শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯

মুহম্মদ ইমদাদ-এর নির্বাচিত দশ কবিতা

0

স্তন

স্তন নিয়ে প্রথম যে কবিতাটি লিখেছিলাম
তার নাম ‘ক্ষুধা’।
পুরো ছয় মাস স্তনই ছিল আমার একমাত্র ভাত।
স্তন নিয়ে দ্বিতীয় যে কবিতাটি লিখেছিলাম
তার নাম ‘শিং মাছ’।
পুত্রের দুধের জন্য শিং মাছ ধরতে গেছি হাওরে
এই মাছ খেলে দুধ বাড়ে স্তনে— শুনেছি।
স্তন্যপায়ীরাই শুধু স্বপ্ন দেখে— বিজ্ঞান বলেছে।
আমার আম্মা, আমার পুত্রের আম্মা তাদের সন্তানের
স্বপ্নের বন্দোবস্ত করতে শিং মাছ খেতেন; রাত জেগে
নজর করে দেখতেন পুত্র স্বপ্ন দেখছে কি না।
স্তন নিয়ে যৌবনে যে কবিতাটি লিখেছিলাম,
তার নাম ‘শান্তিচুক্তি’।
কবিতাটি হারিয়ে ফেলেছি। মৃত্যুর আগে
স্তন নিয়ে আমি আরো-একটা কবিতা লিখবো বলে
ভেবেছি। নাম : ‘মা’। কবিতাটির প্রথম স্তবক :
‘আম্মা একটা আপেল গাছ। কত দিন হলো আমি
আপেল খাই না। আর কোনোদিনও খাব না।
—এই দুঃখে আমার জীবন গোসল করে না।’

লজ্জা

Death is the mother of beauty. : Wallace Stevens

মসজিদের উঁচু মিনার থেকে একদিন
লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়বে আমার
মৃত্যু-সংবাদ

ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগছে!

কিন্তু এ-দেশে এটাই তো নিয়ম
খোলামেলা ভাবে প্রচার করা ‘কেউ নেই’ যাতে
তার প্রতি ধাবিত ছুরি ও চুম্বন
অন্যদিকে ঘুরে যেতে পারে
কিন্তু আমার লজ্জা
তুমি যদি জেনে ফেলো আমার এই
চিরপতনের খবর!

আমি যদি একটু হলেও বেঁচে থাকতাম
সেদিন আমার মৃত্যুদিনে
তাহলে চোরের মতো নিঃশব্দ রাতে
সরে যেতাম এই বাড়িঘর ছেড়ে
তুমি আমার মৃত্যুর বাতাসও পেতে না
কিন্তু হায়!
মসজিদের উঁচু মিনার থেকে
একদিন লোকালয়ে ছড়িয়ে
পড়বে আমার
মৃত্যু-সংবাদ

