প্রিয়দর্শিনী—
উদ্ধত জেনেই ভালোবাসি— পাকানো জটের চুল
আউলা-ঝাউলা!
টিপ ছাড়া তুমি অন্য লোক; লোকের সুলতা জরি
অপর ধৃষ্টতা—
স্পর্ধিত ঠোঁটের বাক্! অবিনীত স্পর্শে… নাবালক
রঙের কামাল!
সুবর্ণ গ্রামের মধ্যম যামিনী হাসে ফিকফিক। তবু
অলীক পৃষ্ঠায়—
রাখি গর্বিত উগ্রতা! অমনিই দুনিয়ার সব লালরঙ
অজস্র, ফুটল!
স্লিভলেস ভঙ্গিমায় লেপ্টে আছো— অতি চেতনার
এক ধ্রুবতারা—
তখনই ঋতুস্রাবের চারদিকে… হরিতের পরাবৃত্ত!
সং-অসার
কালাই’র চাপড়ানো সন্ধ্যা! সন্ধ্যে’টা নিয়ানা, তবু
শোনাচ্ছে… আদুরি করতাল;
ভাসা-আশা কাসার ভেতর, সফরে রাখছি তারে,
তেঁতুল তলায়— মাখি ক্ষার।
মুখোশের অন্তরালে চলে… ফ্যালাসি’র যত ফণা
সেখানেই… টেস্ট, লিটমাস;
শীতল পাটির অন্ধকারে… আজও বিবাহ পুরাণে
শীতের বিছানা কাঁপে রাত।
ক্ষার ও ক্ষারকের বাইরে নেই কোনো ভেদাভেদ।
জীবন— তুমি, যাতনা কাল;
হাঁড়ি পাতিলের ঠোকাঠুকি। তবুও— সদাই করি
সিথানে ঘামের মিশ্র ঘ্রাণ।
দু’লাইন বৃষ্টির পোর্ট্রেট—
বৃষ্টিফোটা রাতে বিষণ্নতার ঝরনা; আদিগন্ত কারুকাজ
ঘুম আর নুন ছাড়াও বিয়োগ ব্যথা। কিন্তু তুমি ছাড়া—
সকল ব্যস্ততা তোমাকেই ঘিরে… আমার, হ্যাঁ বলা; ও
না, বলার অপেক্ষায়! এ— মন, এমনতর তড়িতাহত!
দিগম্বর দিঘির ছোঁয়ায়!
ফিরিয়ে দিয়েছ, যত___কাছে কাছে থেকেছি, ততই…
পা আর নূপুর ব্যবধানে…
আলো দিতে গিয়ে যেটুকুন গলে মোম; তার ধার নেই,
পরিশোধের আশায়।
ছিপছিপে নিমজ্জডানায়— শত সন্ন্যাসীর পালিতনগরে
ব্যস্ত; মলাটের পেন্সিলেই আঁকা, তার-ই পোর্ট্রেট ছায়া।
অ্যানিলক্স রোলার
স্যুটকেসের… ভেতর, জমানো গোপন চিঠি
আজ একাকী হাওয়ায়—
খুলে দেখি শুকনো পাতার ঘ্রাণ; মচমচে…!
বিবর্ণ অক্ষর ছুটে গেছে… ছাপার কলে-ই;
আর তুমি Earendel Park থেকে… দূরে।
শূন্য স্যুটকেস জুড়ে… বিয়োগান্ত হাহাকার
চিঠির প্রতিটি পৃষ্ঠা—
প্লেটে… প্লেটে… রাখা, অক্ষরের আয়োজন।
প্রাচীন কলস
ঠোঁটকাটা মুক্তাঙ্গন— বাউলের দোতারার তারে
শর্তহীন পড়ে আছে… পানাম-নগর— শুষ্ক হ্রদ!
অজন্তা ইলোরা— ছায়া-মায়া প্রায় উর্বর জমির
শরীরের কেন্দ্রে ভর; দোফসলি দাগে জরা ক্ষয়।
অতীতের নাভিমূল থেকে তুলোপেঁজা কুয়াশায়—
কখন আসবে তুঁহু— বিকেলের রঙ মুছে গেলে
খরস্রোতা নদী জানে, কত পলি বয়ে নিয়ে যায়?
জানে না জলের গান; জানে শুধু একা বাউলিয়া।
ইথারে জমানো ব্যথা মুক্তাঙ্গন থেকে ছুটে আসে,
ঠোঁটরাঙা দুটি প্রাণে… গোপনতিয়াস মেলে ধরে
নিঃসাড়, নিঃশব্দ— স্বতঃব্যঞ্জনার অনন্ত বিহারে…
ব্লাউজের হুক— খুলে বসে আছে প্রাচীন কলস!
