রবিবার, জুন ২৩

ঘোড়া ও অন্যান্য কবিতা : জুবায়ের দুখু

0

মাঝ দুপুরে শামুকের বিয়ে


মাঝ দুপুরে তেপান্তে শামুকের বিয়ে—
নবীন ধানগাছ নাচে হাওয়ায়,
সোনালি ডানার চিল
সমস্ত মাঠ। আইল। গাঙভাঙা বিল।
পরিচিত অতিথির মতন—
সানাই বাজায়, ফিঙে পাখির আসর।
হারানো পথ, মনে পড়ে যাওয়া মানে,
মায়ের আঁচলে আমাদের দুই টাকার দিন।
ধূলিমাখা পথ, বেয়ারিং চালানো গাড়ি
ধীরে ধীরে হয়ে যায়, মস্ত বড়ো অজগর।


পিরিয়ড


শীত মানে শুধু হিম নয়—
আমাদের শরীরের কুয়াশার চাঁদর,
পূর্ণিমা রাতে কাউয়াঠুঁটি গাছের মতো আস্ত সর্প!
যখন একদলা রোদ
উঠোনে উঠোনে খায় ঘুরপাক—
মা আমার অংশভাগে শুকাতে দেয়
বাঁশপাতা, সিদ্ধধান, শাড়ি ব্লাউজ আর তার চুল।
সেই কোন কালে আমবনে
শীতের শেষ পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজিয়ে
আম্রমুকুল ছোটো মাছের মতো লকলক করছিল,
তা দেখে ভাবতাম—
আব্বার কবর শিমুল ফুলের ভরে গ্যাছে এত দিন।


ঘোড়া


একদল মহিষ!
হা করা নদীর মতো খায় তেপান্তের ঘাস,
আমাদের কোনো দিন ছিল না চিলেকোঠা ঘর—
ভাঙা চৌকাঠ,
সোনালি মাছরাঙা রঙের মায়ের চুড়ি
খোয়াতে খোয়াতে একদিন,
কামরাঙা বন জুড়ে নেমে এলো শোকের বসন!
মানুষ যতবার মানুষ হতে চেয়েছে
হয়েছে দুঃখী—
পৃথিবীর ময়দানে মানুষ লাগামহীন রেষের ঘোড়া।


বনে যাবো বলে


বনে যাবো বলে,
একটা বন কিনে আঁকি মনের ভেতরে,
পথ আঁকি
পাতা আঁকি
আঁকি পাখির ঘর ও কলরব।
ভ্রমণ খরচ বেশি হওয়ায়
আমার যাওয়া হয় না বনে—
ফলত ভেতরে আঁকা
পাতারা ঝরে ঝরে পঁচে যায়,
পথ হয়ে যায় পাতাল
পাখিরা অভিমানে উড়ে যায় ফাঁকা রেখে পিঞ্জর!
আমার ভেতর পাতা ও পাখির অভিশাপে
গড়ে ওঠে আইয়ুব নবীর কুষ্ঠ রোগ—


তোমার আরশ


তোমার আরশ— আমারে কও বেঈমান! কতকাল আগে খেয়েছি যেন গন্ধমফল! আমাদের পথ আলাদা হয়ে গ্যাছে। নিরিহ ফুলের দেশে সরল পাখিরা আমার গোস্ত খুবলে খায়। গাছরা কয় তুই এমন হইলি ক্যামনে? আমার জবান নাই। জলহীন নদীর মতো আমার হাড় হাড্ডি বাহির হয়ে ওঠে। আর হৃৎপিণ্ড স্রোতের বিপরীতে বাবলা কাঁটায় বিঁধে থাকে। চামড়া খেয়ে নেয় মাছ ও কাকপক্ষী।

তোমার আরশ, আমারে একটু বসতেও দিলা না!

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

কবিতা চর্চা করেন। জন্ম পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায়। সাঁথিয়া সরকারি কলেজ দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছেন।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।