমি। রাতের মাথা তো খুব ঠিক নাই! তো আমরা সোফায় বসলাম। হাসান স্যার খুব স্বস্তি বোধ করছেন এমন মনে হলো না। হাসান স্যার হয়তো কফির কথা বললেন। আমি কিচেনের দিকে যেতে লাগলাম। হাসান স্যার মনে হয় কিছুটা ভয়ই পেয়ে গেলেন! এসব ঘটনায় এখন লজ্জাই লাগে!

কখনো পদ্মার পাড়ে হাঁটাহাঁটি করে একটা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসতাম আমরা। স্যার তখন ধ্যান শুরু করতেন। আমাকেও বলতেন তাঁকে ফলো করতে। যেমন একাগ্র মনে কপালের উপর চাঁদের আলো ফিক্সড করা। কখনো কখনো রাতের ঘোরলাগা পদ্মায় সাঁতার না কেটে ভেসে থাকা যায় কিনা তা-ও চেষ্টা করতাম আমরা। স্যারের সাধনাটা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। আজ তাকে কেবল কবি হিসেবে নয়, একজন সাধক হিসেবেও জানেন অনেকে।

তো, একদিন আমি, মানিক মানে হাসান গোর্কি এবং স্যার পদ্মার চরে হাঁটাহাঁটি করে পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছি। স্যার ধ্যানচিত্তে গান ধরলেন ‘চরণ ধরিতে দিও গো আমারে নিও না সরায়ে… ঠিক এমন সময় পুলিশের গাড়ি এসে হাজির। মানিক দৌড়ে পালাল। আর আমাদেরকে পুলিশের গাড়ি সাহেব বাজার মোড়ে নিয়ে ছেড়ে দিল। এই ঘটনাটা ছিল অপ্রত্যাশিত এবং অপমানের। পরে জেনেছিলাম একটা গোষ্ঠী স্যারকে অপমান করার জন্যই নাকি পুলিশ ভাড়া করেছিল!

রাতের নেশার ঘোর কাটে না! প্রায় সবকিছু যখন বন্ধ তখনও আমরা সচল হতে চাই, রাত যেন আরও দীর্ঘতর মত্ততায় মেতে উঠতে চায়। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। কী করা তখন! হঠাৎ স্যার বললেন, চলো। রিক্সায় চড়ে চলে গেলাম তৎকালীন রাজশাহী ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান জেন এন্ডারসনের বাসায়। জেন স্যারের গভীর বন্ধু। আমার প্রথম যাওয়া। মাথায় তখন জলের উত্তাপ। নিজেই ফ্রিজ খুলে বের করে আনলাম ঘোরের কারখানা। এমন ম্যারাথন আড্ডা ঘোরের কাহিনির শেষ নাই।

তো, স্যারের সাহচর্যে বেড়ে ওঠা মানে জীবনের অনেকগুলো দিক সম্পর্কে পরিস্কার হয়ে যাওয়া। আজ মনে পড়ে, আড্ডাগুলো ছিল প্রাণসঞ্জিবনী সুরা। সেইসব আড্ডার ভিতর দিয়ে সাহিত্য, দর্শন, মিথ সম্পর্কে জানতে পারা ছিল বড়ো অর্জন। এভাবেই হয়তো নিজের রুচিও গড়ে উঠেছিল। সততা নিষ্ঠা মানবিকতা স্যারের উত্তম গুণাবলী। তাঁর সংবেদনশীলতা,তাঁর সৎ গুণাবলী নিশ্চয়ই তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মাঝে কমবেশি আলো ছড়িয়েছে। আর আমার যদি কোনো অর্জন থেকে থাকে সেই অবদান আমার শিক্ষক, আমার গুরু কবি অসীম কুমার দাসের।

জন্মদিনে স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। জয়তু কবি অসীম কুমার দাস।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ১৩৭২ বঙ্গাব্দের ২১ মাঘ, তথা ১৯৬৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, নেত্রকোণা জেলায়। পড়াশুনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, (১৯৮৫-৮৯ সেশন )। সাংবাদিকতা ও অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে ভয়েস নামে বেসরকারি একটি গবেষণা সংস্থার প্রধান নির্বাহী। ঢাকায় বসবাস করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ : কবিতা : অতিক্রমণের রেখা, ২০০০; সকল বিকেল আমাদের অধিকারে আছে, ২০০৪; অবিচল ডানার উত্থান, ২০০৬; আদিপৃথিবীর গান, ২০০৭; আগুন ও সমুদ্রের দিকে, ২০০৯; আনন্দবাড়ি অথবা রাতের কঙ্কাল, ২০১০; প্রেম, মৃত্যু ও সর্বনাম, ২০১৪; অতিক্রমণের রেখা : নির্বাচিত কবিতা, ২০১১; ভূখণ্ডে কেঁপে ওঠে মৃত ঘোড়ার কেশর, ২০১৩; রাজার পোশাক, ২০১৪; অনেক উঁচুতে পানশালা, ২০১৪; দাহকাব্য, ২০১৫; শ্রীমতি প্রজাপতি রায়, ২০১৭; এখান থেকে আকাশ দেখা যায়, ২০১৮। গদ্যগ্রন্থ : সমূহ সংকেতের ভাষা, ২০০১; কলমতালাশ : কবিতার ভাব ও বৈভব, ২০১৪; কবিতার নতুন জগৎ, ২০১৭। পুরস্কার : বইপত্র সম্মাননা, কলকাতা, ২০০০; বগুড়া লেখক চক্র, ২০১৫; শব্দগুচ্ছ, ঢাকা-নিউইয়র্ক, ২০১৫; লোক, ২০১৬।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।