শনিবার, অক্টোবর ৮

জনশুমারির পর চওরা গ্রামে নৌকা ভিড়বে না : রুমা মোদক

0

১.
ডোরবেল বাজলে নিস্তব্ধ ঘরে যেন একটা তরঙ্গ ওঠে। রাত জুড়ে জড়ো করা নিস্তব্ধ দৃঢ়তা হঠাৎ হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়া কাচের গ্লাসের মতো খান খান ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই মুহূর্তে কারো সাথে দেখা করা মানে অযাচিত চাপে পড়া। তারা কে কী বলবে, তৃষা কী বলবে সব সমীকরণ মিলানো তবু এদের কথায় নিজের ভেতরে দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্বের পুনরুজ্জীবন ঘটে, আবার তাকে জয় করে দৃঢ়তর হওয়ার চাপ বাড়ে।

রাতেই ঠিক করে ঘুমিয়েছিল তৃষা, আজ কোর্টে হাজিরা দেওয়ার আগ পর্যন্ত কারো সাথেই দেখা করবে না। মোবাইলের ঘড়িতে আটটা। ভোর আর সকালের সন্ধিতে একটা সংজ্ঞাহীন বেলা। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে উঠতি রোদ ঘরে গলে গলে পড়ছে চোরাগোপ্তা হামলার মতো।

কোর্টে যেতে হবে ১১ টার দিকে। এখন ডোরবেল ঘুমটা না ভাঙিয়ে দিলে আরও ঘণ্টাদুয়েক নির্বিঘ্নে ঘুমানো যেত।

দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ। যেই আসুক বাসায় কেউ নেই ভেবে ডোরবেল বাজানোর কথা নয়। কিন্তু এখন যে বাজাচ্ছে সে হয়তো জানে তৃষা বাসায় আছে। নয়তো সে ঘটনার ইতিবৃত্ত কিছুই জানে না ফলে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ নাকি বাইরে থেকে বিষয়টি তার কাছে গুরুত্ব বহন করে না বলেই দৃষ্টিও আকর্ষণ করে না।

ডোরবেল বাজতেই থাকে বিরক্তিকর নিরবিচ্ছিন্নতায়। বিছানা ছেড়ে উঠতে বাধ্য হয় তৃষা। দরজার চোরা ছিদ্রে চোখ রাখে তৃষা। চৈতী এসেছে। অসহ্য লাগে অসময়ে চৈতীকে দেখে। আজ এসময় ওর আসাটা শুধু বিরক্তিকর নয়, অনাকাঙ্ক্ষিতও।

চৈতীর চোখেমুখে রাতজাগা ক্লান্তি এক চিলতে ঘষা কাচে এক চোখেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হয়তো দুশ্চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারেনি মেয়েটা। মায়া হয় চৈতীর জন্য। নেসার আর চৈতীর চার বছরের প্রেম। এই চার বছরের দায়ে এমন অন্ধ হয়ে নেসারের পক্ষ নিতে হবে?

চৈতীর চোখেমুখে রাতজাগা ক্লান্তি এক চিলতে ঘষা কাচে এক চোখেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হয়তো দুশ্চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারেনি মেয়েটা। মায়া হয় চৈতীর জন্য। নেসার আর চৈতীর চার বছরের প্রেম। এই চার বছরের দায়ে এমন অন্ধ হয়ে নেসারের পক্ষ নিতে হবে? নেসার কী সেই রাতে চৈতীর কথা ভেবেছিলএকবারও?

সব সম্পর্কের দায় মেয়েরা কেন যে এভাবে নিজ দায়িত্বে ঘাড়ে তুলে নেয়। একবারও তলিয়ে ভাবে না এমন দায় আত্মসম্মান গিলে খাওয়া এই সমাজ সংসার আরোপিত। কিন্তু এই মুহূর্তে চৈতীর সাথে কথা বলার রুচি মোটেই নেই তৃষার।

গত কয়েকদিনে কী না করেছে চৈতী। চেনা চৈতী একেবারে অচেনা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে তৃষার প্রত্যাশা কিংবা চারপাশে ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যতটুকু পারস্পরিক বোঝাপড়া তাতে তৃষার প্রত্যাশা ছিল চৈতী ওর পাশেই দাঁড়াবে। নারীর চরিত্র নিয়ে, পোশাক নিয়ে, ধর্ষণ নিয়ে ওদের দৃষ্টিভঙ্গি একইরকম ছিল বলেই বন্ধুত্বটা গাঢ় হয়েছিল। এসব নিয়ে কত্তদিন শাহবাগে একসাথে দাঁড়িয়েছে দুজন। এক্ষেত্রে নাহয় চুপই থাকত। নেসার ওর যতটা প্রেমিক, তৃষাও তো ততটা বন্ধুই।

