রবিবার, নভেম্বর ২৮

আষাঢ়ে গল্প : ঘনঘোর আষাঢ়ে | ধ্রুব এষ

0

আষাঢ়ের মন-অবাধ্য বৃষ্টি।

শরীর মনে শীত ভাব এনে দিয়েছে।

দুপুরে ভাত খেয়ে বহুদিন পর ঘুম ধরে গিয়েছিল খলিলের। কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে সে স্বপ্ন দেখেছে মিস আউল এবং তার জামাইকে। মিস আউলের জামাই মাহিন বলেছে,‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকোতুহু দাদাজী। নয় গাড়ি টাকার দরকার/এক গাড়ি উইডের দরকার।’

মিস আউল বলল, ‘মেয়ে জোনাকি উইড টানে।’

আষাঢ়ে স্বপ্ন।

অ, মিস আউল এখন আর বলা যাবে না, মিসেস আউল খলিলকে এ ডাকে দাদাভাই। বিয়ের আগে দুঃখের ডিপো ছিল, বিয়ে করে আনন্দের ডিপো হয়ে গেছে। জামাই-বউ পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরছে।…না, সে মিস আউলই। ভাল মানুষটা খলিল তাকে সতর্কতামূলক বার্তা জ্ঞাপন করেছে, ‘নিউলি ম্যারিড বিডি কাপল ইন ওয়াইল্ড।’

মিস আউল হাসতে হাসতে বলেছে, ‘তুমি একটা খবিস দাদাভাই।’

খলিল কি খবিস?

খবিস কী? অর্থ?

বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে অন্তর্ভুক্তি আছে। খবিস শব্দের অর্থ নোংরা, অপরিস্কার, কদাচারী, নষ্ট ইত্যাদি। খবিস বানান শ দিয়েও লেখা যায়। খবিশ। আচ্ছা, আত্মপরিচয় অনুসন্ধান থাক। ঘুম থেকে উঠে খলিল দেখল বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি। কণায় কণায় সন্ধ্যায় রং নিয়ে নেমেছে। কখন থেকে? গলি এর মধ্যে নালা হয়ে গেছে। গাড়ি এবং রিকশাকে মনে হচ্ছে জলযান। কুৎসিত দৃশ্য। মুখ খারাপ করে একটা গালি দিল খলিল। মনে মনে। কার উদ্দেশে? গোপনীয়। বলে দিলে মুশকিল। —জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক। কাহারও নিন্দা করিও না।

বিল্ডিং এর পাশে বিল্ডিং। জানালার পাশে জানালা। ভিজে একসা হচ্ছে বৃষ্টিতে। একসা, জললুশ। তাদের অঞ্চলে বলে, ভিজে জললুশ হয়ে গেছি রে ভাই।

বিল্ডিং এর পাশে বিল্ডিং। জানালার পাশে জানালা। ভিজে একসা হচ্ছে বৃষ্টিতে। একসা, জললুশ। তাদের অঞ্চলে বলে, ভিজে জললুশ হয়ে গেছি রে ভাই।

কেউ কি এখন ভিজে জললুশ হয়ে আছে?

ইরাব, মনা, দুই খোকন, মুস্তফা, সহিদুল?

বৃষ্টি হচ্ছে?

তিনশ কিলোমিটার দূরের মফসসল। বাস যায়। সাড়ে ছয়-সাত ঘণ্টা লাগে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একবার ছাব্বিশ ঘণ্টায় টাউনে যেতে পেরেছিল খলিল। স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে। লাগাতার হরতাল না কারফিউ ছিল মনে নাই। সেই এক সময় গেছে উত্তাল। খলিল সবে পড়াশোনা এবং জীবিকার সন্ধানে উপস্থিত ঢাকায়। কত এমন আষাঢ় গেছে এর মধ্যে? কত ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ দিন। যথেষ্ট বয়স হয়ে গেছে নাকি তাদের? খলিলের? ইরাব, মনা, সহিদুল, দুই খোকনের? বৃষ্টিতে ভেজার মতো বয়স আর নাই?

খলিল কল দিল মনাকে।

‘কী রে মনা?’

‘কী রে?’

‘বৃষ্টি হয়?’

‘না রে।’

‘কোথাও হয় না? কুড়িয়ার পাড়, উকিলপাড়া, ষোলঘর, মড়ার টিলা রোড?’

মনা হাসল, ‘এইটা কি তোর ঢাকা? রেল ক্রসিঙের একদিকে রোদ, একদিকে বৃষ্টি?’

