বৃহস্পতিবার, মে ৩০

ফেব্রুয়ারির ফুরানো দিনগুলো : রুহিনা ফেরদৌস

0

০১.
অফুরন্ত সন্ধ্যা ছুঁয়ে যাচ্ছি
তুমি অদৃশ্যে, দাঁড়িয়ে কোথাও
ফেলে আসা অতীতে, কারো অপেক্ষায়—

অপেক্ষাও যে এমন অপার-অনন্ত হয়
কে জানত!
কে জানত, কারো জন্য কারো কারো
ঘর-গৃহস্থালি এতোটা উজাড় হয়।
হয়তো হয়—

তুমি সেই সব উজাড় হওয়া গল্প জমাও
যেমন, রোদবিমুখ ডালিয়ার গল্প,

তুমি ভেসে যাও স্মৃতি পোড়া সৌরভে
যেখানে দাঁড়ালে সব অস্পষ্ট হয়ে ওঠে
কিছু দেখা যায় না
কোথাও পৌঁছানো হয় না

আমি ক্রমশ তোমার সেইসব সন্ধ্যা ছুঁয়ে যাচ্ছি।

 

০২.
রাতের রেল গাড়িতে চড়ে দালির শহরে এসে হাজির হই
দু-হাতে কুয়াশা সরিয়ে সূর্যের দরজা খুলি
আড়মোড় ভাঙে ভোরের কালো
কাকগুলো আমাকে দ্যাখে
ডানা ঝাপটায়, উড়ে যায়—
আকাশের শরীর চিড়ে আসা ক্ষীণ আলোতে দেখি,
তোমাকে নিয়ে ছুটে আসছে বিপরীত রেল গাড়ি
হতবিহ্বল আমি সবটা শক্তি দিয়ে দৌড়াই,
মনের গোপন আকড়ে ধরে
আকড়ে ধরে বিপন্ন স্মৃতি, টুকরো গ্লানি,
তীব্র আলো এসে চোখ ঝাঁঝিয়ে দেয়,
এতো কিছুর পরও আমার স্বপ্ন ভাঙে না
যন্ত্রের গতির সঙ্গে আমি হেরে যেতে থাকি
আমি ছুটতে থাকি, তোমার স্মৃতির বিপরীতে।

 

০৩.
শত গ্রহণ ও সন্ধ্যা শেষে
আঙুলে লেগে থাকে কড়া কফির ঘ্রাণ।
শুনছি, এ শহরে অন্ধের সংখ্যা বাড়ছে—
আমি একা বসার জায়গা খুঁজি,
দিনশেষে এখানে কেউ একা হতে জানে না—
গোধূলি, ফুটপাত, রকমারি খাবারের সুবাস
ব্যস্ত পথচারী, অসহায় বৃদ্ধ ভিখারি,
আরও অসহায় দোকানি ও তার কিশোরী মেয়ে।
প্রতিদিন এসব দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকি
আমার মনের পথে থতমত তুমি এসে দাঁড়াও,
আমার আর একা হওয়া হয় না।

 

০৪.
প্রতিদিন একটু একটু করে ব্যথাটা গাঢ় হয়
এই যে তোমাকে দেখেও না দেখার মতো করে থাকা
ভুল করে না ছুঁয়ে দেয়া, আমকে ক্লান্ত করে।
ইচ্ছে করে আমি তোমার মতো হয়ে যাই—
সন্ধ্যার পথ ধরে হেঁটে হেঁটে ঘরে ফিরি
অনিচ্ছার দরজায় টোকা দিয়ে জানান দেই
আমার নিয়মমাফিক উপস্থিতি।
তারপর বিবর্ণ পোশাক ছাড়ার মতো মুছে ফেলি
চিবুকে জমানো উষ্ণতা, ঠোঁটে আলতো স্পর্শ।
যেন, চৌকাঠে পা রাখা এক আটপৌরে অতীত
যার সকাল ফুরায় না, বিকেল গড়ায় না।

 

০৫.
অভ্যস্ত নামে তোমাকে ডাকি
উত্তর আসে না।
ফুলের মতো ভুল করে ফেলি
চেনা গলিতে গিয়ে বসি
আজকাল তোমার ছায়ার সাথে কথা হয়।
পৃথিবীর রূপকথারা ফিরে আসে
আকাশে ভালোবাসার দিন
তবু আমাদের ঘরে কোনো খবর আসে না।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

লেখক ও সাংবাদিক। জন্ম ৬ ডিসেম্বর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট। পিতা ফেরদৌস হোসেন, উডকাট আর্টিস্ট। মা মুক্তা ফেরদৌস, গৃহিণী। লেখালেখির উৎসাহ পরিবার থেকে। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট থেকে ফিল্ম ও টেলিভিশনে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা (পিজিডি) করছেন। দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক এক যুগেরও বেশি। ফিচারের পাশাপাশি কাজ করেছেন সম্পাদকীয় বিভাগে। ‘নভেরা’ নামে চিত্রকলা বিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতা সম্পাদনা করছেন দৈনিক বণিক বার্তায়।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।