কিন্তু চৈতী কেমন অচেনা যেকোনো মেয়ে হয়ে গেছে। তৃষাকে নিরস্ত করতে বন্ধুবান্ধবদের কাছে জনে জনে অনুরোধ করেছে। নেসারকে বাঁচাতে তৃষার নামে বাজে কথা বলতেও ছাড়েনি। নিজের উপর পড়তেই কেমন অবলীলায় আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ল! নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতায় আদর্শিক অবস্থান ধরে রাখাই বোধহয় মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। নিজের ভবিষ্যৎটা নির্বিঘ্ন করার জন্য নীতিহীন হতে একটুও বাধেনি চৈতীর।

 

২.
ট্রেনিং শেষে আলাদা করে খুব গুরুত্ব দিয়ে ওকে বলে দেওয়া হয়েছে এই গ্রামের জনশুমারির নির্ভুল তথ্য চাই। কোনো রকমের হেরফের হওয়া চলবে না। মেঘনার বুকে জেগে ওঠা একটা চর। চারপাশে মেঘনার বারো মাইস্যা থই থই জল। শুধু এক অবিস্তীর্ণ পাটখেত কোনো কোনো ঋতুতে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে জল আর জনবসতির দূরত্ব হয়ে। বর্ষায় তাও থাকে না। যতদূর চোখ যায় শুধু উত্তাল ঢেউ। এর মাঝে কুড়ি পঁচিশটা ঘর নিঃসঙ্গ নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে প্রকৃতির বেমানান অংশ হয়ে। এবার জনশুমারির রিপোর্ট দিলেই এরা সংলগ্ন নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত হবে। এদের ভোটাধিকার হবে, নাগরিক সুযোগ সুবিধার অংশীদারি হবে এরা।

গ্রামে ঢুকতেই মেয়েটির খটকা লাগে। রাস্তা দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়া প্রতিটি মানুষ এভাবে তাকাচ্ছে যেন এ গ্রামের কেউ কোনোদিন মেয়ে মানুষ দেখেনি। কেউ কেউ তো চলতি পথে হঠাৎ দাঁড়িয়েই পড়ে ওকে দেখে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত এমন বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চোখ বুলায় যেন মেয়ে নয়, ভিনগ্রহের কোনো আগন্তুক সে।

অবাক লাগে মেয়েটির। প্রায় ঢাকার উপকণ্ঠে একটা গ্রাম। এক সময় নৌকা কিংবা লঞ্চে মেঘনা পাড়ি দিয়ে আসতে হতো। এখন ব্রিজ হয়ে যাওয়াতে ঢাকা থেকে ঘণ্টা, দু-ঘণ্টার মামলা। সেই গ্রামের মানুষগুলোর মেয়েমানুষ দেখে এমন বিস্ময়াভিভূত দৃষ্টি ওকে বিস্মিত করে।

তথ্য সংগ্রহে ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েটি ব্যাপারটি আবিষ্কার করে। গ্রামের কুড়ি পঁচিশ ঘর বাসিন্দাদের মধ্যে সত্যি কোনো উঠতি মেয়ে নেই। লক্ষ্মী বউ নেই। ছেলেরাও নেই। বাড়িগুলো আগলে পড়ে আছে কিছু প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া।

নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনে হয়তো এ বয়সের পুরুষেরা ছেলে দিকের নাতির জন্য চিকেন কিনতে বাজারে যায় আর নারীরা বুয়াকে চুলার কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে এটা ওটা রান্না করে। নিজেদের কাছেই নিজেরা প্রমাণ করে তারা সংসারে তাদের প্রয়োজন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এই আত্মতৃপ্তির সুখেই বেঁচে থাকে তারা। কিন্তু এই গ্রামের প্রৌঢ় প্রৌঢ়ারা সবাই ভীষণ ব্যস্ত। ওদের অকেজো সময় নেই। পুরো সময়টাই কেজো এদের কাছে।

