সোমবার, জুলাই ৪

পুনরুত্থান ও অন্যান্য কবিতা : দ্বিত্ব শুভ্রা

0

অন্তর্ভূক্তি


চোখ খুলবার আগেই যা ধরা পড়ল:
একটা হৃদয়— যা আমার আছে।
চোখ বন্ধ করার আগেই যা বুঝে পেলাম:
আমার হৃদয়— যা সঙ্গে নেই।

(আমাকে) বলা হয়েছিল, তুমি আকাশ দেখতে পারো
ওটা আস্ত হয়ে থাকে মাত্র কিছুক্ষণ,
যেন কিছু পরেই ওতে থুতু ছেটানো হয়
সাদা—মৃত মাছের মতো—ভাসে—টুকরো টুকরো।

উড়ন্ত বালিহাঁসের দীঘিতে জলডুব—
সবুজের উচ্ছ্বাসে সিঁথিকাটা পথ—
তোমাকে বহুকিছু থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে,
যোগ দাও, যা কিছু ভালো লাগে তা শেষ হবার আগেই।

এ এমনই এক পৃথিবী, সবসময় অনিরাপদ
পরে আছি অসম্পূর্ণতার পোশাক
এমন একটা দৃশ্য যা তৃপ্তি দিক
দৃষ্টির অন্তর্জালে সংরক্ষিত, আমার আত্মার নিরাপদে।


পুনরুত্থান


রহস্যের জ্বলন্ত বর্শা নিয়ে শুরু হলো দিন
কাদা ও পিচের রাস্তায়, দেয়ালে, মানুষের বুকে-চোখে
বিস্ময়বোধক চিহ্নসহ আপ্তবাক্য— আহ!
কত দিন গেল! আলোর পদক্ষেপের জন্য শুধু অপেক্ষা।

চাই বা না চাই ফিরে আসে অতীত হন্তারক
স্মৃতির আনন্দ-অ্যালবাম দ্রুত ফুরিয়ে যায়
কালচে সবুজ দানব বেরিয়ে আসে পাতা ফুঁড়ে
লোহার পেরেকে সোনাহীন গোল্ড মেডেল আড়াআড়ি নড়ে।

ঈগল আকাশটাকে টেনে মাথায় নামায়
অথবা, আমাকে ধরে বসিয়ে রাখে শূন্যে
দৃশ্যবদলের স্বর্গ ঘষা-কাচ লাগিয়ে ঘুমায়
লোহা, আগুনের ফুলকি, ঝালাইমেশিনে কিছু না কিছু তৈরি হচ্ছে।


চাল, দৃশ্যের বাইরে


আমি কি সেখানে পৌঁছাতে পেরেছিলাম?
নাগালের ভেতর হয়তো কিছু ছিল
একটা সুযোগ তাকানোই থাকে চোখে চোখ রেখে
এক ব্রেকফেল ট্রাকটর, কান দুটো লাল।

আহত হরিণ সর্বাধিক জোরে লাফ দেয়
যখন মৃত্যুকাঙ্ক্ষাই শেষ আকাঙ্ক্ষা নয়
চারপাশে হাত পা নাড়ানো কু-আত্মা
যেন আমাকে নিয়ে উইচক্র্যাফট, পেঁচানো হাত পা।


দুমড়ানো শব্দগুচ্ছ


ঠোঁট দুটো ইশারা করেছিল।
শুধু বুদ্বুদ। ধ্বনি ওঠেনি একবারও।
কোনো হাত। আশা। স্বপ্ন। জীয়ন্ত আত্মা ।
কোনোকিছু আর তার নিজের অংশ নয়।

অনভিপ্রেত সময় কেটে যাবার পর
বিশীর্ণ শরীর রোদের ওপর পেতে
যেন মাত্রাতিরিক্ত ডুবে ছিল বেনো জলে।
আজ শ্যালো টিউবওয়েলের মতো
…………যত গায়ে হাত দাও
…………সুখ নয়। শোক নয়। অসম্ভবে।
…………নাই জল। নাই টলমলে মায়া।

উপেক্ষা যত কাঁদিয়েছে
………বাড়িয়েছে শক্তি উপেক্ষা করার।
ভালোবাসা, প্রেমের রাস্তা ছেড়ে বাইপাস রোডে
আত্মার ঘন ঝোঁপে।
কত সওয়া যায়?
মেট্রেয়িলাস। ট্রেইটস। কাস্টমস।
প্রেম নয়। ফোবিয়া।

একটা জীবন চলে গেল রাত্রির মাঝখানে
ঠোঁট কাঁপে শুধু। চাপা স্বরধ্বনি।
শুকনো বাতাসে মোচড়ানো কাগজ।


ইতস্তত ছড়িয়ে থাকা হৃদয়


আমি কলম। লিখছি মাটির পুস্তকে।
সকাল থেকে লিখে থামলাম দিনের শেষ পৃষ্ঠায়।

অন্ধকার খাটিয়েছে তাঁবু।

আমি কি আজকের মোমবাতিটা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম?
দৃষ্টির দূরপ্রান্তে কারো সাদা পর্দায় সোনালি আভা।
আমাকে আড়াল করতে পারে, দেখছি না তত বড়ো কাপড় কোথাও।

আমি কাউকে শুনিনি, কেউ আমাকেও শুনছে না।

এই যে! দয়া করুন! আমার কালো ছায়াটা ওরকম দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে উঠছে কেন?

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭৮ সালে ঢাকায়। রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ: ‘চৌপাহারার গেহ’, ‘রক্তমাদল’ ও ‘চিরদূরের কাছে প্রার্থনা’।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।