শুক্রবার, এপ্রিল ১৯

সার্ভেন্তেসের সঙ্গে একদিন ও অন্যান্য কবিতা : উপল বড়ুয়া

0

সার্ভেন্তেসের সঙ্গে একদিন


আমি বয়ে বেড়াই শূন্যতা আর যৌনতা আর ব্যর্থতা
নিভৃত একাকী বৃত্তে আমি বেড়াই অবিরাম ঘুরে ঘুরে।
হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে অসহ্য ওজনে; ক্ষমা করে দিও
আমার আস্থা ফেলে এসেছি আজ আস্তাবলের খড়ে।

বাহাদুর আমার ঘোড়ার নাম— কানে বাজায় হ্রেষা
অপ্রস্তুত জিনে বসে আমি আবার তাঁতাবো হতাশা।
তারপর চলে যাবো বর্ম ও বর্শা হাতে— হিম ঝরা রাতে
নিরর্থ বাড়িঘর-সন্তান ছেড়ে হবো আমি দন কিহোতে।


লিও রোহাস


লিও রোহাস, তোমার বিষন্ন প্যান ফ্লুইট কেঁদে কেঁদে ওঠছে মোহিকানদের যন্ত্রণায়। শীতের দুপুরে যে পুরুষ একাকীত্ব উদযাপনে ব্যস্ত, তুমি তার সঙ্গী। যে নারী স্তনের সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে বাগানে, তুমি তার সঙ্গী। লিও রোহাস, তুমি রেড ইন্ডিয়ান, চলো ফিরে যায় জঙ্গলে। একাকী মেষপালক হয়ে ঘুমিয়ে থাকি সবুজ নরম ঘাসে। কানে বেজে যাক জাম্ফিরের দ্য লোনলি শেফার্ড। কিংবা শঁপার স্প্রিং য়োলত্স। কিংবা ধরো, কিতারোর সিল্ক রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমরা না হয় আবার ফিরে যাবো ইয়ান্নির নস্টালজিয়ায়।


ডোন্ট য়্যু ক্রাই ট্যুনাইট


না লেখার দিকে এগোতে এগোতে রাত নেমে এলো
ডিসেম্বরের রাত এক নিঃসঙ্গ দস্যু
চুপচাপ তাক করে থাকে শীতগ্রস্থ
ছুরি।

যদিও আমি আজ যাবো না বিন্যাস ও বিশ্লেষণে এবং
‘ডোন্ট য়্যু ক্রাই’য়ের ভেতর থেকে উদ্ধার করবো না
পুরোনো অশ্রু কিংবা কিহোতের সেই রঙচটা অভিযান।

অথচ আমি তো চেয়েছিলাম স্ল্যাশ বা ফ্লিয়ার মতো এক
রাগী-উন্মত্ত জীবন; সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে হতে মার্বেল!
এমন এক দ্বৈত রিভলবার হাতে বসে আছি সন্ধ্যা থেকে
চা ফুরিয়ে যাচ্ছে, সিগারেট শেষে ওড়ে যাচ্ছে উন্মাদনা।


তরুণ বুকিশের জন্য এলিজি


অনেক পড়ালেখার পর একদিন সে হুট করে মারা গেলো অক্ষরবমি করতে করতে। তাকে কবর দেওয়া হলো বইয়ের স্তুপে। শিথানে ও পৈথানে বই এবং খরগোশের চামড়া ও সিল্ক কাপড়ের বাঁধানো বই। যেন সে পড়তে পারে অনন্ত কল্পকাল। যেমন সে পড়েছে উঠোনে ও শিরীষের তলে। কয়েক দশক ব্যাপে। বইয়েরা আজকাল তার কাছে যায়। কেননা তাকে ভালোবাসে বই। তার সামনে নাচে ও গায়। কখনও নির্লজ্জের মতো শুয়ে পড়ে তার ওপরে। চুমু খায়। বাধ্য করে ঠাপাতে। বই পড়তে পড়তে একদিন সে-ও বই হয়ে যায়। তাকেও পড়ে আরও আরও তরুণ বুকিশ। কোন বই পড়তে পড়তে একদিন সে মারা গেলো? তার বইয়ের গন্ধমাখা কবরে বসে কে বই পড়ে এখন? তবুও আমরা জেনেছি বই পড়ে, তার কবরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক নিঃসঙ্গ বইবৃক্ষ। তাতে থোকা থোকা ঝুলছে টসটসে বই।


নাক


নাক আঁকা শিখতে পারলে আমি হয়তো পৃথিবীর সব মানুষকে আঁকতে পারবো। চোখ আঁকা শিখেছি বহুদিন হয়। অন্ধদেরও আঁকা যায় চোখ বন্ধ রেখে। ঠোঁট আঁকাও খুব সহজ। আঁকার সময় মুখ বন্ধ রাখলেই হলো। এমনকি কোনোকিছু না শোনে আমি প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো কান এঁকেও দেখেছি। কিন্তু নাক আঁকতে গিয়ে আমার বারবার হারিয়েছে দম। যতোবার নিঃশ্বাস নিতে গেছি ততোবারই বেঁকে গেছে পেন্সিল। বারবার ব্যর্থ নাকের কষ্টে নাক ভেঙে দেখেছি নিজের। তার ভেতরে কেবল আঁটির মতো জমেছে রঙিন দীর্ঘশ্বাস।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

উপল বড়ুয়া। জন্ম: ১৯ ডিসেম্বর। রামু, কক্সবাজার। প্রকাশিত বই: কানা রাজার সুড়ঙ্গ (কবিতা), উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা (কবিতা), তুমুল সাইকেডেলিক দুপুরে (কবিতা) ও ডিনারের জন্য কয়েকটি কাটা আঙুল (গল্প)।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।