বেদনার অবশিষ্ট রুমাল
পিঠ থেকে কাপড়— সরিয়ে নিলে… থকথকে
যে ঘা, আজন্ম পালছি—
ঘুমন্ত শহরে সেই আঘাত বে-আব্রু করো না।
ক’দিন যাবৎ— যে ধকল, কর্কট রোগীর মতো
বয়ে বেড়াচ্ছি একাই।
ভাগীদার হতে চায় না কেউই, তামাম বিস্ময়ে
সরিয়ে ফেলেছি তার পাতলা তোয়াল। দিয়েছি
ঝরতে… লালাভ ঘাম— ওম!
উড়িয়ে দিয়েছি, শোক— গ্রাভিটির ওই পাড়ে।
নানাবিধস্রোতে… ভিজে ওঠা অদৃশ্য কুয়াশা—
তবুও ভূ-ধূলি—
নিঃস্পৃহ সূর্যকে নিয়ে আসে; কিছু না জানিয়ে।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি’চ্ছটায়— ভেজারুমালের কিছু
দুঃখ— অবশিষ্ট রয়ে যায়, শুকনো আকাশেই।
শারমিন
নম্রতা— উঠোন থেকে…
সন্ধ্যার কার্নিশে… উঁকি দিয়ে চলে গেলে!
প্রশান্তিসময় হলে… এসো—
পূর্ণিমার ছায়ায়— পালানো পানাম নগর!
পুরাকীর্তির মতোই— কীর্তিমান থেকো, এ
অধিকার ও অনধিকার
রূঢ়বাস্তব শহরে…
নম্রতা— এখন খুববেশি প্রয়োজন, লাজ।
এই অস্থির, উদ্বিগ্ন
সময়ের চাকা— গড়িয়ে/ফাড়িয়ে চলমান
অচিন্ত্যনগর! তুমি—
শালীন’কে… আরও তীক্ষ্ণ মর্যাদার রোদে
শুকিয়ে… শুকিয়ে বাও—
খাণ্ডবদহের পোড়াদহে… হিমাদ্রি বাতাস।
সাবরিনা
সহনশীলতার কুয়াশা— মোড়ক খুলছে
একটু একটু করে… আর
সহিষ্ণুতার প্রদীপ। নক্ষত্রের দ্বীপজলে
শীতলতার গভীর ঘুম। নিজকে পুড়িয়ে
সোনারনাওয়ে সহযাত্রী
প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত নিবন্ধনের জলসা।
দুটি মাঘ পার করছি— নক্ষত্রের পার্শ্বে
আরও কিছু মাঘ
থাকব আমরা— প্রেমপূর্ণ পানাম শহর
ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতায়, আবর্তিত যত গ্রহ!
শীতলক্ষ্যার সরোজে
নক্ষত্রসমান দিন ফুরোবে না, সাবরিনা।
মৃত্যুর ক্যাপচার
৯৮ এর অংশ আমি, তুমি— বাড়াতেই পার
১১৮! হয়ত বা আরও…
পার্টিকেল অ্যাক্সিলারেটরে অর্থপূর্ণ দুটিশব্দ
জন্ম ও মৃত্যুর—
সংঘর্ষ ঘটিয়ে…
যা-ই হতে চাও— শেষমেষ বুঝতে পারি না!
খুঁজে পাচ্ছ না! সময়— পরম এবং ধ্রুবক!
মানুষ— গতির
কাছে… প্রতিদিন
মৃত্যুর ক্যাপচারে-ই… খুলে রাখছে, অস্থির।
সূর্য দীঘল বাড়ি
রাত কালা হয়া গ্যালে ব্লাক রোজ হাতে
সোনালু লতায় ঝুলে থাকে…
থোকা থোকা ভুল
টিনের পুরোনো চাল, সবটুকু অন্ধকারে
রসুইঘরের পাশ দিয়ে…
হেঁটে হেঁটে নেমে যায়, চৈত্রের মেহগনি
তবু বসে আছি একা
পাটখড়ির বেড়ায় লতানো শীমের বীজে
একান্তে ঘুমিয়ে আছে…
‘সূর্য দীঘল বাড়ি’

জন্ম ১৯৭২, ১লা মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। বাবা: আবদুর রহমান (ফার্মাসিস্ট) , মা: খোদেজা বেগম। গ্রাম: প্রিয়কাটি, পোস্ট: কনেশ্বর, থানা: ডামুড্যা, জেলা: শরীয়তপুর। প্রিয়: কবিতা এবং কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ।
ঋজু রেজওয়ানের প্রকাশিত বইসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: • জ্যা~মন নাচমিতি এবং জলপ্রহর (কাব্যগ্রন্থ), • সুখ + মানুষ = জামা > গিলোটিন (কাব্যগ্রন্থ), • বিপ্রতীপতা (±) হাইটেক বাই ফোকাল (কাব্যগ্রন্থ), • অন্তর[বর্তী] গণিতার √ফেরোমন (কাব্যগ্রন্থ), • চতুর্ভূজ 🎵 বাজাচ্ছে—শরীরে… ভাবৎ(কাব্যগ্রন্থ)। সম্পাদনা : ছন্দ কবিতার অনুশীলন।