ঠিক দুপুরবেলা গিয়ে কোনো পুরুষের দেখা মেলে না কোনো বাড়িতে। কেউ ঢাকায় উবার চালায়। রাত গভীরে ফেরে। কেউ ব্রিজের মাথায় রেস্টুরেন্ট নিয়ে বসে। যতক্ষণ ব্রিজে দূরপাল্লার গাড়ি ততক্ষণ ক্ষুধার্ত পথিকের জন্য ঝাঁপ খোলা। অভিনব অভিজ্ঞতা হয় মেয়েটির। নারীরা সবাই ঘরকন্নায় ব্যস্ত। কেউ উঠান ঝাড় দেয়। কেউ গোয়ালের গরুর জন্য বালতিতে ভাতের ফেনে লবণ মেশায়। কেউ উঠানে মেলে দেওয়া কাপড়গুলো উলটেপালটে দেয়। কেউ তরকারি ফোড়ন দেয়। কারো কোনো তাড়া নেই, কিন্তু কেউ অবসর বসেও নেই।

কিন্তু মুশকিল হলো নিরালা ভিটা আগলে থাকা ধীরে সুস্থিরে ঘরকন্না করতে থাকা এই মহিলারা কেউ কোনো তথ্য দিতে পারে না কিংবা চায় না। কয়জন সদস্য, পরিবারের প্রধান কে, বাড়িতে মেহমান আছে কি না ইত্যাদি জিজ্ঞেস করলে এমন নিষ্পাপ নিরুত্তাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যেন এই ভাষাই তারা বোঝে না। কয়েকটা বাড়ি ঘুরে মেয়েটি বুঝে ফেলে এই গ্রামের পুরুষেরা না ফিরলে জনশুমারির কোনো তথ্যই জানা হবে না ওর। গ্রামটিতে রাতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ও।

মেয়েটি যখন চুপচাপ মধ্যবয়েসি লোকটির সামনে বসে থাকে তখন কেবল তার বাসায় নয়, আশেপাশেও ছাড়া ছাড়া অন্ধকার। অনতিদূরে মেঘনার বুক চিরে চলে যাওয়া লঞ্চ কালেভদ্রে একটু আধটু আলো ফেলে যেতে চায় গ্রামটিতে, সারি সারি পাট গাছগুলো সে আলো আটকে দেয় প্রাণপণে।

মেয়েটি জিজ্ঞেস করে, আপনাদের গ্রামে কারো বাড়িতে ইলেকট্রিসিটি নেই কেন? বৃদ্ধ লোকটি আসলে বলার মতো কোনো কারণ খুঁজে পায় না নাকি ইচ্ছে করেই বলে না কে জানে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাল পেরিয়ে আবার লোডশেডিংয়ের কাল চলে এসেছে। কখনো এ গ্রামের কারো ঘরে বিদ্যুৎ জ্বলেনি। গ্রামে ঢোকার সামান্য জলপথ পেরিয়ে এলেই ব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে।

ঘরের ভেতরে অস্পষ্ট কাশির শব্দে অন্ধকার যেন আরও ঘনীভূত হয়। মেয়েটির কৌতূহল নিয়ন্ত্রণহীন হয়। গ্রামের কোনো বাড়িতে ইলেকট্রিসিটি নেই। কৌতূহল কখনো বেয়াদবের মতো শাসন অযোগ্য হয়ে পড়ে। মেয়েটি জিজ্ঞেস করে, আপনাদের গ্রামে কারো বাড়িতে ইলেকট্রিসিটি নেই কেন? বৃদ্ধ লোকটি আসলে বলার মতো কোনো কারণ খুঁজে পায় না নাকি ইচ্ছে করেই বলে না কে জানে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাল পেরিয়ে আবার লোডশেডিংয়ের কাল চলে এসেছে। কখনো এ গ্রামের কারো ঘরে বিদ্যুৎ জ্বলেনি। গ্রামে ঢোকার সামান্য জলপথ পেরিয়ে এলেই ব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে। পাশ ঘেঁষেই পল্লি বিদ্যুতের ইলেকট্রিক লাইন। রাত্রে কী খাও? সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গের প্রশ্ন করে লোকটি স্পষ্টই যেন কিছু এড়িয়ে যেতে চায়।

