রবিবার, মে ২৬

নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস : এক দিন এক রাত করেছি প্রেমের সাথে খেলা : নিয়াজ মাহমুদ

0

১.

I join these words for four people
Some others may overhear them
O world, I am sorry for you,
You do not know these four people
[Causa: Ezra Pound]

 

কবি পিয়াস মজিদের একটি দীর্ঘ কবিতা নিয়ে লেখা কবিতার বই ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ বেরিয়েছিল জার্নিম্যান বুকস থেকে ২০১৯ সালের আগস্টে। বইয়ের শুরুতে কবিতামুখে কবির কৈফিয়তের দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়, ‘বলতে দ্বিধা নেই, এক সর্বাত্মক অকল্পপূর্ব প্রেমের ভাষ্য ধরা রইল এই বইয়ের পৃষ্ঠা পরিসরে। … আমার পূর্ববর্তী কোন কবিতার সঙ্গে এর মিলখুঁজে পাওয়া যাবে না। মিল পাওয়া যাবে না পরবর্তী কবিতাপ্রয়াসের সঙ্গেও’। কবির এমন সচেতন স্বীকারোক্তিই মনে করিয়ে দিলো ওপরে এজরা পাউন্ডের লেখা ছোটো কবিতাটিকে। প্রেমাশ্রয়ী যেকোনো শিল্পের সবচেয়ে মধুর দিক হলো, প্রেম হয় কবির, শিল্পীর, কিন্তু প্রেমের বোধটি হয়ে যায় সকলের। কে না স্বীকার করবে—প্রেমই পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে সংক্রামক ব্যধি, এবং অক্ষর (হোক সে চিঠির, কবিতার, কিংবা গল্প-কাহিনির) এ ব্যধির সবচেয়ে প্রচলিত বাহক। এক ঘাতক-মধুর বসন্তের কয়েকটি সপ্তাহের প্রয়াসে কবি অক্ষরের বাহনে ছড়িয়ে দিলেন, সুখের অসুখে সংক্রমিত করলেন পাঠককে। অবশ্য প্রেমকে অসুখ কিভাবে বলি যখন জীবনানন্দ লেখেন,

‘পাখির মায়ের মত প্রেম এসে আমাদের বুকে/ সুস্থ করে দিয়ে গেছে আমাদের রক্তের অসুখ’ [কবিতা : প্রেম]

কিংবা বিনয় মজুমদার ভালবাসার অর্থোদ্ধারে তার স্বাস্থ্যকর দিকটাই তুলে ধরেন,

 

‘শাশ্বত সহজতম এই দান, শুধু অঙ্কুরের
উদ্গমে বাধা না দেয়া, নিষ্পেষিত অনালোকে রেখে
ফ্যাকাশে হলুদবর্ণ না করে শ্যামল হতে দেয়া’

 

প্রেমের নানামাত্রিক গল্প-কাহিনিও আচ্ছন্ন করে রেখেছে পঠন-মনস্ক মানুষকে। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের কলেরার দিনগুলিতে এক প্রেমিককে যখন আমরা দেখি তার প্রেমিকার মিলনের আকাঙ্ক্ষায় একান্ন বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করে কাটাতে তখন তা আমাদের অস্বাভাবিক ঠেকে না, কারণ প্রেমের টানে বিয়ে করতে বাংলাদেশের পাড়াগাঁয়ের তরুণের কাছে ছুটে আসা ফিলিপিনা কিংবা ব্রাজিলিয়ান যুবতির সংবাদ আমরা প্রায়শই পড়ে থাকি। ‘প্রেম ও অন্যান্য দানব’দের দৌরাত্ম্য আমরা খুশি মনে মেনে নিই কারণ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞানের সামনে সে আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে দেয়। প্রেমিক আবিষ্কার করে— ‘নিখিল বিষ কীরকম মধুর হতে পারে’। [তোমাকে/জীবনানন্দ দাশ]


নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস

নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস | পিয়াস মজিদ | প্রকরণ : কবিতা | প্রচ্ছদ : হাশেম খান | প্রকাশক : জার্নিম্যান | মুদ্রিত মূল্য: ২২৫ টাকা | বইটি সংগ্রহ করতে এখানে ক্লিক করুন


‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ প্রেমে পড়া কবির প্রেমিকার উপহার দেওয়া নোটবুকের নির্জন আশ্রয়ে ঢুকে লেখা একটি কবিতা, সমাজের মানুষের কোলাহল যে নির্জনতায় পৌঁছে না—তাকে বিঘ্নিত করে না। কবির ভাষায়— ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাসে/ জাগরিত তমস আমি’। এই প্রেম একজন বালক এবং একজন জ্যোৎস্নার প্রেম—যে বালক ‘স্পর্শের দূরত্বে দাঁড়িয়ে তার বুককে ঝর্নার বদলে পাথর হতে দেখে’। সুস্থ মানুষ ব্যধিতে পড়লে হয় রোগি, আর সুস্থ যুবক (অথবা বৃদ্ধও কেন নয়) প্রেমে পড়লে হয়ে ওঠে ‘বালক’। এই প্রেমে-উত্তীর্ণ (কিংবা পতিত) বালক ‘ভুল করে পড়েছে ভুল বই, পড়ে না ব্যাকরণ, পড়ে না মূল বই’। [রফিক আজাদ] ক্রমান্বয়ে নির্ঘুম নক্ষত্রের বিনিদ্রা বালককে আচ্ছন্ন করে, জাগিয়ে রাখে।

 

২.
‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ বইয়ে পাঠকের ভ্রমণ তাই বালকের হাত ধরে। চন্দ্র-গ্রস্ত বালক তার প্রেমাস্পদ জ্যোৎস্নার ‘রক্তের ভেতর থেকে বের করে আনে সুর-তাল-লয়’। বইয়ের কবিতাটি কবির অস্তিত্বের এমন এক উৎস থেকে উৎসারিত যে সমালোচকের ছুরি-কাঁচির নিচে এনে সেটিকে ব্যবচ্ছেদ করতে প্রত্যয় হয় না। পিয়াস মজিদ যেমন একজন নীরব উপলব্ধির কবি, তার প্রেমে-পড়া বালক সত্ত্বাটির আত্ম-উপলব্ধির বয়ান এই কবিতাটি। তার সেই প্রেমাস্পদটি কে, প্রেমটি সমলিঙ্গিক কিংবা পরকীয়া কি না—সেসব উহ্যই থেকে যায় পাঠকের কাছে। কারণ পুরো বইটিতে একটি শব্দও কবি তার প্রেমাস্পদের রূপ-সুষমা বর্ণনায় ব্যয় করেননি, অবশ্যই তা করেছেন সচেতনভাবে। বাংলা প্রেমের কবিতায় আচরিত ‘আমি-তুমি’র বাইনারি এখানে এসেছে। প্রেম এমন এক সর্বাঙ্গ-সুন্দর অনুভূতি যা প্রকাশের জন্য কোনো ভাষার শব্দভাণ্ডারে নেই একটিও যথাযথ শব্দ। সৈয়দ শামসুল হকের ‘গাধা জ্যোৎস্নার পূর্বাপর’ গল্পের জ্যোৎস্নাকে আমরা আত্মঘাতী হতে দেখি ভাষার এই সীমাবদ্ধতার কারণে।

ইতোমধ্যে কবি পিয়াস মজিদ তাঁর গত এক যুগের কাব্যচর্চায় বাংলা কবিতার ফসলি মাঠে নিজস্ব আলপথ তৈরি করে নিয়েছেন। তা এতটাই নিজস্ব যে আমার বিশ্বাস তাঁর কবিতা তিনি বেনামে ছাপালেও নিয়মিত পাঠক সেটিকে তাঁর লেখা বলে শনাক্ত করতে পারবেন। একজন শিল্পীর জন্য তাঁর শিল্পকর্ম নিখুঁত হবার চেয়ে স্বতন্ত্র হওয়া জরুরি। এ কবিতাতেও কবির স্বতন্ত্র স্বর অনুরণিত, তবে সে স্বর তাঁর এযাবৎ লেখা প্রেমের কবিতাগুলি থেকে আলাদা বটে। এরপর আসি কবিতার ভেতরের কিছু পংক্তির হাইলাইট নিয়ে—