বছর কয়েক আগে দরকারে মনা দুই দিন ছিল ঢাকায়। দ্বিতীয় দিন দুপুরের রোদে রিকশায় তারা রামপুরার উলন রোডে কাওসার মামুকে দেখতে যাচ্ছিল। মালিবাগ রেলক্রসিঙে আটকা পড়ে দেখে ক্রসিঙের ওইদিকে ঝুম বৃষ্টি। এইদিকে বৃষ্টির একটা ফোটাও পড়ছে না। ট্রেন চলে গেল, বৃষ্টিও ধরল। মনা খুবই আশ্চর্য হয়েছিল।

বছর কয়েক আগে দরকারে মনা দুই দিন ছিল ঢাকায়। দ্বিতীয় দিন দুপুরের রোদে রিকশায় তারা রামপুরার উলন রোডে কাওসার মামুকে দেখতে যাচ্ছিল। মালিবাগ রেলক্রসিঙে আটকা পড়ে দেখে ক্রসিঙের ওইদিকে ঝুম বৃষ্টি। এইদিকে বৃষ্টির একটা ফোটাও পড়ছে না। ট্রেন চলে গেল, বৃষ্টিও ধরল। মনা খুবই আশ্চর্য হয়েছিল।

খলিল বলল, ‘তোরা কেউ এখন বৃষ্টিতে ভিজিস?’

‘বৃষ্টিতে ভিজব? কেন?’

‘ভিজবি না? বৃষ্টি হয় কীজন্য তাহলে?’

‘তুই ভিজ রে ভাই। আমার সাইনাসের সমস্যা আছে। বৃষ্টিতে ভিজলে আমার তেরটা বেজে যায়।’

‘অ। আচ্ছা রে মনা, মৎস্য অফিসার কী বলল কিছু বুঝলাম না।’

‘কী বলল? কখন ফোন দিছিল?’

‘একটু আগে। বলল তোর শাশুড়ি মরছে—।’

‘এই কথা বলছে? রাখ, হারামজাদারে পাই আমি। আরে সমুদার শাশুড়ি মরছে রে! নমিতা বৌদির মা। নমিতা বৌদি কি আমার বউ নাকি?’

‘কেন? মাস্টার বলল সমুদা আমেরিকা থেকে তোরে তার বউয়ের লোকাল গার্ডিয়ান নিযুক্ত করছে।’

‘দেখো অবস্থা। এই দুইটাই বিকৃত বুঝছিস? বিকৃত রুচির কীচক। ছিঃ! আমাদের কি বয়স হয় নাই?’

‘বৃষ্টিতে ভিজার মতো বয়স আর নাই—।’

‘নমিতা বৌদি! আরে, এত যে নমিতা বৌদি নমিতা বৌদি করে দুইটা, ফোন দিতে বলি। নমিতা ফোন দিলে তারা ধরবে? সেই সাহস আছে কোনটার? দুইটা আছে দুইটার বউরে নিয়া।’

‘বাদ দে তো। এই দুইটা হইল আঙুল ফল টক। ছলে পায় না বলে সুখ পায়। তুই কি নমিতা বৌদিরে নমিতা ডাকিস নাকি?’

বলে ফোনের লাইন কেটে দিল খলিল। সঙ্গে সঙ্গে মনা কল ব্যাক করল। খলিল ধরে বলল, ‘লাইন কেটে গেছে, ব্যালেন্স নাই।’

মনা বলল, ‘অ। আচ্ছা—।’

ব্লক দিল খলিল। লোকাল রাজনীতির কথা তুলল। পারিবারিকভাবেই মনা রাজনীতি-সচেতন ব্যক্তি। ছাত্রনেতা ছিল। সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে নব্বইয়ের এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে। সে আর নমিতা অবলিগ নমিতা বৌদির কথায় ফিরল না। লোকাল রাজনীতির ব্যাপার আলাদা।

সরল সিধা মনা। ভালোমানুষ অধ্যাপক। তার বউ শুভ্রা। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে তাদের। বহু বছর ধরে মনা একা। তার একটা ফ্যান্টাসির জগৎ কি নাই? নমিতা বৌদি বা যে কেউ, কী সমস্যা?

কলবেল বাজল।

মানে কী?

এই বৃষ্টির মধ্যে কোন নরাধম, অপদেবতা উপস্থিত হলো? খবিস বা খবিশের একটা অর্থ অপদেবতাও।

আবার কলবেল।

আশ্চর্য তো! দাঁড়া রে ভাই!

সংক্ষুব্ধ খলিল দরজা খুলল। উচ্ছ্বসিত হলো।

‘আরে মামুন তুই!’