পৃথিবী

১.
১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে আমি একবার পৃথিবীতে যাই
থাকি প্রায় ৬২ বছর।
তারপর ফিরে আসি যাওয়ার আগের অবস্থায়।
একজন মহিলার পেটে চড়ে আমি সেখানে যাই।
সময় লাগে প্রায় ১০ মাস ১০ দিন।
পৃথিবীতে পৌঁছে আমি এতটাই বেক্কল হয়ে যাই যে
আমার কোনো কাণ্ডজ্ঞান থাকে না প্রায় ৪ বছর।
ততদিন এই মহিলা আর তার প্রেমিক
আমি আগুনে হাত দিতে চাইলে
মাটি খেতে চাইলে
পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিতে চাইলে
মানা করেন এবং কোলে তুলে নেন
এবং আমাকে তারা কমলালেবুর রস না খেতে চাইলে
গরুর দুধ না খেতে চাইলে
আদর করে হাতে-পায়ে ধরে খাওয়ান
আমার কাণ্ডজ্ঞান হতে থাকে
পৃথিবীতে বসবাসের নিয়ম-রীতি রপ্ত করতে থাকি
আগুনের ধর্ম আর পানির ধর্ম জেনে যাই
বুঝে ফেলে আমি মানুষ পৃথিবীতে এসেছি
এখানে বেড়ানো যায় না, কাজ
এখানে থাকতে হলে ভাত খেতে হয়
ভাত রোজগার করতে হয়
রোজগারের ধান্ধা করতে হয়
মিথ্যা বলতে হয়
জ্ঞান অর্জন করতে হয়
ডাকাতি করতে হয়
অন্যের ভাত কেড়ে আনতে হয়
এখানে কাঁচা থাকলে চলে না, পাকা
নগ্ন থাকলে চলে না, জামা
খালি পায়ে চলে না, জুতা
খালি হাতে চলে না, ছুরি, চাকু
এখানে অহংকার লাগে, হুংকার গর্জন লাগে
আমি ভাবলাম, আমার এসবের দরকার নাই
পাখির স্বভাবে ক’দিন বেড়িয়ে যাই
লোকে বলে চলবে না। তোমার বহু কাজ।
কাজ করলে টাকা। টাকায় ভাত। জামা। ছুরি।
আমার টাকা নাই। সবাই আমার ভালো চায়।
আমাকে তারা একটা উড়োজাহাজের পেটে ঢুকিয়ে দেয়
উড়োজাহাজের পেট থেকে আমি আমেরিকা নামক
অন্য একটা পৃথিবীতে পৌঁছে তাজ্জব হই।
অস্ত্র কারখানায় আমার কাজ হয়। টাকা হয়। ভাত হয়।
এবং এই অস্ত্র আমাকে একদিন বের করে দেয় পৃথিবী থেকে।
পৃথিবীর কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে।
মাঝেমাঝে মনে হয় আবার যাই।
যাওয়া কি ঠিক?

২.
২০৩২ সালে আমি পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।
এসে লিখি ‘পৃথিবীতে ৬২ বছর’
নামক আমার একমাত্র ভ্রমণকাহিনি। বইটি পড়ে
পৃথিবী-বাউন্ড বহু লোক ভয়ে কুঁকড়ে যায়,
কিছু লোক, যারা গালিবার-টাইপ তারা যেতে আগ্রহী হয়।
এক জায়গায় আমি লিখেছিলাম—
প্রথম-প্রথম খুব ভয় পেতাম। একা লাগত।
ঠিক রবিনসন ক্রুসোর মতোই।
কিন্তু ক্রমেই দেশটিকে আমি ভালোবাসতে শুরু করি।
কারণ দেশটার উপরে নীল আকাশ ছিল।
আকাশের গায়ে রাতে চাঁদ আর দিনে সূর্য় থাকত।
আকাশের একটু নিচে মেঘ থাকত।
মেঘের নিচ দিয়ে পাখি উড়ে যেত।
চিল, বক, শকুন, ঈগল। মাটিতে নদী ছিল।
নদীর পারে-পারে গাছ ছিল।
গাছে ফুল ফুটত। ফল ধরত।
ডালে-ডালে পাখি বসত।পাখিরা গান গাইত।
ভালো লাগত খুব।
একরাতে কারো চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে
আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাই
চিৎকারকারী লোকটা আমার কাছে আসে
বলে ‘বাঁচান’, আমি তারে বাঁচাই আর তারই মুখ থেকে
শুনতে পাই, সে পালিয়ে এসেছে
মানুষের মাংস খাদক কিছু মানুষের হাত থেকে
আমি ভয় পেয়ে যাই। দেশটার নাম দিই
‘ক্যানিভাল আইল্যান্ড’
তার কাছ থেকেই আমি জানতে পারি,
হিটলার
বিশ্বযুদ্ধ
মেগাডেথ
পারমানবিক বোমা
হিরোশিমা
নাগাসাকি
অপারেশন সার্চ লাইট ইত্যাদি
তারপর থেকে আমি পালাতে চেষ্টা করি
কিন্তু পথ পাই নাই। অবশেষে আসতে সক্ষম হই।
কিন্তু কীভাবে আসি ঠিক বুঝতে পারি না।
পরে জেনেছি
মৃত্যু নামক একটি গাড়িতে চড়ে
আমি বেরিয়ে আসি, এসে শান্তি পাই।
জন্ম নামক যে গাড়িতে চড়ে পৃথিবীতে গেছিলাম
সেই গাড়িটি এখন আর দেখি না
আর দেখতে চাইও না।

