১.
এমন উপস্থিতি তোমার
না খুলতে পারি দরজা-জানালা
না লিখতে পারি কবিতা
২.
এই পৃথিবীতে
সত্যের মতো
চেয়ে আছি তোমার দিকে
৩.
পরাজিত হব ভয়ে
এই নদী-বিলের দেশে
তোমাকে জড়িয়ে লিখতে হচ্ছে কবিতা পঙ্ক্তি গান
৪.
চৈতন্য দুপুরে হাঁটতে হবে
তাই মুহুরির পাড়ে গেলাম
মৃদুকম্পনে ভাসছে ছিটা ছিটা বরুণ ফুল
অথচ আগেই আমি বরুণে হয়ে আছি উত্তপ্ত
৫.
বাড়তে বাড়তে কবিতা হয়ে গেছো তুমি
এই অযান্ত্রিক জীবন
বিনীত তোমার কেরোসিন উজ্জ্বলতা
আর কাজে আসবে না জানি
৬.
আমার মন একটা পাথর
দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সুখে
আঁতকে উঠি না
৭.
নিজেকে ভাঙতে গিয়ে দেখি
সূচনায় পৌঁছে গেছে তোমার অনুপস্থিতি
৮.
এক নজর তৃষ্ণা মেটাতে
পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছে
তোমার ঠোঁটের বদলে শত শত মটকিলা
৯.
তুমি আমি সমান্তরাল সরলরেখা
একই দিকে যাচ্ছি
কিনতু কোনো ধারে দেখা হওয়ার ধারণাবিন্দু রাখি না
১০.
বন গেছে সমুদ্রের দিকে
আর এখানে আমি— জঙ্গলের ঘনত্ব মাপবার
সর্বাধিক আয়োজন করি
১১.
কোন দিকে মানুষের হাট
ওইদিকে আমি যাই
অথচ নিরুদ্দেশ চূড়ান্ত করে তুমি
বারবার আটকে দিচ্ছো আমার গন্তব্য
১২.
অন্ধকারের শেষে পৃথিবী পায় আলো
অথচ দ্যাখো আমার জন্য আছে নিঃসঙ্গতা
১৩.
যত আসুক তিসি, রাই সরিষা কিংবা হাড়জোড়ার ঘ্রাণ
তুমি কিনতু তোমার সুগন্ধ বদল করে রেখেছো
ভাঁটফুলের গ্রীবায়
১৪.
যে সান্ত্বনায়—সূর্যমুখীর বুকে প্রতিভাপাহাড় আঁকি
তুমি তার উচ্চতায় তিক্ত করে রাখো রক্তদ্রোণ
১৫.
বসন্তের ওই লাল বিকালের আগে
দেখি— ঝরে গেছে পাতার বসন্ত
তোমার প্রস্থানের দিকে
১৬.
গাছের নিচে নিশ্বাস ফেলতে গেলে
আরেকটা ভারসাম্যপূর্ণ নিশ্বাস উত্তরদিকে ঝরে পড়ে
তোমার বাতাসে
১৭.
তুমি প্রাণহরা শূন্য কোকিল
পাহাড়ের উপরিভাগ আড়াল করে খুঁজি
যাতে আমাকে দেখতে পাও
১৮.
স্থির এবং নিঃশব্দ চিত্রকে আলিঙ্গন করি আমি
এরজন্য
সহজ ও সুন্দরের কাছে তোমার সন্তুষ্ট হওয়া উচিত
১৯.
চুরমার আর ক্ষণিক সমুদ্রের অনুভূতি
সকলের জীবিতকাল তুমি
২০.
তোমার কাছে পৌঁছাবার
আমার হাতে আর সময় নেই
আছে কেবল রক্তথুতুগাঁথা ব্যস্ত সময়সূচি
২১.
এবং এটা যেন তোমার কাছে
নামকরণের আগে বিলুপ্ত হওয়া নতুন এক মোড়ক
যাকে আমি প্রতি রাতের সাঁতারের তুলি
২২.
পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বুঝেছি
এটাই হবে যথেষ্ট
তোমার নিশ্বাস ধরার জন্য
২৩.
এবং পৃথিবীতে এমন কিছু পাওয়ার নেই
যা তোমার কাছাকাছি আসতে পারে
তাই তুমি চলে গেলে
সূর্যের দিকে ফিরে যেতে আলো ম্লান হয়ে ওঠে
২৪.
কেউ ডেকো না আমায়
যেখানটায় আমি থাকি— তাঁর পুরো আকাশ
কৃষ্ণচূঁড়ার সমান রক্তাক্ত করেছে সে
২৫.
(ছেড়ে বনের আয়ুতে গেলো সে)
কিনতু তার হাত ধরার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি
অঙ্গভঙ্গি কিংবা সন্ধ্যামালতি ফুটবার জন্য নয়
২৬.
রামডালু ফুল নিয়ে যাচ্ছিলাম তোমার লাইনে
দ্যাখো ঝরে পড়ছে মেঘের নিরুদ্দেশে
কিংবা চুলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাঠের দিকে
২৭.
ঢেউ থেকে দূরে তোমার ঈঙ্গিতপূর্ণ সমাবেশ নিয়ে
পাথরে পাথর বিছিয়েছি
কারণ আমাদের আকাশ অবরুদ্ধ
২৮.
সেলুলার নির্ভর সরল উদ্ঘাটন বজায় নিয়ে আছি
অথচ যতবার তোমার হাতের তালুতে তাকাই
ততবার দ্বিবিভক্ত হয়ে আসে আমার মুখ
২৯.
প্রতিসরণ একটি চির-পরিবর্তনশীল আলোর মাধ্যম
যা তোমার থেকে আমার ভিতর প্রবেশের সময়
আমাদের সরল-রৈখিক দিক পরিবর্তন করে দিয়েছে
৩০.
আমার পঁয়ত্রিশ বছরের সে কাজগুলোকে ঘৃণা করো
যেগুলো তোমার কাছে সমুদ্রে যাওয়া আগে
একটি অলৌকিক ঘটনা
৩১.
চিৎকার করছি
আর কাঁদছি
মানুষের মতো নিয়মিতভাবে তর্কে
অন্য ভাষায় গ্রীষ্মপ্রেমের প্রত্যাবর্তন বোঝানোর জন্য

কবিতা চর্চা করেন। সম্পাদনা করেন ‘হারপুন’ নামের একটি সাহিত্য পত্রিকা।