মনস্তাত্ত্বিক
অনন্ত অন্তের দিকে ঝরে যায় কেঁপে ওঠা বিষদর্প …
তোমার কাঁপা-কাঁপা দেহের মতো রাত্রিকে উজাড় করছে
প্রতীক্ষাহীন অজ্ঞাত দর্শক—
আমি দেখতে পেলাম ভূতগ্রস্ত ফ্রয়েড মহাশয়
ওই রূপে মরীচিকার নেশায় খুব বিষণ্ণ
একাকী জীবন-জিজ্ঞাসার ভিতর স্রেফ অন্ধ-দার্শনিক,
উগ্র রাত্রিতে অস্থির একা
একদা, রূপময়তা
জিহ্বা থেকে ওঠো, সমুন্নত রাত্রি আর গান নয়
আজ সাফল্য বহু অক্ষরনির্মিত আয়ু
ক্লেদাক্ত
বর্ষায় জমে আছে ঋণ তুমি তা জান না
শুধু সংগোপনে লুকিয়ে রেখেছি সুরাপাত্র
আমার আনন্দ
আষ্টেপৃষ্ঠে চেয়ে যাও সর্বময় দীপ্যমান দেবী
মিথ
উড়তে উড়তে ওই মেঘরাজ্যে চলে যাচ্ছ একা একা রূপকাহিনির ভিড়ে
ছাইজ্বলা হাওয়া— শুধু এইরূপে ধুলোঝড় উড়ে যাচ্ছে—
পারি না ফেরাতে—
নির্জনে ঘোরলাগা চোখ—
কেবল আজ ভাবলেশহীন পোড় ছাইবনে
দুর্ভিক্ষ
জমে আছে লবণ ও দুপুরের গল্প এই শব্দ আকুতি আবর্তিত ঘিরে স্মৃতিরুপ রচিত চূড়া তার কূলে
হেঁটে যাওয়া অন্ধ দ্যোতনা
তোমারও বেজেছিল—সমদুঃখ বিষ্ময়
ছন্দ হাওয়ায় জেনেছি কীভাবে এঁকে
যাও
জীবন রোজগার, আরোও প্রয়োজন
গভীরে চেপে বুকে ঝুলে আছে দুর্ভিক্ষ বিহার
আমি সব আবরণ উন্মোচিত করে সহস্র কণা
আশাহত বিদগ্ধ- ধূসর
ক্যামোফ্লাজ
শীত মাখছি—শুক্লার বনে, চেনা মুখগুলো ঢেকে যায় কাঁপা কাঁপা কুয়াশার ক্যামোফ্লাজ
এত ঘোর অস্থির চোখ
কাঁপছে, বহুদিন দেখা হয় না— সঙ্গবিহীন
সময় যাচ্ছে আরও কঠিন, তোমাকে জানা হলো না, আজ বড়ো দুঃসময় যায়
টের পাই
অদ্ভুত তৃষ্ণা নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে তুমি
ফিরে এসে ছোঁয়ে যাও আমার আহত অবয়ব
ঘোরগ্রস্তযুগ
এমন অস্থির স্রোতে দহনে নামছে বোধ—
যেন এক মধুজ্যোৎস্নায় মাতোয়ারা সারারাত
যদিও বৃষ্টিতে মুখরিত হয়ে আছে সকল প্রত্ন- মিউজিয়াম—
দূর অতীত খুঁড়ে খুঁড়ে চোখ ঝাঁপসা হয়ে যায়
এই ঘোর অন্ধকার—আমি তার গোপন বাজারে মজুদ করছি অলীক মেঘের গহনা—
ওই হিশেব দানের অক্ষরে ফুঁসেওঠা আয়ু
পৃথিবীর জাদুবাস্তবতা ঘিরে কেউ জানালো না—
কোন চন্দ্রযানে আমাদের যন্ত্রযুগের মহার্ঘ আলো নিভে গেছে সেই কবে নশ্বর ধুলোয়
বিমুখতা
এক বিভৎস-বিষণ্ন কর্পুরে ক্রন্দন আসে
আমাকে ঘিরে রাখে জল
এইখানে কেউ আসবে না
নেশাধরা রাত্রি টলতে টলতে নামছে ঠান্ডা
মদের পেয়ালা, অস্হির
মগ্নতা …
শরীর ক্রমশ টানছে তোমাকে—
ফিরে এসো সুরার আগুন
আমার পিপাসা শঙ্কায়
পুনরুত্থানকাল
কত কৌতূহলে ক্ষমায় আজ মুচড়ে উঠছে মৌন প্রার্থনায়—কীভাবে মুগ্ধ করে রাখ
দূর প্রত্ন-বিহারে আগ্রহগুলো
সপ্তসমুদ্র বেয়ে অকাতরে হিম বুনে যাচ্ছে অনুকম্পহীন একাকী—
জলের আয়ুতে
অন্ধস্তবক
তৃষ্ণার্তেরা পান করে অন্ধকার, একাকিত্ব আমার নৈঃশব্দ্যে শিরা-উপশিরায় গান
অপরূপ শক্তি মাতাল
শিল্পীর মতো রড়ো অপরাজিত মনে হয়
এক দুর্বোধ্য অচেনা তাই নির্জনে সহস্র কথা বিস্তৃত অবসর, জাগে পত্রমেঘ
দ্বিধান্বিত
এত ঝিঁঝিঁগান আর ছাইবন ফেলে পৃথিবীর ক্ষীণ আয়ু নিয়ে এসেছি …
অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে জ্বেলে গুহা
আর সুড়ঙ্গ থেকে মাঘশীতে এই
কুয়াশাদিনে—
ধোঁয়াভর্তি পথে দ্বিধান্বিত সন্ন্যাস
বিষাদের পাশে নেমেছে অঝোর জল নীলাভধারা
জলশয়ানে ধেয়ে আসছে ভবঘুরে অপ্রস্তুত

জন্ম: ১৯৭৩ খ্রি: বীরগাঁও, সুনামগঞ্জ, বাংলাদেশ। বতর্মানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী। প্রকাশিত কবিতাবই: ‘ঘুগিভাব সঙ্গ’, ‘নগরমুসাফির ও মোনাজাত’ ও ‘একাকী, শব্দ নৈঃশব্দ্য’।