মরা মানুষ কাঁদতে পারে না কি

দুপুরে খেতে বসে বাচ্চার দিকে তাকিয়ে
বউয়ের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ তার মনে হলো : আমি তো মারা গেছি সাত বছর আগে!
হঠাৎ তার মনে হলো : কবরে স্বপ্ন দেখা যায় নাকি;
মরা মানুষের সাত বছর আগের স্মৃতি থাকে নাকি!
সে বউয়ের দিকে নজর করে তাকায়
সে বাচ্চার দিকে নজর করে তাকায়
নিজের বিধবা বউ দেখতে কেমন
নিজের এতিম বাচ্চা দেখতে কেমন
স্বপ্নের খাবার টেবিলে তার চোখ ভিজে যায়
খাওয়া শেষ করে সে পানি খায়
মনে হয় বাস্তব; মনে হয় সত্যি; মনে হয় পিপাসা মিটতেছে
সাত বছর আগে সে এইভাবে পানি খেত;
এইভাবে বউ আর বাচ্চারে দেখত; এইভাবে…
স্বপ্ন এত স্পষ্ট হতে পারে তার ধারণাতেই ছিল না
সে দেখে চুম্বনের অভাবে তার বাচ্চার মুখ এতিমকালার
চুম্বনের অভাবে তার বউয়ের কপাল বিধবারঙিন
চোখ ভিজে
শোবার ঘরের দিকে যায়
সবকিছুতে তার না-থাকার গাঢ় ছাপ
বলে, আমার না-থাকার মাঝে কেমনে থাক তোমরা
বউ বলে পাগল হইছ? অফিসে যাও।
সাত বছর আগে এইভাবে বলত
মৃত্যুচিন্তা হতো বলে
হাসত।
অফিসে যাওয়ার মতো সে হাঁটে
চোখ ভিজে

কবরে স্বপ্ন দেখা যায় না কি
মরা মানুষ কাঁদতে পারে না কি

গ্লাসে পানি খেতে খেতে আপনি অনেকটা গ্লাস হয়ে গেছেন

মালি শুধু মালি না কিছুটা ফুলও
সৈনিক শুধু সৈনিক না, একটু রাইফেলও।
ড্রাইভার একটু গাড়িও।

ফলে কী হয়?
ফলে আপনি আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে
আশা করেন, আমি একটু আপনার মতো
মানে আপনার চোখের মতো দেখি ধান পাখি নারী আকাশ ও স্বপ্ন।
কিন্তু আমি আমার চোখ দিয়ে হয়তো কিছুই দেখি না।
হয়তো দেখি আপনার অসুখ ও মৃত্যুর সম্ভাবনা।
ফলে আপনি ভয় পেয়ে যান।
আমার থেকে দূরে সরে যেতে যেতে ভাবতে থাকেন,
প্রতিটি মানুষই একটা একটা ভিন্ন প্রাণি
কেউ হরিণ কেউ বাঘ কেউ শুয়োর কেউ মাছ
কেউ গাছ কেউ জিরাফ কেউ সাপ কেউ শকুন কেউ মাছরাঙা কেউ…

কারণ কসাই একদিন নিজেরে জবাই করবে আমরা জানি
কারণ শিকারি একদিন নিজেরে গুলি করবে আমরা জানি
কারণ জেলে একদিন নিজেরেই আবিষ্কার করবে তার জালে আমরা জানি
কারণ শিক্ষক একদিন পড়া না পারার অপরাধে নিজেরেই পেটাবে আমরা জানি

ইন্ডিয়া আম্মার নানাবাড়ি

আম্মার কাছে শুনেছি যে
ইন্ডিয়া বড়ো দেশ, কত বড়ো যে তার কোনো ঠিক নাই।
মনে হতো পৃথিবীর চেয়েও বড়ো।
কলিকাতা যাইতে লাগত সাত দিন।
তাজমহল যাইতে সারাজীবনই লেগে যাইত মনে হয়
মাটির তল দিয়া পথ
কী লম্বা
কী ভয়ানক