 

বালকের তাবৎ গতি এসে মিশে গেছে
জ্যোৎস্নার স্থবিরতায়।
যদিও বালকের পাওয়া কম কিসে?
তার ভেতরের শুকনো মরুর খাঁ খাঁ
ভিজিয়ে দিয়ে গেছে রোদনরাঙা জ্যোৎস্না
… তবু বালকেরই পাপী-প্রেমী পথরেখা ধায়
অনিচ্ছুক জ্যোৎস্নার পিছু পিছু প্রায়

 

একসময় জ্যোৎস্না বালককে বলে, ‘দূরে যাও, ঘুমোব আমি। আর এমন নৈকট্যের ভাবনাই তোমার প্রধান অসুখ’। তা শুনেও বালক নির্ভয়— ‘দূরত্বের সুন্দর এবং নৈঃশব্দের নিঝুম কল্লোল’ সে তার প্রেমাস্পদের জন্য করবে আবিষ্কার। কারণ সে এই খরার মৌসুমে জ্যোৎস্নার প্লাবনে ভেসে গিয়ে পেয়েছে ‘অশ্রুগান্ধারের ঘ্রাণ’। কুঁড়েঘরে থেকেও সে পেয়েছে ‘ব্যথার বহুবর্ণ মিনার’। প্রেমের আগুনে প্রেমীকে পুড়তে দেখে বালক নিজেও হয়ে ওঠে আত্মঘাতী আগুন। একটা ভয় বালকের—পাছে প্রেম ফুরোবার পরেও কখনো জ্যোৎস্নার স্মৃতির অভিজ্ঞানে তার কোনো চিহ্ন রয়ে যায়। তার চেয়ে বালক পথ ভুলে পৃথিবীর মাঠে মাঠে ঘুরতে থাকুক। জ্যোৎস্না তাকে দিক ভালোবাসার ভয়ংকর সুন্দর। জ্যোৎস্না-বিস্মৃত হওয়ার চেয়ে মৃত্যুদণ্ড বালকের নিকট অধিক আরাধ্য। মৃত্যু তাকে যে উপত্যকায় পৌঁছে দেবে বালক সেখানেও উড়িয়ে দেবে জ্যোৎস্নার জরি-পাড়জয়পতাকা। জ্যোৎস্না ফের বালককে বলে, ‘ক্রমশ সহ্যাতীত সত্ত্বা তোমার,হও দূর।তার চেয়ে অসহ্য কথার কাকলি, হও শব্দশূন্য’। অভিমানী প্রেমিকের জবাব, ‘আমি মূক হলে পর/মুখর পৃথিবী থেকে খুঁজে নিও তোমার একান্ত আমাকে’।

 

