বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮

একটি বেসামরিক উড্ডয়ন সম্পর্কে : সোহরাব ইফরান

0

পলাশীর তুমি


মায়াতীত হলো, কায়াকে ত্যাগের দিনে;
মীন বলিলেন, ব্যবিলনে উদ্যান ছিলাম।
এখন বেতার বা ট্রাঞ্জিষ্টার, ডোরকাঁটা আয়না।
রাখো বর্ণের পাঁচালী, অবাক জল এমনিতেই!
স্বভাব জেনো, কান্তাহরিতা এই উজ্জ্বল সন্তানকে।
তুর্কী তসবিহ; বলখী ইঞ্জিন, লেখেছে কবিতা।
হায় জাগার সাথী; কণিকা চূড়া বিজয়।
পথের বাঁকে মিলিয়ে রাখে তিনি কলমিলতা।
‘অ্যান্ড ইউ আর লাভড বাই দি ইনফিনিটি হুএভার
ইউ আর!


একটি বেসামরিক উড্ডয়ন সম্পর্কে


ক্রীতদাস পরিচয় মুছে যাবার পরে, দুই মিনিট পর পর হাতে-পায়ে-হার্টে এসে বটের ছায়া পড়ে। যাদের ভালো লাগে শুনিয়ে বিস্মিত হয়েছি আমি, আগে ওরা দেবতা ছিল! তিন মাস দ্রৌপদীরে নয় মাস বিরহ সংগীত পাঠাতে নারাজ, এক বালক পিণ্ড। পৌনে চার বছর ধরে বলছে, ‘ঈদে পাঠিয়ে দাও কাকা খুশি হই’—। গোরস্থান আর গৃহের মধ্যে যে সুরঙ্গ; এর মধ্যেই বুঝতে পারি না; কখন জহরত কিনতে চাইবেন রানিমাতা। দোদুল্যমান মাছ নিয়ে বাসায় এসে দেখি, মস্ত দাঁ—কপোতী হয়ে বসে আছে দরজার ওপাশে। আমি চলে যা-ই শতচ্ছিন্ন শাকের চিন্তায়। ওদিকে সূর্য ঢাকা পড়ে মহিষ চরণে। অনিবার্য সূচনাতেই চন্দ্রযান সর্বমোট নয় টুকরো হলো।


পদ্মের সূর্যমুখীতা


তপস্বীরা নাই এখানে, একদল তৃণ আকাশমুখী।
ভেসে আসছে গহীন থেকে জলসিঁড়ি, যেহেতু
কৃষাণীরা ঘুমিয়ে পড়েছে রাতে। পাথরের টুকরো
ফেলে যেমন পান করছে কাক, তেমনি সূর্যটা
হয়তো—পদ্ম ফলায় হৃদয়ে। তৃষ্ণাতুর মহিষের
মতো ঘোলাটে অবস্থা মনের, পুকুরের শিয়রে
নিজের দেহ থেকে রক্তাক্ত শামুক খুলে নিচ্ছে না ।
এ উপহার অমূল্য মনে করে, প্রস্তরকেন্দ্রীক দুপুরের
বাড়ি ভেঙে আবারও ছুটছে মহিষ। প্রাণোচ্ছল বালিয়ারি
ভালোবেসে; ভালোবেসেছিল!


তোতাক্রিয়া


শেষ রাত্রে একটা পাখি কীটের জন্য অনেকক্ষণ ডাকল। ডাকের এমন আত্ননাশা মিষ্টি আওয়াজ যে, আমাকে মমি হতেই হলো। জানি না সে পাখি, পেল নাকি কীটের কোনো কিছু! সঘন বা অন্তরীণ লবণ জমেছিল পিরামিডের মতোন ঘরে৷ শরীর ভরা প্রজাপতি ও দু-পা ভর্তি বেড়ালে। তুমি কে হে, ডাকলে এমন অনল অহংকারে? মরণ উপায় আছিল কি সতত প্রচেষ্টাতে? জিয়াইলা দুনিয়ার সবচেয়ে কোমল স্বারসে!


মৃত ঘোড়ার আবির্ভাব


যোগীগন হালকা ভাবে নিলেন;
আমি অশ্ব-অশ্রু ইয়েমেন ততক্ষণে।
অন্নলাজ; দিবাতৃষ্ণা বিদীর্ণ বিদ্যুৎ লয়ে
যাকে প্রয়োজন নেই, তাকে নিলাম।
মরুবক সুন্দরীরা মিশ্র আবীরে গ্রহণ করে
নিদ্রার খড়কুটো। কিন্তু ঘোড়া চায় যোদ্ধাবাহু!
মুস্তফি চেনা শহর; সিংহভাগ সংক্রামণ।
পরাগ দীর্ঘ ছন্দে ছোটে—গুরুরত্ন খুর অদূরে ।
নুরনামার মতো রেকাবি পেরিয়ে; হ্রদচন্দ্র;
সেখানে জ্যোতি; কারো দুঃখ বলে, কেন
ভ্রম হয়? সর্ববীর বাণ; বন্ধনমুক্ত নকশারা
ভাসিয়ে তোলে সাক্ষাৎ কার্পেট। নৃপতিরা
হতোদ্যম পাশা খেলা ভোলে; তুষ্ট হৌক।
ফিরাও বদন, ধূয়াশ্রয়ী হে ঘোড়া—মনোহর
ইংগিতে মার্জনাপ্রাপ্ত মঞ্জুরী—তুমি কার
বাগানে আজ্ঞা দিলা তারে? আতীব, নেত্রিয়া
তেত্রিশটি ঘোড়া ছিল। বেদুঈন ছিল বিশুদ্ধ।
ওসিয়ত করে হাজারের বেশি, বাগানে ফুল।
অথচ ঘোড়া চায়, যোদ্ধাবাহু। সাক্ষাৎ কার্পেট—
মুস্তফি চেনা শহর; সিংহভাগ সংক্রমণ!

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

কবি ও গদ্যকার। জন্ম:২২শে নভেম্বর ১৯৮৯। প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ : 'দীর্ঘ দিঘির বর্ণনা', প্রকাশনী বোধ। প্রকাশিতব্য দ্বিতিয় কাব্যগ্রন্থ : 'বুদ্ধনীল বিকাল'।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।