শুক্রবার, মে ২২

টেবিলের ওপর একা এক গ্লাস

0

টেবিলের ওপর একা এক গ্লাস


তোমার দুঃখ নিয়ে তুমি বাঁচো
এই প্রার্থনা করি

একেকটা দাগ একেকটা রাস্তার প্রতি
অনুরাগ দেখায়
আর এটা সত্যি যে টেবিলের ওপর যখন কোন গ্লাস
একা পড়ে থাকে
একা
আর খালি
তখন যে কেউ সন্দেহ করবে

তবু এমন একজন থাকে যার ঘর বৃষ্টিতে ভেজে
সে
দাঁড়াবার রাস্তা খোঁজে কোথাও
কোন দুàখের নিচে
বসতে চায়
তার রয়েছে
করতলে কয়েকটা মাত্র বৃষ্টির ফোঁটা


দুপুরের কাক


প্রতিদিন দুপুরে আমার বাড়ির দোতলার ব্যালকনিতে
তিনটে কাক এসে বসে

তিনটে কেন
এই প্রশ্ন নিজেকে আমি করি

ওদের আমি খেতে দিই
ওরা খায় একদমই চেঁচামেচি করে না

কেন চেঁচামেচি করে না
আমি বিস্মিত হই আর কিছুটা আতঙ্কিত

ওদেরকে আমি ডাকি ওরা কথা বলে না
এমন কি ওরা নিজেদের ভিতরও কথা বলে না

এইটা কেন
আমার কি আরও সতর্ক হওয়া দরকার


ইনভেস্টিগেশান


যা কিছু কিংবদন্তী আর খোদাইকরা ছিল তা আর নেই
তাতে সংশয়
আর ক্লাসিক এপিটাফের ওপর মাকড়শার বিষ
আর হেমন্তের শুরুতে যুবশালিখের ব্যভিচার
আর আবছা নুনমেঘ
এখন দয়া করে আপনার মুখ বন্ধ রাখুন
আমরা আপনাকে দেখতে চাইছি
বুঝতে চাইছি
আপনার অতীত বর্তমান এমন কি ভবিষ্যৎও
আমরা চাইছি আয়ত্বে আনতে
আপনি কথা বললে আমরা আপনার কথা বুঝবো কীভাবে


মেয়েটি জানে না


এক জীবনে কোনো মেয়েকে সম্পূর্ণভাবে ভালোবাসতে পারা সম্ভব না
হয়তো আপনি ভালোবাসলেন
ওর চোখ যা এইমাত্র বেসিনের জলে ধুয়ে আনা
ওর পায়ের পাতা
‘কোথায় যাবো, কখন যাবো, কীভাবে যাবো’ —এইসব প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে
যা দ্বিধান্বিত
অথবা ওর সমস্ত ‘না’
যা হোক
সম্পূর্ণভাবে ওকে আপনি ভালোবাসতে পারবেন না
কেন না কোনো মেয়ের স্বতন্ত্র সত্তার কাছে পৌঁছানো
কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না
আর এই ‘স্বতন্ত্র সত্তা’ কী
সেটা তো আপনি জানেন না
হ্যাঁ
প্রশ্ন করুন ঐ মেয়েটিও জানে না


শ্মশানের চিঠি


দশটি বছর হলো তোমার শ্মশানে আমি শুয়ে আছি অবিবেচকের মতো
রাতের রহস্যময় পিরামিড পাশে রেখে
কুয়াশাকাতর শেয়ালেরা সরস্বতী কুণ্ডীর পাশে ঘুরে ঘুরে গল্প বলে
অন্য সময়ের অন্য দিগন্তের যা তোমার জানা
অস্পষ্ট রেখেছো কেবল আমাকে, যেন তোমাদের আগুন-কুয়োয়
হাত না ডোবাই

তোমার শ্মশান আমার ঘরের কাছে

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম: ২৭ অক্টোবর, ১৯৭৮। এলাংগী, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ। বাংলা কবিতায় Tea Poetry Movement এর উশকানিদাতা। কাব্যগ্রন্থসমূহ: ‘ছাই’ (২০০৫), ‘দেয়ালে লেখা কবিতা, (২০০৮), ‘রাস্তার জোনাকি’ (২০১৩), ‘ইবলিস’ (২০১৭), ‘চুপ’ (২০১৭), ‘মারাঠা মুনমুন আগরবাতি’ (২০১৮), ‘মাতাহারি’ (২০২০), ‘টি পোয়েট্রি’ (২০২০), ‘সরকারি কবিতা’ (২০২১), ‘হংকঙের মেয়েরা’ (২০২২), ‘আগুন’ (২০২৪), ‘চা কফি আর জেনারেল কানেকটিভিটি’ (২০২৪), ‘সন্ধ্যায় তিমিমাছ’ (২০২৫) ও ‘এশিয়ার ছাই’ (২০২৫)। প্রবন্ধগ্রন্থ: ‘কবির কুয়াশা’ (২০২৫)।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।