শুক্রবার, জুলাই ১৯

‘শূন্যের উপর মার্জিন টানার নিয়মাবলি’ আমার প্রথম কবিতার বই : সাফওয়ান আমিন

0

‘শূন্যের উপর মার্জিন টানার নিয়মাবলি’ কে আমি মূলত প্রথম কবিতাবই হিসেবেই স্বীকার করতে চাই। যদিও ‘নিমফলের প্রহর(২১)’ নামে আমার একটা ১ ফর্মার পুস্তিকা বের হয়েছিল।

সাফওয়ান আমিন

শূন্যের উপর মার্জিন টানার নিয়মাবলি | সাফওয়ান আমিন | ধরন : কবিতা | প্রচ্ছদ : সারাজাত সৌম | প্রকাশক : খড়িমাটি | মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ | ঢাকা বইমেলায় খড়িমাটির স্টল নাম্বার : ৫৫৮

এই কবিতাবইটি যে এই বইমেলায় আসবে সে সম্পর্কে আমি নিজেই জানতাম না। কারণ জানুয়ারির ২২ তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় ছিলাম, ততক্ষণ পর্যন্ত বই করা নিয়ে কোনো ভাবনাই মাথায় ছিল না। বগুড়া ফিরেই কেন জানি একটা পাগলামি কাজ করা শুরু করল। কবিতাগুলো আগে থেকেই গোছানো ছিল বলে, হয়তো বই করার ভাবনা ভাবার সাথে সাথেই বই করে ফেলা সম্ভব হয়েছে। বইটি এসেছে মনিরুল মনির ভাইয়ের খড়িমাটি প্রকাশনী থেকে। আপাতত এই ছিল, বই হওয়া বিষয়ক প্রস্তুতি আলাপ। আর বইটি কী প্রসঙ্গে, কী নিয়ে ডিল করেছি, সেই আলাপে গেলে বলতেই হয়, আমার সমস্ত যাপনের খণ্ড খণ্ড অংশকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো কবিতার বিষয়বস্তুর সাথে হয়তো সরাসরি অভিজ্ঞতার ব্যাপার আছে। কোনোটার আবার কারো মুখে শোনা, অন্য কারো জীবন বাস্তবতা থেকে উঠে এসেছে। কোনো কোনো কবিতার বিষয়বস্তু তো সিনেমা দেখতে দেখতেও পাওয়া। কোনোটা কোথাও গিয়ে কোনো রুঢ় বাস্তবতার সাক্ষী।

এই সকল যাপন, এই সকল অভিজ্ঞতা ও এই সকল ভাবনাকে কবিতায় তুলে আনতে গিয়ে শিল্পমানকে অনিহা করিনি, প্রতিটি কবিতায় শিল্প করার চেষ্টাই করেছি। কতটুকু কি করেছি, তা এখন পাঠক বলতে পারবে।

‘শূন্যের উপর মার্জিন টানার নিয়মাবলি’ নামক একটি নামবাচক ৫ পর্বের কবিতা রয়েছে বইটিতে। যদিও আমি মনে করি এই শিরোনাম শুধু ওই কবিতাকে নয়, আমার সমস্ত কবিতাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। সমাজের, রাষ্ট্রের, ব্যক্তি মানুষের প্রেম ও অপ্রেমের, বিশৃঙ্খলতা, অস্থিরতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় মানুষের নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা, অস্থিরতার বোধকেই আমি মূলত শূন্য বলতে চেয়েছি। আর আমার কবিতাগুলো এই সমস্ত বোধকেই অনেকাংশে আলিঙ্গন করে আছে। যা মূলত এই সময়ের প্রতিটি মানুষের যাপনেরই কথা বলে আমি বিশ্বাস করি।

আর আমি বরাবরই আলাপ করতে গিয়ে বলি, কবিতা লিখতে গিয়ে আমি একটা আইডিয়া দেওয়ার চেষ্টা করি। সেইসব হয়তো কবিতায় ব্যবহৃত সিম্বল (অলংকার )—ইঙ্গিত—শব্দ—বর্ণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়, সরাসরি বক্তব্য থাকে না মূলত, আমি সরাসরি স্টেটমেন্ট দিতেও পছন্দ করি না। এইসবের মাধ্যমে আসলে আমি পাঠককে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করি, নতুন করে নিজের মতো করে ভাবতে। আমার কোনো টেক্সট পড়েই যেন পাঠক নিজের অভিজ্ঞতা ও জানার মধ্য দিয়ে ইচ্ছেমতো নির্মাণ করতে পারে নিজস্ব স্বর্গ কিংবা নরক। মনে থাকে, কবিতার ভাষা-আঙ্গিক যেন মসৃণ হয়। শব্দচয়ন করার সময় ভাবি, পড়েই একজন পাঠক যেন তৃপ্তি বোধ করে, বুঝতে পারে প্রতিটি শব্দের অর্থও। কিন্তু তারে যেন পড়তে হয় বড়োই গোলকধাঁধায়। চাই, এই মসৃণতার সহবাসে হোক কবিতায় ভাবনার দৌড়…

কবিতায় মূলত নিজেকে নির্মাণের চেষ্টাই থাকে আমার। আমার দেখা, আমার শোনা, আমার বলা, আমার অনুভূতির সাথে জড়িয়ে আছে এমন সমস্ত প্লট নিয়েই আমি। এমন সৃষ্টির খেলা খেলতে ভালো লাগে। প্রতিমা তৈরির মতো এক একটা শব্দ দিয়ে সুনিপুণভাবে গাঁথতে গাঁথতে যেন নির্মাণ করি নিজেকেই; শব্দের আমিকে গড়ে তুলি। তারপর দেখা যাক, পাঠক বইটা পড়ে, এই আমাকে কেমনভাবে নেয়! এর প্রতিক্রিয়ায় হয়তো আমারও জানা হবে, কতটুকু নির্মান করতে পেরেছি নিজেকে, কতটুকু পারিনি!

এই তো, আমার কবিতাবই নিয়ে আলাপ এতটুকুই। বাংলা কবিতার জয় হোক। সবাই ভালোবাসা জানবেন।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম সিরাজগঞ্জের বিল অঞ্চল তাড়াশে হলেও পড়াশোনা সূত্রে ২০১৩ সাল থেকে বগুড়ায়, বলা চলে, যৌবন প্রেম ও কবিতা সব বগুড়ার জলে ও বাতাসে পাওয়া। মূলত কবিতা লেখেন। ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন করে কবিতার ঘাড়ে চেপে বসেছেন। 'নিমফলের প্রহর (২০২১)' নামের একটা কবিতাগ্রন্থও রয়েছে। ছোটোকাগজ 'নিওর' এর সম্পাদনার সাথে দীর্ঘদিন হলো যুক্ত আছেন।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।