সব কথার ফাঁকে লোকটি বারবার মেয়েটিকে কেমন অপ্রকৃতস্থ স্বরে বলে যায়, রাতটা আপনে গ্রামে না থাকলেই পারতেন মা জননী। কেন উনি এভাবে বলছেন? ও কি এদের খুব অসুবিধায় ফেলে দিল? গ্রামের সবচেয়ে সম্পন্ন ঘর বলে এই ঘরেই ওকে থাকতে পাঠাল অন্যরা। তাছাড়া ও তো শখ করে থাকেনি। দুপুরে তথ্যগুলো ঠিকঠাক পাওয়া গেলে ও মোটেই এখানে রাতটা থাকত না। ওকে নিয়ে বিব্রত হতে দেখে ও বারবার নিশ্চিত করে, আমাকে নিয়ে আপনাদের ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই মোটেও। আমি রাতে বিশেষ কিছু খাই না। তখন সেই মুহূর্তে একটা রাত ওকে খাওয়ানোটাই এদের মূল সমস্যা বোধহয় ওর কাছে। অথচ…

 

৩.
আবার ডোরবেল বাজে।

নেহাল। নেহালের এই সময়ে আসার অর্থ তৃষা জানে। কানে বালিশ চাপা দিয়ে আবার ঘুমাতে চায় সে। ডোরবেল বেজেই চলে। এবার বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে দেয় তৃষা। নেহাল কোনো কথা না বলে ফ্রিজ খোলে। টেবিলের ঢাকনা ওঠায়। যেন নিজের ঘরে এসে খাবার খুঁজছে। নেহালের এই ঘরমুখো ভান দেখে হাসি পায় তৃষার।

কোনো ভূমিকা ছাড়া নেহাল তৃষার কাছে বসে। বাদ দাও না তৃষা। এরকম অনুরোধের জন্য তৈরিই ছিল তৃষা, তৃষা জানে এসময় মূলত এই শেষ চেষ্টাটা করার জন্যই এসেছে নেহাল। মুহূর্ত দেরি না করে উত্তর দেয় তৃষা। না আমি বাদ দেবো না। তৃষার দৃঢ় উত্তরে চুপসে না গিয়ে উলটো তৃষার গালে জোরে এক থাপ্পড় লাগায় নেহাল। এও যে নেহালের পূর্ব প্রস্তুতিকৃত এটাও জানে তৃষা।

তৃষা উঠে দাঁড়িয়ে ততোধিক জোরে চিৎকার করে, বেরিয়ে যা… বেরিয়ে যা… কুত্তার বাচ্চা। নেহাল তৃষাকে থামাতে চেষ্টা করে, দেখো তৃষা কিছু হয়নি, কিছু তো হয়নি। তুমি কেন এভাবে সিনক্রিয়েট করছ? আমি তো তোমাকে বিয়ে করবই। তৃষা আরও খেপে যায়। তুই আমাকে বিয়ে করবি মানে? দয়া? আমি তোকে বিয়ে করব কি না জিজ্ঞেস কর! একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস যার নাই! কাপুরুষ কোথাকার একটা!

নেহাল কাঁচুমাচু হাত জোড় করে তৃষার কাছে, তৃষা ভেবে দেখো তোমাকে নিয়ে সবাই মজা কুড়াচ্ছে, এমনকি চৈতী পর্যন্ত। সব জানে তৃষা। সব জানে। ঘটনার দিন থেকেই অসংখ্য অভিজ্ঞতায় তৃষা জানে সবাই ওকে নিয়ে মজা কুড়াচ্ছে। মজাই তো নিতে চেয়েছিল নেসার। জাস্ট মজা।

 

৪.
প্রৌঢ়ার ঘোমটা ঢাকা মুখটা ঠিক স্পষ্ট দেখা যায় না। যেকোনো মায়ের মতোই। সামনে ভাতের থালা রাখে। মসুর ডাল আর ইলিশ মাছের ভাজা। আরেকটা বাটিতে সম্ভবত ইলিশের ঝোলই হবে। মেঘনার বুকে বসে পদ্মার ইলিশ। খাও মা খাও। অসীম আগ্রহে সে ঢাকা শহরে খাবার দাবারের কথা, থাকার কথা খুঁটিনাটি জানতে চায়। মেয়েটি বাড়িয়েও বলে না। কমিয়েও না। মেয়েটি ইলিশ মাছের কাঁটা বাছতে বাছতে নিজের কৌতূহল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কয়েকবার প্রৌঢ়াকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা এই গ্রামে কোনো ছেলেমেয়ে বউ বাচ্চা থাকে না কেন? গ্রামে কেবল আপনাদের মতো প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা কেন? আপনাদের ছেলেমেয়েরা…?

