বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮

শৈবাল নূরের কবিতাভাবনা ও কবিতা

0

Shoibal Noorকবিতা কী— এমন প্রশ্নপ্রহেলিকা পেরুতে পারি না কখনও


কবিতা কী— এমন প্রশ্নপ্রহেলিকা পেরুতে পারি না কখনও। খণ্ড খণ্ড শরৎ মেঘে ছেয়ে যায় আকাশধারণা। নীলবর্ণ দুটি চোখ তাড়া করে সমস্ত দিন। ইর্ষাঅক্ষি এড়িয়ে যাব বলে সারাশরীরে মেখে থাকি রূপদক্ষ গিরগিটির ছায়া।

আয়না থেকে প্রশ্ন আসে কেন লিখি! আনমনে তাকাই বহুবর্ণ প্রজাপতির দিকে। মাত্র দু’ডানায় তরঙ্গিত উড়ছে ফুল থেকে ফুলে, রেণু থেকে প্রজন্মে। কেন?

প্রশ্নাগ্নির ভেতর ঝাঁপ দেয় নবডানার বাল্মিক। অট্টহাসি ছড়িয়ে পড়ে হাবাদের দুনিয়ায়।

মিথের চরিত্র হয়ে ঘুরছো নিজের মাঝে। অরূপের স্বাদ পেতে চাও গোপনে। মঞ্চায়ন শেষ হলে গ্রীণরুমে ছেড়ে আসো বস্ত্ররূপ। সৌন্দর্য আকাঙক্ষায় ছেঁড়া ফুলগুলো দেখ মৃতপ্রায়। তবু নিঃশব্দের মাঝে, নির্জন বনপথে তোমার সাথে হাঁটেন স্বয়ং সিদ্ধার্থ। নাগা সন্ন্যাসীদের পথ দৃশ্যত হয় ক্রমে—

পারদহীন আয়নায় আশা রাখি না কখনো। আয়না কারিগরের অযুর জলপাত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকি। মন ভুলো সন্ধ্যায় বাদশার নজরে এলে। জানি লেখা হবে কালপুরুষের নাম।


মরমি ধনুক ও অন্যান্য কবিতা


ব্রহ্মকথা


কেঁপে ওঠে একেকটি পাথর, বনমোরগের ডিম
লুপ্ত হবার কাল এসে গেছে, খুলে গেছে ধুলোর কাঁচুলি
গোলুইয়ে বসে তোমার দিক নির্দেশনা অর্থহীন
নেমে এসো নিমকাঠের দোলবিছানা থেকে
মিথ্যেমুক্ত চোখ নিয়ে ঘুরে এসো বাল্যবিবাহের
নির্জনপ্রহর, অবদমনের মর্দিত গুপ্তখাদ
ভূমিকম্পে তোমার মুকুট যদি না কাঁপে, তবে
বুঝতে হবে উড়বার দিন শেষ। এবার শুরু হবে
শব যাত্রা। মহাবিবাহ উদযাপন একা একা—


ব্রহ্মকথা ২


জীবন অর্থহীন মনে হলে, মসনবি হাতে
নিজেকে আবিষ্কার করি লালশাপলা ভর্তি
বিলের ধারে। যেখানে জলময়ূরের দুটি ছানা
আকাশের দিকে হা করে আছে। আর
বিবিধ জলজউদ্ভিদের আড়াল থেকে
ধেয়ে আসছে একটি ক্ষুধার্ত জলডোরা—


মরমি ধনুক


আমাদের দূরত্বরেখা হাওড়ে হারানো রেললাইনের মতো
দেখো, ফাঁকা ময়দান কাঁপে কবুতর ওড়ার শব্দে—

উড়ুক্কু পত্রের মাঝে হরফের মূর্ছনা
ডানাভাঙা পাখির মর্মে জাগে ধূসর বুনো শিস্

কত বিস্মৃতির নদী এ দেহদ্বয়
স্বর্গচ্যুত তুমি আমি যেন মিলিত হই তাঁর কালেমায়

সৌন্দর্য মূলত ফাঁদ, গুপ্ত কুশলতা
যার ভেতর আমরা ফেলতে চাইছি আমাদের অহর্নিশ!


অনিরাময়


তোমার ঘুমপ্রহরী হয়ে
পাহাড়ি সুরঙ্গে হারানো ট্রেনের খোঁজ করছি আজও

জুয়াচুরি সম্মোহণ
শ্বাসপ্রশ্বাস রুদ্ধ করে ভাবি
তুমি মধুসুন্দরী দেবী আমি অন্ধ তারানাথ

শবসাধনার মোহে
বুকে বসে আছে অলৌকিক কবিতাকায়া

পশুর নদীতে ভেসে ভেসে
সুন্দরবনে ডাকাতদলের হাতে লুট হলো আমার
মধু-মক্ষিকা, গোলপাতা ঘর

তরল প্রেমপাত্র এ পুঁজিপ্রথা
আমি আলাউদ্দিন খিলজি’র মতো চিতোর জয়ের আশায় নিত্য মরি…


আলেয়া


তোমার চোখের মাঝে চব্বিশটি চিত্রাহরিণ
নিত্যদিন ছোটাছুটি করে, শিকার হয়

স্মারকলিপির ভুল বানানে, পরাভূত পাখির শিস্ হয়ে
ঘুরছি পিঞ্জরে পিঞ্জরে, রূপকল্পে

নৈঋত থেকে হাওয়ার সিলসিলা
হুদহুদ পাখির তাজে প্রহরী কৃষ্ণদাগ
তা সোলাইমান নবীর নয়নতারা, পাখিজীবনের অনুবাদ

যেভাবে,
একটা ধোঁয়ার কুন্ডলী আমার আয়ত্তে আসার আগেই মিলিয়ে গেল—

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

কবিতা লেখেন মূলত; পাশাপাশি গদ্য লিখতে চেষ্টা করেন। প্রকাশিত বই: যামিনী ও মরমী ধনুক ( কবিতা)।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।