এই সব গল্প শুনে বড়ো হতে হতে
বড়ো হতে হতে দেখি ইন্ডিয়া ছোটো হয়ে যাইতেছে
যে কেউ তাজমহল
যে কেউ কলিকাতা
যে কেউ দিল্লি যাইতে পারে
ইচ্ছা করার আগে চলে যায় দেখি

এই ইন্ডিয়া সেই ইন্ডিয়া না মনে হয়
আম্মার ইন্ডিয়াতে আমি একদিন যাব
পৃথিবীর চেয়ে বড়ো
ঘুরে এসে আম্মাকে জানাব
সব ঘটনা

আম্মা আমারে ছুঁয়ে দেখে ফেলবেন অসম্ভব এক ইন্ডিয়া
ততদিনে আম্মার চোখ অন্ধ করো না খোদা
আর মাত্র ২০০ বছর পর আমি পাসপোর্ট পাব
চলে যাব ইন্ডিয়া
আর মাত্র ১০টা টাকা হলে আমি কিনে ফেলব
ভিসা

আম্মা আমারে আগে পাখি ডাকতেন
সেটাও মিথ্যা না। কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করে না।
যদি বিশ্বাস করত
এখনই চলে যেতাম ইন্ডিয়া
উড়ে
ভিসা কেনার টাকা লাগত না।
খোদা আর মাত্র ২০০টা বছর, তুমি, আম্মারে
অন্ধ করো না।

আম্মার কবিতা

১.
জীবন ধরে আম্মা যে কবিতাটি লিখছেন,
তার মৃত্যুদিনে সেটা প্রকাশিত হবে
আমাদের বাড়ির আকাশে। আমরা দেখব—
কবিতার ভিতর একটা চুলা, চুলার
সামনে আম্মার মুখে আগুনের ছায়া;
কোলে আমি ঘুমাচ্ছি না জেগে আছি আম্মা
জানেন, আমি জানি না; চুলায় লাকড়ি দিতে দিতে
আম্মা আমার কপালে চুমু খাচ্ছেন আর মনে মনে বলছেন
‘আমার পাখি’। কবিতার ভিতর—
আম্মার জন্য শাড়ি কিনে বাড়ি ফিরছে তার পাখি,
শাড়িটার রঙ কচি আমপাতার মতো। লোকজন
বলছে,’এটা তো তরুণী…’ আর আম্মা
মুখে আগুনের ছায়া নিয়ে বসে আছেন
তার প্রিয় চুলার সামনে, কোলে আমি নাই।
আমার ছায়ায় চুমু খাচ্ছেন আর মনে
মনে বলছেন ‘আমার বাবা।’
কবিতার শেষে পঙ্‌ক্তিতে আম্মা লিখবেন :
পুত্রবধূর পেটে আবার জন্ম নেব আমি আকাশ দেখব বলে

২.
একবার মধ্যরাতে আমি আর আম্মা
কুপি হাতে গুণতে গেছিলাম একশো সাতাশটি গন্ধরাজ।
দুইবার আমি আর আম্মা মধ্যরাতে
কুপি হাতে দেখতে গেছিলাম বাঁশি;
আম্মা বলেছিলেন, ‘রাবেয়ার প্রথম স্বামী গৌতমের কাজ।’
তিনবার আমি আর আম্মা
বাবুবাড়ির নয়া বউ দেখতে দৌড়ে গেছিলাম জানলায়;
বিষাণের বিষাদসুরে আম্মা বলেছিলেন ‘হায় হায়!
নদী দেখতে যাই নাই। নদী এসেছিল নিজে;
আমাদের দেখে গেছে, মনে মনে চেয়ে গেছে পানি;
এদেশ মরুভূমি হলে ফলবে না সোনার ফসল;
এই ভেবে কেঁদে গেছি আম্মা আর আমি