সেও এড়িয়ে যায়। পালটা প্রশ্ন করে, আচ্ছা আম্মা, ঢাকায় তোমরা নালি পাতার বড়া খেতে পার? বজুরি মাছের চচ্চড়ি? রসুন ফোড়ন দিয়ে ঝাল ঝাল? মেয়েটি বুঝে উঠতে পারে না মাত্র ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে ঢাকা শহর, অথচ সেই শহর এই প্রৌঢ়ার কাছে অজানায় মোড়ানো রহস্য! কেন? মেয়েটি খেতে থাকলে প্রৌঢ়া হারিকেনের আগুন বাড়িয়ে দেয়। আরেকটু বেশি আলো পিছলে পরে ভাতের থালায়। কাঁটাগুলো আরেকটু স্পষ্ট হয়।

প্রৌঢ় উঠে চলে যাবার সময় বলে যায়, ও যে ঘরে ঘুমাবে, সে ঘরে যেন বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়। বারান্দার এক কোনায় টিমটিম করতে থাকা হারিকেন হাতে নিয়ে লোকটি মিলিয়ে যায় পাটখেতের ভেতরে। মেয়েটির ভেতরে কৌতূহল আরও জমাট বাঁধে। পুরো গ্রাম জুড়ে কী যেন এক চাপা রহস্য।

 

৫.
তৃষার অসংখ্য নির্ভরতার স্মৃতি ছিল নেসারের সাথে। খুনসুটি, ভাগাভাগি, বিশ্বাস কী নয়? যতটা নেহালের সাথে ততোটাই নেসারের সাথে। সমবয়েসি বলে কখনো নেহালের চেয়েও বেশি। অথচ এই নেসার!

বালিশের পাশে রাখা ফোনটা বেজে ওঠে। মা। একা সংসারে মায়ের এই এক কাজ বারবার মেয়েকে ফোন করা।

মা খুব উৎকণ্ঠিত থাকেন তৃষাকে নিয়ে। তৃষা জানে ফোন ধরলে মা একই ভাঙা রেকর্ড বাজাবে। মাকে কিছু জানানো হয়নি। তবু বলতেই থাকবে, কোথাও একলা যাবি না, রাইত বিরাতে বাইরে যাইস না, মাইয়া মাইনষের পায়ে পায়ে বিপদ! মায়ের মুখস্থ কথাগুলো মনে করে হাসি পায় তৃষার।

বুঝতে পেরেছ তো আমি একটা বেয়াদব মেয়ে? আমার মায়ের মতো অথর্ব নই? এবার বেরিয়ে যাও। নইলে আমি চিৎকার করব আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন চলে আসবে। আর এই খালি ফ্ল্যাটে তুমি আমাকে… কেউ অবিশ্বাস করবে না।

ভীষণ বিরক্তিকর মহিলা। ঘুরেফিরে এক কথা। আর বলবেনই না কেন? এতবার ফোন দিলে নতুন কোনো কথা থাকে? অসহ্য, স্বগতোক্তি করে ফোনটা হাতে নিতেই নেহাল ফোনটা কেড়ে নেয়, একশ্বাসে বলতে থাকে আন্টি দেখুন তৃষা কিছুতেই বুঝতেই চাচ্ছে না। আপনি একটু বুঝান। কী লাভ এসব ঝামেলায় গিয়ে। কিছু তো ঘটেনি। এছাড়া আমিও তো… কথা শেষ করতে পারে না নেহাল। তৃষা ফোন কেড়ে নিয়ে কল কেটে দেয়। মহিলা কিচ্ছু জানে না। তার কাছে প্যানপ্যানানি করে লাভ নেই। এই অথর্ব মহিলা আমাকে কী বুঝাবে?

