সোমবার, জুলাই ৪

‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ আমার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছিল: নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী

0

Nawazuddin Siddique

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া কিছু নেই। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই শক্তিমান অভিনেতার জন্ম ১৯ মে ১৯৭৪ সালে। অসংখ্য চলচ্চিত্রে বিচিত্র ধরনের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে; ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ (২০০৪), ‘নিউ ইয়র্ক’ (২০০৯), ‘পিপলি লাইভ’ (২০১০), ‘কাহানি’ (২০১২), ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ (২০১২), ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর-২য় পর্ব’ (২০১২), ‘মানঝি’ (২০১৩), ‘তালাশ’ (২০১২), ‘বদলাপুর’ (২০১৫), ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ (২০১৫), ‘মাঝি—দ্য মাউনটেন ম্যান’ (২০১৫) এবং ‘মান্টো’ (২০১৮),।

সিনেমার চরিত্র নিয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করতে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী কখনোই পিছ পা হননি। বরং প্রত্যেকবার জয় করে নিয়েছেন দর্শকের মন। তিনি এখন রোম্যান্টিক গানের ভিডিওতেও নিজের প্রতিভা মেলে ধরছেন। টাইমস পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী তার গানের প্রতি ভালোবাসা, নতুন চরিত্রের প্রতিকূলতাসহ ইন্ড্রাস্টিতে তার দীর্ঘ পথচলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। শ্রী-র পাঠকদের জন্য তা অনুবাদ করেছেন সাদিয়া মেহজাবিন


প্রশ্ন: নতুন চরিত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ হোক বা ভক্তদেরকে বিস্মিত করা, আপনি কখনো পিছিয়ে যাননি, কিভাবে সবকিছু চালিয়ে নিয়েছেন?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: আমি যদি একজন সাধারণ বলিউড অভিনেতার মতোই সব কিছু চালিয়ে নিতাম তাহলে হয়তো একদিন নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। নতুন কিছু করার পেছনে এটাও অন্যতম একটি কারণ। নিজের আরামদায়ক পরিবেশ থেকে বের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও আমার জন্যে বেশ জরুরি ছিল। আমার নেওয়া পদক্ষেপ হয়তো সফল হবে বা হবে না কিন্তু এটি আমার কাছে মোটেও মূখ্য ছিল না। কেবল ভালো চরিত্রের সাথেই থাকব তা নয়, নেতিবাচক বা অন্ধকার সে দশাও আমি পছন্দ করি। যেখানে বিশাল সুযোগ এবং সুফল রয়েছে। যখন আমি ‘মান্টো’র মতো সিনেমা করেছি, তখন আমি ‘ঠাকরে’র মতো সিনেমাও করেছি। সামনে আমার আরও সিনেমা আসছে যেখানে, আমি আমার রোম্যান্টিক দিকটি জাহির করব। রোম্যান্টিক গানটি ইতোমধ্যে আমাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছে। আমার ভক্তরাও এটি পছন্দ করেছেন এবং তাদের অগাধ ভালোবাসা জানিয়েছেন।


নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ১

গ্যাংস অব ওয়াসিপুর-এর দৃশ্যে নওয়াউদ্দিন


প্রশ্ন: বলিউডে এখন অব্দি এই দীর্ঘ পথচলাকে কিভাবে দেখছেন?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: আমি মনে করি এখন পর্যন্ত বলিউডের যাত্রা খবই আকর্ষণীয় ছিল আমার জন্যে। এ জায়গা তৈরি করতে আমার অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি। আমি কখনোই আমার ক্যারিয়ার নিয়ে অভিযোগ করতে পারি না কেননা এই শিল্পটি আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দিয়েছে। তাই এখন অব্দি আমার যাত্রা চমৎকার।

 

প্রশ্ন: আপনার মতে, কোন সিনেমাটি আপনার জীবন সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: আমি বিশ্বাস করি সব সিনেমাই কোনা না কোনোভাবে আপনার জীবন বদলে দেয়। যদি যেকোনো একটি সিনেমা বাছাই করতে হয়, আমি অবশ্যই বলবো ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ আমার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছিল। এছাড়াও এমন অনেক সিনেমা আছে, যেগুলো থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি যে চরিত্রেই অভিনয় করি না কেন, আমি তার জীবন এবং ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারি। সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করার অন্যতম সুবিধা এটি।


নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ২

গ্যাংস অব ওয়াসিপুর-এর দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে নওয়াউদ্দিন


প্রশ্ন: একজন অভিনেতা হওয়ার সবচেয়ে ভালো ও মন্দ দিক কোনটি?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: সবচেয়ে ভালো দিক, আপনি সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে একই সাথে বৈচিত্র্যময় অনেক চরিত্রে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছেন। আর অভিনেতা হওয়ার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, একটি সিনেমা এবং যে চরিত্রটিতে আপনি কাজ করছিলেন তা শেষ করার পরে, আপনার জীবন থেকেও তার সাথে জড়িত অনেক কিছুই চলে যায়। একজন অভিনেতা হওয়া মূলত একটি খালি পাত্রের মতোই। আপনি যখন যে চরিত্রে অভিনয় করছেন, তখন তার চিন্তাভাবনা দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এরপর সিনেমার শ্যুটিং শেষে আপনাকে ফের নিজেকে শূন্য করে দিতে হবে। আমি জানি এই কাজটি খবু নির্মম, কিন্তু যদি এটি না করেন তাহলে কখনোই নতুন চরিত্রের জন্যে জায়গা তৈরি করতে পারবেন না।