‘তোমারে দেখতি আলাম।’

‘আয় ঘরে আয় কতদিন পর! ভিজে তো দাঁড়কাক হয়ে গেছিস। ধোয়া টি-শার্ট, ট্রাউজারস, টাওয়েল দিতেছি। শুকনা হ আগে।’

জুনিয়র অল্প ছেলেপিলেকে তুই করে বলে খলিল। মামুন একজন। আর্টিস্ট ম্যান, বয়স এই জুনে সাইত্রিশ হয়েছে। তার বউ পুনমও আর্টিস্ট। তাদের দুই কন্যা, রূপকথা, রঙিন। তারাও আর্টিস্ট। ছোটো পরিবার আর্টিস্ট পরিবার।

খলিলের একটা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য কিছু ড্রয়িং করে দিয়েছিল মামুন। সেই থেকে পরিচয়। তখন তারা ধানমন্ডি উনিশ নম্বরে চেয়ারম্যান বাড়ির গলিতে থাকত। বিশ-বাইশ বছর আগে খলিলও কিছুদিন চেয়ারম্যান বাড়ির গলিতে ছিল।

মামুনরা এখন থাকে বামনসুর।

বামনসুর

কত দূর?

ঢাকার অদূরে। হরিৎ এক গ্রাম। পাখির ডাকে মুখর থাকে দিনমান। বৃষ্টির দিনে বৃষ্টিতে মুখর। মামুন বলেছে, ছবি দেখিয়েছে, যাব যাব করে খলিল এখনও যায়নি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটা ছবির স্ক্রিপ্ট করছে কিছুদিন ধরে।

ঢাকার অদূরে। হরিৎ এক গ্রাম। পাখির ডাকে মুখর থাকে দিনমান। বৃষ্টির দিনে বৃষ্টিতে মুখর। মামুন বলেছে, ছবি দেখিয়েছে, যাব যাব করে খলিল এখনও যায়নি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটা ছবির স্ক্রিপ্ট করছে কিছুদিন ধরে। বিগত আঠার দিনে সে ফ্ল্যাট থেকে নিচে নেমেছে মাত্র দুই বার। তার প্রাক্তন বাড়িঅলার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে একবার, বিশেষ একটা ওষুধ কিনতে একবার। ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিল।

মামুন শুকনা হলো।

‘এই বৃষ্টির মধ্যে কোত্থেকে তুই?’

‘আর বলো না! অফিসে এসে আটকা পড়ে গেছি। ভাবলাম তোমারে দেখে যাই একবার।’

‘ভালো করছিস। অফিসে কী?’

‘বস ডেকেছিল। জরুরি মিটিং।’

‘অ। পুনম কেমন আছে? রূপকথা রঙিন?’

‘তুমি একবার আসো বামনসুর। মনে করলে তোমার ইউনিট নিয়া আসো। শুটিং করার মতো লোকেশন।’

‘যাব, দাঁড়া। পুনমরা কেমন আছে বললি না?’

‘তারা ভালো আছে। রঙিনের দাঁত পড়েছে দুইটা। রূপকথা সেই দাঁত ইঁদুরের গর্তে ফেলেছে।’

‘বাহ। অফিসের কাজ ছাড়া আর কিছু করতেছিস?’

‘দোতরা শিখছি। ওস্তাদ ধরেছি। অফিসের কাজ শ্যাষ করে দোতরা নিয়ে থাকি দিনরাত। ঘুমের মধ্যেও দোতারা বাজাই। ওস্তাদ আশির্বাদ করেছেন, বলেছেন হবে। সে কিডা জানে কবে হবিনে? মনাদা ইরাব ভাইদের সাথে কথা হয় তোমার? তারা কেমন আছে?’

‘মনার শাশুড়ি মারা গেছে।’

‘কী বলো? কবে?’

‘গতকাল। মাত্র মনার সাথে কথা বললাম। তাদের কী নিয়ম-সিয়ম আছে, শাশুড়িরে এখনও দাহ করতে পারে নাই। টাউনের হিন্দুসমাজ আজ একটা সিদ্ধান্ত দিতে পারে।’

‘জটিল ব্যাপার! মনাদা তো তবে আছে ঝামেলায়। মৎস্য অফিসার খোকনদা অবশ্য আমার সাথে ফেসবুকে আছে। ইরাব ভাই, দুই খোকনদা আর কাগজী ভাই বলে একজনের ছবি সে পোস্ট দিছে সকালে। কাগজী ভাইয়ের জন্মদিন আজ।’

‘কাগজী ভাই কবি। তার একটা শোনাই তোরে।

কোন শালাকে পরোয়া কাগজী
কে পারে তোমার মৃত্যু ঠেকাতে
যে তোমার দাস না হলেই নয়।’

‘বাহ! আবার শোনাও তো।’

‘কোন শালাকে পরোয়া কাগজী
কে পারে তোমার মৃত্যু ঠেকাতে
যে তোমার দাস না হলেই নয়।’

‘শুকনা ফুল খাবি?’