আব্বার কবিতা

আমার বাসায় এলে আব্বা বড়জোর ১ টা কুমড়া
৪ হালি লম্বি কলা, ১ কেজি আপেল
২ হালি দেশি মুরগির ডিম
২টা ডালিম, ১টা জাম্বুরা বা
মনু নদীর ১ দেড় কেজি বাঁশপাতা মাছ
১ টা পাউরুটি ইত্যাদি নিয়ে আসেন!
এগুলো আমাদের তেমন কাজে আসে না।
আমরা তবু কাজে লাগাই।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের কাছে
আব্বার দাম আসলে কত!
ঈদের সময় তাঁর জন্য কেনা পাঞ্জাবির দাম
তাঁর নিজের দামের সমান হবে—
আমরা অবচেতনে ভাবি।
কারণ, আব্বা আমাদের জন্য তার পেনশন
তাঁর মন্ত্রিত্বের হিস্ট্রি, শহরে বাড়ি
ইত্যাদির ব্যবস্থা করেননি
নাতিদের জন্মদিনে সোনার চেইন
বা এক লাখ টাকার চেকও গিফট করেন না।

কিন্তু আজ দুপুরে হঠাৎ মনে হলো
আব্বা যে তাঁর গভীর রাতের সিজদায়
আল্লাহর দরবারে আমার জন্য কমপক্ষে
৭ লিটার চোখের পানি ফেললেন,
তার দামে তো কম করে হলেও ২০ টা পৃথিবী কেনা সম্ভব!

আম্মার ঘরে বৃষ্টি পড়ে

আম্মার ঘরে বারোমাস বৃষ্টি পড়ত।
নিজে ভিজতেন।
আমাদের ভিজতে দিতেন না।
রাখতেন তার উষ্ণ ডানার নিচে।
আর দোয়া করতেন,
‘আল্লাহ, আমার পাখিগুলোর যেন
এইভাবে ভিজতে না হয় কোনোদিন!’
আম্মার দোয়ায় বড়ো হয়ে আমরা
ঈগল পাখি হয়ে গেছি
মেঘের উপরে উড়ি।
বৃষ্টি আমাদের ছুঁতেই পারে না।

মেঘের উপর থেকে দেখি
আম্মা সেই পুরোনো বৃষ্টিতে/অশ্রুতে
এখনো ভিজে চলেছেন
ভিজতে ভিজতে
ঠান্ডা লাগিয়ে জ্বরে কাঁপছেন
একা।

পাখির জুতা নাই

পাখির জুতা নাই।
পাখি তাই খুশি।
খালি পায়ে ওড়ে।
মাঝে মাঝে হাঁটে।
পাখি গরিব। ঘর নাই।
ন্যাশনালিটি, পাসপোর্ট নাই
পাখি খুশি। বন্দুক নাই। বোকা।
বুদ্ধি নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নাই।
চাকরি নাই।
পাখি যারপর নাই খুশি। জামা নাই।
জামার পকেট নাই। পকেটে পয়সা নাই। ছুরি নাই।
গান গায়। ওড়ে। হাঁটে।
মাঝে মাঝে মানুষের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসে হাসে।
দেখে তারা পোশাক/খাদ্য/জুতা প্রকৌশল
দেখে তারা রিকশা/রাষ্ট্র ইত্যাদি বিজ্ঞান
দেখে তারা প্রতিষ্ঠিত হতেছে।
পাখি খুশি। ডানায় জাহাজ। পোশাক। বিমান। গাড়ি।
মানুষের দুঃখে সে কাঁদে একলা একলা রাতে।
সকালে তাই ঘুম ভাঙাইতে আসে।

 

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

কবি ও অনুবাদক। জন্ম ৬ জানুয়ারি ১৯৭৮। কটারকোনো, মনু, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি ও লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ : কবিতা : অন্ধ পৃথিবীর জানলাগুলি, নদীমাতৃক পৃথিবী মেঘমাতৃক আকাশ, প্রেগন্যান্ট পাগলি ও অন্যান্য কবিতা। অনুবাদ : চূর্ণচিন্তন, দূরাগত স্বর, আর্থার শোপেন হাওয়ারের কথাগুলি প্রবন্ধ : আধুনিক কবিতা বিষাদবৃক্ষের ফুল ও অন্যান্য প্রবন্ধ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস : এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে। ই-মেইল : imdadmra@gmail.com

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।