শনিবার, মার্চ ২১

দীর্ঘ কবিতা : না-লাগার লাগা

0

Motif

এই বাঁচা, বাঁচা বলে না
এই থাকা, থাকা বলে না
ভর-সন্ধ্যায় নিজের কলিজা হাতে
লোহিত পিছল পথে
যেতে আর ভালো লাগে না

করোটিতে ঢুকে পড়ে শ্মশানের ছাই
জলের ছুরিতে কাটে চাঁদের হাসি
আগুনে পুড়ে যায় পা
পোড়া পা বয়ে যায় হিমের পরান

কসাইয়ের দোকান বন্ধ
ছুরি-চাকু ক্ষুধার্ত খুব

বন্য হাতি এসে লাথি মেরে যায়
তছনছ করে যায় ডুমুরের বন
এইসব পুঁ পুঁ, এইসব পি পি
ভালো লাগে না
শরীরে বিঁধে যায় ডাকিনীর করুণ হুইসেল
রক্তস্বাদ ঠোঁটে ঘষে কেঁপে ওঠে কাঁকড়ার পা
এইসব ছায়াদৃশ্য, এইসব মতিগতি
ভালো লাগে না

মনের ক্ষুধার্ত বাঘ বনে চলে যায়
ও রক্ত রক্ত গাছ, ও রক্ত রক্ত ঘাস
তোমাদের সবুজ আর চোখে ধরে না
এইসব পুঁজের নহর, বমির পাহাড়
এইসব কাটাকাটি
একচোখা দর্জির কথা, ভালো লাগে না

ফাটা পা হেঁটে যায়, ফাটা পা হেঁটে যায়
পথে পথে রেখে যায় রক্তবিন্দু ছাপ
কেবল ছাপোষা সব মাটিঘরে কেঁচোজীবন
দরজা বন্ধ করে দেখিয়ে যায়
উত্থিত শিশ্নের মহড়া

ও মায়া, ও মায়া
আমাদের ঘর নেই কোনো
রঙিন গাছ নেই কোনো
দমের জ্যামিতি নেই কোনো
কেবল রক্তজুতো পরে হেঁটে চলে পা
এই বাঁচা, বাঁচা বলে না
এই থাকা, থাকা বলে না

একটা চুলের নদী বয়ে যায়
একটা অন্ধপাখি ডেকে যায় খুব
এই রক্তসন্ধ্যা, রক্তরাত
রক্তভোরের জানালা
লালে ভেসে যায়

মনে বাঘের ভয়, বনে সিংহের ভয়
শরীরে গিরগিটি রঙ
এইসব রক্তকুসুম, এইসব অগ্নিড্রাগন
হা করা ফেনার গর্জন
কথার বুদবুদে কী আসে যায়

ও কসাইখানা, ও চিকন ছুরিকা
ও ফাগুনের রোদ, ও রক্তমাখা মুখ
ওই দেখো শেয়াল ডেকে যায়
খবিশের ঠোঁট লাল হয়ে ওঠে খুব
ও নরেশ ডোমের সুই
এবার খাইয়ে দাও আয়ুর প্রসাদ

এইসব ফেটে যাওয়া সূর্য-লালিম
এইসব চূর্ণরেখা কাচের সড়ক
এইসব রক্তচাঁদ দুধের ওলান
ভালো লাগে না
স্মরণের ওঠানামা, বাঁশিভাবে
গাছেদের হেঁটে যাওয়া
ক্ষয়ে যাওয়া পারদ-জড়ুল
কেবল ভাসিয়ে রাখে
কেবল জাগিয়ে রাখে
রক্ত-শিমুল নৌকার ভার

ও জল্লাদের অশ্রুর নুন
ও সান্ধ্য মাংসের দোকান
এই বাঁচা, বাঁচা বলে না
এই থাকা, থাকা বলে না
জীবাশ্ম রেখে যাওয়া ঘাসের জাহাজ
ঘোড়ার ছুটন্ত সময়, ভালো লাগে না

শুধু নিজের কলিজা খেতে
ভালো লাগে খুব।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

কবিতা ও গল্প লেখেন। লেখালেখির ঝাউবাংলোয় মগ্ন থাকাই তার আরাধ্য। জন্ম ও বেড়েওঠা পদ্মাপারের রাজশাহীতে। জীবন-নির্বাহের জন্য কাজ করেন গণমাধ্যমে। ‘ধানের ধাত্রী’ কবিতাগ্রন্থের জন্য ২০১৫ সালে কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার এবং ২০১৭ সালে ‘ডুমুরের আয়ু’ গ্রন্থের জন্য বিশাল বাংলা সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। তার প্রকাশিত গল্পের বই ‘সান্ধ্য মাংসের দোকান’।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।