৩.
কবি পিয়াস মজিদ তার এতদিনকার লেখা প্রেমের কবিতাগুলোকে যে স্বরে বেঁধেছেন, ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ কবিতায় তার স্বর ভিন্ন। প্রথম দিকের কবিতার বইগুলোতে প্রেমের অভিব্যক্তিতে তিনি ধ্রুপদী পারস্যের আতরের খুশবু ধরে রেখেছিলেন। হয়েছিলেন হাফিজ-গালিবে প্রভাবিত। আবার তার একেবারে শেষ দিকের কবিতাগুলোতে, সেগুলো হয়তো এই বইয়ের পরে প্রকাশিতই হয়ে থাকবে—রয়েছে একেলে প্রেমের প্রতি অনাস্থা ও বীতরাগ। তবে পিয়াসের প্রেমের কবিতাগুলোতে রাবীন্দ্রিক অথবা জীবনানন্দীয় প্রেমের প্রভাব আমরা বড়ো একটা দেখিনি। কিন্তু ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ এর কিছু কিছু উপমা ও ভাষারীতিতে অনুপ্রবেশ করেছেন রবীন্দ্রনাথ এবং জীবনানন্দ। ‘প্রহর শেষের আঁধার রাঙা সেদিন তারিখ সাতাশ/তোমায় আমি দেখেছিলাম অরুণ অকস্মাৎ’ এবং ‘আমরা দু’জনে মিলে পূর্ণ করে রেখে যাব/জীবনের গাঢ় অন্তঃসার’। এ পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের অবতারণার কী হেতু ছিল তা পাঠক হিসেবে আমার বোধগম্য নয়। মানলাম না হয় যে প্রেমাবেগ যুক্তি মেনে চলে না। হয়তো সে কারণেই কবিতায় প্রেমিকাকে ‘তুই’ সম্বোধন করতে দেখা গেল, যা ইতিপূর্বে পিয়াসের কবিতায় ঘটেনি। নাগরিক প্রেমের কবিতায় অজস্র ‘তুমি’র ফাঁকে দু-তিন বার প্রেমিকাকে প্রাকৃতজনের মতো ‘তুই’ সম্বোধন কৃত্রিম ঠেকতে পারে। আবার অন্তত দুই জায়গায় রবীন্দ্রনাথে আক্রান্ত হয়ে কবি প্রেমাস্পদকে ‘সই’ বলে সম্বোধন করেছেন।

পুরো বইটা জুড়ে প্রেমিকার প্রতি একটা নিঃশর্ত সমর্পণের সুর বেজেছে। আত্মার সমর্পণেই যে প্রেমের উদ্বোধন হয়—তা কোনো প্রেমিকের অজানা নয়। কবিতার কিছু পঙ্‌ক্তি বেশ শক্তিশালী। যেমন—

 

আমার শীতঘুম ভাঙিয়েছে
তুমি নামের ফেরারি বসন্ত।
যে তুমি দেখিয়েছ
বেঁচে থাকার বিস্তীর্ণ বসন্তবাগান

 

বালক নোয়াহ’র নৌকা হয়ে ভিড়েছে প্রেমিকার বুকের বন্দরে। তাকে সে প্রকাশ্যে পায় না, কিন্তু তার মধ্যে দেখেছে ঘনীভূত রাত্রির রূপ।

কবির অকপট স্বীকারোক্তি, ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়েছ/ প্রবীণ পৃথিবী ছেড়ে/ জীবনের কচি কিশলয়ে।/ তবু এই কুৎসিত টিকে থাকা/ তোমার অপেক্ষায় সুন্দর’।

প্রেমের কথা শব্দে বললে সে তার তাৎপর্য হারায়, কল্পনা তার মাধুর্য বাড়ায়। কবি লেখেন, ‘আমাদের প্রতিটি সাক্ষাত সংক্ষিপ্ত/ আমাদের প্রতিটি বিদায় বিড়ম্বিত,/ তবু এই পৃথিবীতে আমরা বাঁচি/ একই রাতে ঘুমোতে চলি/ স্বপ্নে হয়ে থাকি নিকট প্রতিবেশি’।

‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’-এ কবি বারবার অবতারণা করেছেন বালক ও জ্যোৎস্নার কথোপকথনে। জ্যোৎস্না সেখানে পলায়নপরা, কবি তার অন্বেষণে উন্মুখ। এক পর্যায়ে কবির উচ্চারণ—

 

জ্যোৎস্না তুমি একবার বলো
অলীক যদিও আমি
এই প্রেম অলীক নয় কদাপি
আমি করে নেব
পৃথিবীর প্রতিবন্ধক
উধাও-নিষিদ্ধ’
জ্যোৎস্না হেসে বলে, “বারংবার বালক তুমি
এ কী জানতে চাও?
উপমার উড়নায়
রূপকের সাজসজ্জায়
আমি কি করিনি
প্রকাশ আমাকে?