তুমি একটা বেয়াদব মেয়ে, মাকে কেউ এভাবে বলে? নেহাল বিরক্ত হয়।

বুঝতে পেরেছ তো আমি একটা বেয়াদব মেয়ে? আমার মায়ের মতো অথর্ব নই? এবার বেরিয়ে যাও। নইলে আমি চিৎকার করব আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন চলে আসবে। আর এই খালি ফ্ল্যাটে তুমি আমাকে… কেউ অবিশ্বাস করবে না।

নেহাল একবার ভাবে ওকে বলে, এই ফ্ল্যাটের আশেপাশের সবাই তো আমাকে চেনে। কিন্তু তৃষার সুরে এমন কিছু ছিল, মনে হলো বেরিয়ে না গেলে তৃষা সত্যিই তাই করবে। নেহাল এই তৃষাকে চেনে না। এই তৃষার নির্দেশ অমান্য করা যায় না।

তবু বের হয়ে যাবার আগে শেষ চেষ্টার মতো বলে যায়, ভেবে দেখো আবার। কিছু কিন্তু হয়নি। তুমিই লজ্জা পাবে। তৃষার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে স্পষ্ট বুঝা যায় নেহালের আবেদন গ্রাহ্যই করেনি সে।

জানালার পাশটাতে সদ্য গড়ে ওঠা উপশহর। পাশাপাশি পাল্লা দেওয়া হাইরাইজ বিল্ডিং। নেহাল বেরিয়ে গেলে এক কাপ কফি বানিয়ে চেয়ার টেনে বসে তৃষা। খোলা রাস্তার কারণে হুহু বাতাস। তাকাতে তাকাতে বিল্ডিংগুলো হঠাৎ সবুজ পাটখেত হয়ে যায়। সারি সারি গাছ। কচি সবুজ পাতা। গাঢ় বাদামি শাড়িতে কড়া লাল আঁচলে মা। খুটে খুটে পাট পাতা তুলছেন। মা বলেন, নালি পাতা। পিটালিতে ভেজে মুচমুচে ভাজি করবে মা। তৃষার খুব প্রিয়। মা পাতা তুলছেন। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। তৃষা চিৎকার করছে, মা ফিরে এসো। মা আমি নালি পাতার ভাজি খাব না। মা রাত হয়ে যাচ্ছে…। মা শুনে না। শুনতে পায় না। মা নালি খেতের আরও ভেতরে ঢুকছে। মা…

মা… নিজের চিৎকারে হঠাৎ নিজেরই সম্বিত ফিরে তৃষার হাতের কফি ততক্ষণে ঠান্ডা।

ফোনটা আবার বাজে। চৈতী। দেখা করতে চায়। কেন, তুইও নিষেধ করবি আজ যেতে? না। একবার আসি, তোর সাথে কথা বলি। আয়, কিন্তু আমি আজ কোর্টে সাক্ষী দিতে যাবই।

 

৬.
মেয়েটির ঘুমানোর বিছানা পরিপাটি করে দিয়ে বের হতে গিয়েও প্রৌঢ়া আবার ফিরে আসে। রাইত কইরা প্রস্রাব, পায়খানায় পাইলে বেড়ায় টোকা দিয়ো, বাইচ্চার বাপ সাথে যাইব। একলা যাইও না যেন।

এবার চলে যাবার সময় মেয়েটি সব ভদ্রতার সুতো ছিঁড়ে প্রৌঢ়াকে হাত টেনে ধরে। আপনাদের গ্রামের ঘটনাটা বলবেন? মোটেই অপ্রস্তুত হয় না প্রৌঢ়া, যেন জানত মেয়েটা প্রশ্ন করবে আর তাকেও উত্তরটা দিতে হবে। প্রৌঢ়া আঙুল তুলে চুপ করতে বলে মেয়েটিকে। বিড়ালের মতো নিঃশব্দে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। এই বের হয়ে যাওয়ায় আবার ফিরে আসার বার্তা স্পষ্ট। মেয়েটি তাই আর আটকায় না তাকে।

জানো তো মা আমাগোরে সবাই চওরা ডাকে? হ্যাঁ মেয়েটি শুনেছে। চারপাশ মেঘনার উত্তাল জলে ঘেরা জেগে ওঠা চরে বসতি গড়া উদ্বাস্তু এরা। চরে বাস করে তাই ‘চওরা’। প্রৌঢ়া বলতে থাকে, আমাদের মেম্বর নাই, চেয়ারম্যান নাই, এমপি নাই। তাই কোনো ঘরে কোনো মাইয়া নাই।