 

প্রশ্ন: ‘বারিশ কে যেয়ে’ তে আপনার উপস্থিতি বেশ সতেজ ছিল। গানের ভিডিওটির জন্যে কি ধরণের প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: এটি সত্যি আমার জন্যেও বেশ সতেজতায় ভরা ছিল কেননা আমি এর আগে কখনোই ‘পিউর রোম্যান্টিক’ গানের চেষ্টা করিনি। গানে আমার আর সুনন্দা(শর্মা)র রসায়নও অসাধারণ ছিল। সকলের কাছ থেকে নেতিবাচক সাড়া পাচ্ছি, সাথে এর দর্শক ‘ভিউ’ ও বেশ বাড়ছে। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পেরেছি, সম্ভবত আমার ভক্তরা আমাকে রোম্যান্টিক অবতারে দেখতে চাচ্ছে। আমি আশা করি, পরের কাজগুলোতে আবার সেই রোম্যান্টিক আন্দাজ সচলভাবে আনতে পারব।


দ্য মাউনটেন ম্যান ২

‘দ্য মাউনটেন ম্যান’ চলচ্চিত্রের দৃশ্যে রাধিকা আপ্টে ও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী


প্রশ্ন: আপনি গানের প্রতি কেন আকৃষ্ট হয়েছিলেন?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: জ্যানির লেখায় অরবিন্দ্র খাইরার পরিচালনায়, গানটি গেয়েছিলেন বি.প্র্যাক। এ মানুষগুলোর উপস্থিতি আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। আর অবশ্যই এই গানে গল্প বলার ধরন অনন্য। আমরা পিছনের গল্পগুলো দিয়ে তাদের চরিত্রের মাধ্যমে খুব সুন্দর রসায়ন তৈরি করতে সফল হয়েছি।

 

প্রশ্ন: গানের শ্যুটিং এর সময়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: এটি একটি রোম্যান্টিক প্রেমের গল্প, তাই শ্যুটিং এর সম্পূর্ণ সময়টাতে আমি সেই মেজাজেই ছিলাম। শ্যুটিংয়ের আবেশটাও বেশ দারুণ ছিল। আপনি যখন সুন্দর মানুষদের সাথে, একটি সুন্দর পরিবেশে থাকেন তখন আপনার ভেতর থেকেই সেরা কাজটা দেওয়ার প্রবণতা থাকবে। তাই সে রসায়নটাও খুব স্বাভাবিকভাবে পর্দায় আসে। আমরা হায়দ্রাবাদে শ্যুটিং করেছি এবং আসলেই এটি দারুণ ছিল।

 

প্রশ্ন: সুনন্দা শর্মার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: সুনন্দার সরলতা, কম লোকের ভেতরই দেখা যায়। আমি এমন খুব কম লোকের সাথে কাজ করেছি যাদের ভেতর এই গুণটি আছে। সে অবশ্যই তাদের মধ্যে একজন। সে তার অভিনয়ের ক্ষেত্রে খবুই সৎ, যা আমার জন্যে ‘রিফ্রেশিং’ ছিল। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে মুগ্ধ করে।


নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী _বারিস কে যায়ে ২

‘বারিস কে যায়ে’ মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যে সুনন্দা শর্মা ও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী


প্রশ্ন: শ্যুটিং সেট থেকে কোনো স্মরণীয় ঘটনা…?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: জ্যানি আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, আমি গানে নাচতে পারব না। আমি অনেকবার অনুশীলন করেছি এবং পরে নাচতে সক্ষমও হয়েছিলাম। এই কাজটা মোটেও কঠিন ছিল না কিন্তু মূলত নির্মাতা চেয়েছিলেন ক্যামেরার সামনে আসার আগে আমি একটু অনুশীলন করি যেন তা পর্দায় মসৃণ দেখায়। আমি পরে জ্যানিকেই নাচতে চ্যালেঞ্জ করি কিন্তু সে পারেনি (হাসি…) । আমি অনেক খুশি ছিলাম যে আমি এটা করতে পেরেছি।

 

প্রশ্ন: বি. প্র্যাক সম্প্রতি তার ‘তেরি মিট্টি’ গানের জন্যে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এই গানে তার সাথে ‘লিপ সিঙ্কিং’ করে কেমন লাগছে?

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী: বি.প্র্যাকের সাথে ‘লিপ সিংক’ করা বেশ কঠিন। তিনি যে অনুভবে গানটা গেয়েছেন তার সাথে তাল রেখে অনুকরণ করা বেশ জটিলই। এটা বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তোলাও চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি মনে করি তার কণ্ঠে যে মায়া আছে তা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই, তবে তার জাতীয় পুরস্কার পাওয়াতে আমি মোটেও বিস্মিত না। আমি মনে করি, তার নিজের কণ্ঠকে প্রমাণ করতে কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন নেই।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। একটি জাতীয় দৈনিকে খণ্ডকালীন প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নানান পত্রিকা, সাময়িকী ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত লেখালেখি করছেন। নানামূখী বিষয়ে লেখালেখির আগ্রহ থাকলেও নারী অধিকার, সাক্ষাৎকার ও বইপর্যালোচনা নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করে চলেছেন।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।