‘ধরাও থাকলে। তোমার কাছে যখন আসছি, মনে এই আশা কি নিয়ে আসি নাই? কোন শালাকে পরোয়া মামুন, যে তোমার ঘাস না হলেই নয়।’

‘হা-হা-হা।’

‘হা-হা-হা!’

তারা শুকনা ফুল পুড়িয়ে টানল।

মামুন কল দিল মনাকে। ভিডিও কল।

মনা ধরল, ‘এ মামুন! কেমন আছো?’

‘ভাল মনাদা। ম্যালাদিন আপনার সাথে কথা হয় না। খলিল ভাইয়ের সাথেও ধরেন পাক্কা চার মাস পরে দেখা হলো এই। খলিল ভাই আপনার কথা বলল—।’

‘অ।’

‘দুঃখের ব্যাপার। সমাজ কি কিছু সমাধান দিল মনাদা?’

‘সমাজ! কিসের?’

মামুন এই সর্বনাশ করবে খলিল ভাবেনি। শুকনা ফুলের পোড়া ঘ্রাণ কিছু কমে গেল, এরকম মনে হলো তার। তবে মামুন কী করে বুঝবে? দুঃখিত গলায় সে তার মনাদাকে বলল, ‘বলছিলাম দাহ করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হলো? আপনার শাশুড়ি—।’

মামুন এই সর্বনাশ করবে খলিল ভাবেনি। শুকনা ফুলের পোড়া ঘ্রাণ কিছু কমে গেল, এরকম মনে হলো তার। তবে মামুন কী করে বুঝবে? দুঃখিত গলায় সে তার মনাদাকে বলল, ‘বলছিলাম দাহ করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হলো? আপনার শাশুড়ি—।’

‘আমার শাশুড়ি। আমার শাশুড়ি মরছে তোমারে কে বলল, মামুন? কে? মাস্টার না মৎস্য অফিসার? এরা দুইটা, বিশ্বাস করো আমি—।’

‘মামুন বস, চা বানাই।’

বলে খলিল উঠল বা কাটল।

গ্যাস বার্নার। পানি চাপিয়ে দুটো মাগ নিল খলিল। চা না কফি বানাবে। ব্রাজিলের কফি আছে।

বৃষ্টি হঠাৎ করে ধরল। তাতে কী? অন্ধকার আকাশে মজুদ মেঘদল। মন-অবাধ্য বৃষ্টি আবার যখন তখন নামবে। মন-অবাধ্য বৃষ্টি। মানে কি কথাটার? ঘুম থেকে উঠে মাথায় ঢুকেছে। ঘোর বৃষ্টিতে এবং ঘোর সন্ধ্যায়। আর মাথা থেকে যাচ্ছে না। কেন? মন আছে বৃষ্টিকণাদের?

বৃষ্টিকণা ইসলামের আছে। উঠতি মডেল। পাঁচ ফুট আট।

পানি গরম হয়ে ফুটছে।

খলিল কফির সঙ্গে প্রচুর চিনি খায়। তিন চামচ। তিন চামচ দিল রজতের মগেও।

ভিজে জললুশ হয়ে এসে উঠেছে, শুকনা ফুল পুড়িয়ে টেনেছে, ব্রাজিলের কফি এখন কারণসুধা মনে হবে ছেলের। না! রজত তো শুকনা ফুল খায় না। এছাড়া রজত ভাবছে কেন খলিল? রজত তো না, মামুন এসেছে।

না, রজত। বইয়ের ছবি আঁকে—রজত আর্টিস্ট। খলিলের ভিডিও ফিকশন ‘উইনোনা’-র টাইটেল করেছে। আরেকটা ছোটো সিজির কাজ দেবে, খলিল গতকাল তাকে আসতে বলেছিল আজ। এমন বৃষ্টির দিন হবে ভাবেনি। রজত আসবে তাই মনে ছিল না। সিনসিয়ার ছেলে। সংখ্যা খুব কম এদের।

কফি নিয়ে ফিরে খলিল দেখল রজত মোবাইল ফোনে কথা বলছে। ভিডিও কল। খলিল কফির মগ টেবিলে রাখল।

‘জি রাখি’ বলে রজত ফোন রাখল। বলল, ‘ঘ্রাণটা দারুণ!’

কফির ঘ্রাণ।

খলিল বলল, ‘ব্রাজিলিয়ান।’

কুষ্টিয়ার ছেলে রজত। কফির মগে চুমুক দিয়ে বলল, ‘এলাকার এক বড়ো ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। মনা ভাই। এই বৃষ্টি বাদলের দিনে শাশুড়ি মারা গেছে বেচারার।’
কী?

আষাঢ়ের মন-অবাধ্য বৃষ্টি আবার নামল।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

চিত্রশিল্পী, কথাসাহিত্যিক।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।