বৃহস্পতিবার, মে ৩০

জখম ও অন্যান্য কবিতা : নাদিয়া জান্নাত

0

Eid Motif

পরাগায়ণে ফস্কে যাচ্ছে ‘পা’


তেপান্তরের লাল জবাকে সিনেমায় দেখলাম। কালো পাড়ের ওড়না দিয়ে সে তার মুখ ঢেকে রেখেছে। নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, ট্রেন কাটা জীবনে যারা নকশা চেনাতে এসেছে তারা গন্দমকে ফুটতে দেখেনি।

ঝিনুকের শরীরের বিষ যখন গলার মালা হয়ে চমকায় তখন পৃথিবীর ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। পেঁয়াজফুলের মাঠের ভেতর দেউলিয়া হয় তার পানপাতা মুখ। এইবার নানার কবরে বকুল ঝরে পড়বে নিশ্চিন্তে। চালের বাটি থেকে ফুটে বের হবে আগরবাতির ঘ্রাণ। সুরমার ধূসরতা ঘাসের রঙে ধুয়ে যাবে ভাবলেই আমার দোতারা বাজানো শিখতে ইচ্ছে করে। মাছের আড়তের ভেতর ঘুরে ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে অন্ধকার।

নজরানা হিসেবে চিরকাল নদীর মৌসুমকে ফেরত চাইবো। কীর্তন শুরু হলে সবুজ পাতারা ঝিম ধরে থাকবে; আমাদের বিষণ্ন লাগবে অথবা কিছুই ভালো লাগবে না।


জখম


কোমল চুমুর ধাঁধা আর
নখের আঁচড় দিয়ে নারী শুধু
শল্যবিশারদ হয়ে আসে।
এ কথা আমাকে তুমি বলেছিলে, বলেছিলে সোনাঝুরি গাছে
আচমকা, যে পাখি ডাকতে থাকে
তার পাশে নিয়তি হয়েছে ডুবু ডুবু

নারীরা টোটকা ভালো জানে।
ভরা বুক, তিলের ভেতরে পোষে
ছোট বড় শিশু।
আয়নার বিপরীতে
হাওয়ার ফাল্গুন তার, বেহিসাবি খুব

আদমের নিঃসঙ্গতা নিয়ে
তোমার জখম পিঠে ধীর হয়ে
………………………….আছে বাঁকা চাঁদ।
রুপার চুড়ির মতো
সে যে শুধু কালো হয়ে আছে

একটু হ্যাঁচকা টানে মেলে দিতে
পারো তুমি চাহনি ছোবল।
যে নদী পূর্ব দিকে বেঁকে গেছে, তার
শিল্পকলা পূর্ণ করে দিতে পারো
………………………….কানায় কানায়

নারীর বিকল্প রুপে
ঝাপসা হয়ে রয়েছে আপেল,
আলোচনাহীন এই চলে যাচ্ছে
………………………….বসন্ত চৌচির।

মফস্বলের মতো আধো অন্ধকার তবে
মানুষের মন


পিপাসা


তুমি আজ শাদা জামা পরেছ কি এই বুধবারে…

হেমন্তের শুদ্ধতায় বেদনারা যেন ভরে আছে

এতো কামিনীর গন্ধ! এতো প্রেম!
প্রাণপণ অন্ধকারে ডুবে আছে মায়া!

চতুর্দিকে ধাঁধা। পথ ভুল করে
অন্য পথে যাই।
ভ্রমণে সামলে নেই জামা।
চারদিকে খুব তাড়াহুড়ো

তেষ্টা পেলে মনে হয়
তুমি রংপুরে আছো যেন


ইম্যাজিন, ঝুমকো জবা ছাড়া দুনিয়াতে আর কোন ফুল নাই


কবরের মাটিতে নয়নতারা ভালো ফোটে।
আমি পরাধীন বক। তোমার প্রেমিকা ছিলো জবা ফুল, তার নীল রঙের স্তন দুহাতে নিয়ে তুমি এসরাজ বাজাও, ভোর রাতে।
তোমাদের কানাকানি লাল মোরগের সাথে।

নয়নতারা হয়ে আমি তোমার বুকে ফুটতে চেয়েছিলাম।

পারলাম কই?


ঘোর


কবিতা পড়লে জ্বর সারে।
জ্বরের তীব্রতা নিয়ে
প্রেমের কবিতা পড়ি আজ

আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন কবি !

লাইট ! ক্যামেরা ! এতো এতো নীল মুখ !
পিপাসা পেলেও কোনো আলো জ্বালছি না

বৃত্ত। ঘুরপাক। অন্ধকার লোকেশন।
মাথার ভেতর ঢুলে ঢুলে মন্দিরা
বাজাচ্ছে অচিন এক পেঁচা।

সোঁদা ঘ্রাণে ঘর ভরে গেলে,
আপনি কি কপালের পাশে হাত
রাখবেন প্লিজ!

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।