বালকের বিগত জীবন শূন্য গেছে, এখন তার পূর্ণতায়ও ভয় ভীষণ।

 

৪.
‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ বইটি পড়তে পড়তে ফুরিয়ে আসে। শেষদিকে জ্যোৎস্না বালকের চোখের তারায় তার স্পর্শ ছোঁয়ায়; বালক মৃত্যুর আনন্দ-মাধুর্যে ঢলে পড়ে যেতে থাকে অনন্ত সময় ধরে। তার প্রয়াত দু-চোখে ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ চিরকাল জেগে থাকে। প্রেমাস্পদের প্রতি কবির এক অনবদ্য নৈবেদ্য এই কবিতা।

কবিতাটির একটি খাপছাড়া দিক হল, কবি তার এযাবৎ চর্চিত সংযম এই কবিতায় প্রেমাবেগ প্রকাশের বেলায় আর ধরে রাখেননি। প্রায়ই সংযমের বাঁধ ভেঙে নগ্ন হয়ে পড়েছে আবেগের উচ্ছ্বাস। তাঁর এমন আবেগ-ঢলোঢলো শব্দচয়নের হয়ত পাঠকের আপন লাগবে না। কিন্তুপ্রেমের কবিতায় আবেগের আতিশয্য অন্যায্য নয়। রবীন্দ্র-নজরুলেও প্রেমের কবিতায় কোথাও কোথাও আবেগের বাড়াবাড়ি আছে। যদিও সাহিত্যে আধুনিকতা ব্যক্তিগত আবেগকে ঢেকে-ঢুকে রাখতেই নির্দেশ করে।পিয়াস তাঁর কবিতায় স্বভাবজাত সংযম ধরে রেখেও উত্তীর্ণ প্রেমের কবিতা লিখতে পারতেন।

পরিশেষে বলব, ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ বইটিতে ধ্যানী-মৌন কবি পিয়াস মজিদকে পাওয়া যায় প্রেমের বশীভূত ও সর্বোতভাবে সমর্পিত প্রেমিকরূপে। প্রেমে পড়া আসলে পতন নয়, বরং এক বিশেষ রকমের উত্তরণ। এই ঘোর তথা জুনূন যাকে পায়, সে হয় মাজনূন তথা পাগল। এই জুনুনের মাজনুন ছিলেন ইমরুল কায়েস-রুমি-হাফিজ প্রমুখ আদি প্রেমিকগণও। আমাদের চর্যাপদের কবিও নগরের বাইরের কুঁড়েঘরের ডোমনীকে বলে বসে, ‘আলো ডোম্বী তোএ সম করিব ম সাঙ্গ/ নিঘিন কাহ্ন কাপালিক জোই লাঙ্গ’ [অর্থ : ও লো ডোমনী, তোমার সঙ্গে আমি সাঙ্গা (বিয়ে) করব/ আমি ঘৃণাহীন এক নগ্ন কাপালিক যোগী]। এইই তো সমর্পণের আদি রূপ।

প্রেম সর্বাঙ্গ-সুন্দর। যে উপলক্ষেই যে জীবনে আসুক, যতবারই সে আসুক—মধুর-নবীন রূপেই তাঁর চির-আবির্ভাব। কানাডার গায়ক-কবি লিওনার্দ কোহেন তাঁর জীবনে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আসা দুই প্রেমিকার নামে দু’টি কালোত্তীর্ণ গান রচনা করে গেছেন। সুজান এবং ম্যারিয়েনের সাথে শেষতক কোহেনের প্রেম হয়তো থাকেনি, তাতে কী? দুটো দারুণ প্রেমের গান তো পৃথিবীর মানুষ সে সুবাদে শুনেছে। ‘নির্ঘুম নক্ষত্রের নিঃশ্বাস’ এর মত প্রেমে কবি পিয়াস বারংবার পড়ুন এবং ততবারই আমাদেরকে সুন্দর সুন্দর কবিতা উপহার দিন, সেই প্রত্যাশা পাঠক হিসেবে করি।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

লেখকের জন্ম ১৯৮৯ সালে, খুলনা শহরে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আইন বিষয়ে৷ পেশাগত জীবনে ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং করছেন। মূলত: গদ্যেই লেখার চেষ্টা করেন। লেখার প্রিয় মাধ্যম বড় গল্প ও উপন্যাসিকা, তবে কবিতা পড়া এবং কবিতার ওপর লেখাও তার প্রিয়।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।