কার মিলন চাও বিরহী
আমায় ভালবাসে অন্নপূর্ণা মায়ের দর্শন,
আদিবাসী জঙ্গলে ছড়ানো ঘেটুগান,
কামে কামরাঙা মরিচে পুরুষের হারানো কোকিল
আমায় ভালবাসে চরফেরত শুটকিমাছের আমিষ ও কীটনাশক,
নির্বাচনী পোস্টারে ঢাকা টেরাকোটা,
তেরো পার্বণ পাহারা দেয়া সশীর্ষ গর্ভীণী ধান
আমায় ভালবাসে নোসা সেনোরা দ্য গ্রাসা দুর্গের গণরোষ,
পডকাস্টে এসে পর্ন তারকার কেঁদে ফেলা,
শিল্পের প্রতিটি চিহ্নে ভোগবাদকে সমালোচনার আভাস
একুশ শতকের তামাম প্যারাডক্স থেকে পালিয়ে
নীটশের এ্যাফোরিজমে লাফ দেয়া বেড়ালের মতো,
ভালবেসে তুমি সহজ রাষ্ট্র হলে না
সুড়ঙ্গ
দুমুখো সাপ ও ময়ূরশূন্য এই সুড়ঙ্গ আমি পছন্দ করি
এর কন্ট্রোল এজেন্ডা যে কী তা আমি জানি না
হয়তো নিরল প্রিনা জানে কেননা সে বিরহী সে অকাল্ট,
সে বারবার খাঁচায় ফিরে আসে পথের চিহ্ন মুছে
অতীত ও ভবিষ্যৎ তো এক বিন্দুতেই সিমুলেটেড, তাই না!
এই সুড়ঙ্গে ভয়ংকর প্রতীকের পুনর্বাসন করা গুহাচিত্র আমি
তোমার দৃষ্টিভঙ্গি আমি পছন্দ করি
চকোলেট
তোমার নগ্নতা ঘিরে আমার অনিবার্য ফ্যাসিবাদ উড়ছে
সাপুড়ে বলল, এ তো তমসা পুরাণের গোপন কবুতর,
বায়ো উইপেনের নিয়তি ছাড়া একে বশ মানানো কঠিন!
যদিও চকোলেটের লোভ দেখিয়ে তুমি
স্বপ্নে আমায় মুখস্থ করিয়েছ,
এ স্তন এক স্মৃতিসৌধ, জঙ্ঘায় চন্দ্রগ্রহণ, নিতম্ব সেতুজননী
এরা আসলে শ্যামের অগোচর!
বরং অবলোতিকেশ্বর হয়ে
তুমি আমার নগ্নতার মোম ও তৃণ পবিত্র করে তুলো
তোমার মগ্নতা ঘিরে আমার অনিবার্য মৃত্যুপাখিরা সেই থেকে উড়ছে
নাশকতার ভাষা
আসমানে রুমির আয়াত যেন,
ডুবোজলে সঙ্গীর শবজবা মুখে নিয়ে মাওবাদী নারীর এগোনো
যে আগুন মানুষ পোড়ায় নীল সাপের সঙ্গমের মতো,
তার হস্তক্ষেপে দেশকালাতীত হাওয়া কি চেয়েছে ক্ষমা?
অবন ঠাকুরের গদ্যে আমি বর্শাফলা ও ক্ষতিপূরণ
পাশাপাশি তর্কে মেতে উঠতে দেখেছি
ভগাঙ্কুর খৎনা হওয়া নারীর মিছিলে জানতে চেয়েছি,
পেশোয়াজ ও অবচেতনার মাঝে দূরত্ব কতটা?
ঝিনুকের নৌকায় আলেখ্যের ওপারে যেতে যেতে
তামাম ক্রসচিহ্নের নিচে রটিয়ে দিচ্ছি
পাতাল অবিনাশ সলিলকি নীল ভেরোনিকা
আঙড়া
শরীর থেকে তোমাদের হাড় খুলে নেব আমি,
তোমাদের স্বপ্ন থেকে ঘোড়া ও সৈনিকের হাড় খুলে নেব
সেই হাড়গুলো জোড়া দিয়ে পেরিয়ে যাব আনুনাকির প্রতিপত্তি,
অন্যফুল, নিয়তির শনিবার বা সারেঙ্গী
আমি মর্ষকামী নই, সূর্যাস্তের মনীষাও নই,
শিং-খাড়া কয়েকটি ভেড়ার তীব্রকুসুমও নই
আমি চেয়েছি, জাহাজা ভাঙার গল্পে
ইবলিশের চোখ থেকে উড়ে আসা মিনার্ভা বসুক
মানুষের শাল্মলীর নির্ভার ডালে
ডার্ক সিম্বলের উৎসবে আমি শূন্যের বাইরে
একককে নিয়ে আসতে চাইছি, তুমিও আয়ত্ব করো

বাংলা কবিতায় অমিত রেজা চৌধুরীর উত্থান নব্বইয়ের দশকে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে, বগুড়ায় বসবাস করেন। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা— বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিচরণ অবাধ। একসময় দেশের প্রথিতযশা লিটলম্যাগাজিনগুলোয় লিখেছেন নিয়মিত। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথেও ওতোপ্রোতোভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও সেই বিশ্বাস লালন করেন। কী এক অজ্ঞাত কারণে গদ্যরচনার জগৎ থেকে এখন অনেকটাই দূরে অবস্থান করেন। কোনো বই প্রকাশিত হয়নি।