মিনিট কয়। ফিরে আসে সে। দরজা ভেজিয়ে ঘোমটা খুলে যেন মুক্ত হওয়া কয়েদির মতো পা ছড়িয়ে বিছানায় বসে। শোনো মা, বাইচ্চার বাপ ঘুমাইয়া গেছে, এইবার শোনো… যেন পাথর চাপা বুক থেকে পাথর নামিয়ে দেওয়ার হাহাকার তার কণ্ঠে। জানো তো মা আমাগোরে সবাই চওরা ডাকে? হ্যাঁ মেয়েটি শুনেছে। চারপাশ মেঘনার উত্তাল জলে ঘেরা জেগে ওঠা চরে বসতি গড়া উদ্বাস্তু এরা। চরে বাস করে তাই ‘চওরা’। প্রৌঢ়া বলতে থাকে, আমাদের মেম্বর নাই, চেয়ারম্যান নাই, এমপি নাই। তাই কোনো ঘরে কোনো মাইয়া নাই।

মানে? মানে কী? প্রৌঢ়া বলে যায়, সরকার যায়, সরকার আসে। এই গ্রামের নারীদের ভাগ্য বদলায় না। যেকোনো সময় নৌকা ভিড়ে চারদিকে। ঘর থেকে মুখে হাতচাপা দিয়ে ওই পাটখেত পর্যন্ত নিতে কোনো বেগ পেতে হয় না চেয়ারম্যান মেম্বরদের পোষ্য মস্তানদের। ভোট নাই তাই বিচারও নাই।

যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কাঁপুনি বোধ করে মেয়েটি, আপনিও? প্রৌঢ়া চোখে কৌতুক, হ আমিও। এই গেরামের সব বউ ঝি। কে নয়?

কী বলেন এসব? প্রৌঢ়া যেন সব বলে দিয়ে আজ নিজে মুক্তি চান অহল্যা বেদনা থেকে। এই জন্যেই তো আমাদের বাইচ্চার বাপেরা আমাদের নিয়া ঘর করে কিন্তু আমাদের চেহারা দেখে না। অন্ধকারে ঘর থেকে বাইর হয়, আবার অন্ধকারে ঘরে আসে। আমরা এই অপমান নিয়াই ঘর করি। আমার মাইয়া আমারে কয়, আমি অথর্ব মহিলা। কেন তার বাপেরে জিগাই না, আমার কী দোষ? আমার চেহারা কেন দেখে না সে!

হতবিহ্বল মেয়েটি এবার প্রশ্ন করতেও ভুলে যায়। প্রৌঢ়াও যেন থামতে ভুলে যায়। মাগো এই চওরা গেরামে এখন কোনো পুরুষ মানুষ বিয়া কইরা নতুন বউ লইয়া ফিরা আসে না। মাইয়াগুলা সেয়ান হইতে না হইতেই ঢাকায় রাইখা আসে।

প্রৌঢ়া এবার মেয়েটির দুই হাত ধরে আকুল জিজ্ঞাসায়, ও মা তোমরা যে এইবার সব লেইখ্যা পইড়া নিতেছ এরপরে আমরা ভোট দিতে পারুম? ভোট দিলে চেয়ারম্যানের কাছে বিচার লইয়া যাইতে পারুম? চেয়ারম্যানের গুন্ডাপান্ডারা ভয় পাইব? আমার মাইয়াডারে পনেরোটা বছর ধইরা দেখি না গো মা।

 

৭.
চৈতী জানতে চায়, সত্যি সেদিন কিছু হয়েছিল তৃষা? তৃষার স্পষ্ট উত্তর, না। তৃষা খেপে যায় চৈতীর উপর, এটা কোন ধরনের প্রশ্ন বারবার? কিছু হয়নি বলে আমাকে সব ছেড়ে দিতে হবে? নেসারের উদ্দেশ্যটার কোনো গুরুত্ব নেই? আমি ব্ল্যাকবেল্ট না হলে সেদিন ওকে আটকাতে পারতাম না, ও জোর করছিল। তুই কি নেসারের জন্য মাফ চাইতে এসেছিস চৈতী?

এক নিশ্বাসে চিৎকার করে চৈতীর থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে তৃষা বুঝতে বুঝতে চেষ্টা করে বিশ্বাস ভাঙা নাকি লোক জানাজানির ভয়ে চৈতী এমন আপস করছে?

আমি মাফ করে দিলে তুই সব ভুলে নেসারকে নিয়ে জীবন কাটাতে পারবি? তৃষা এবার শান্ত হয়ে জানতে চায়।

এ প্রশ্নের উত্তরটা কয়দিন আগেও জানা ছিল না চৈতীর। কিন্তু এখন সে জানে। এই মুহূর্তে চৈতীর ভেতরটা পড়তে পারে না তৃষা। জমানো ক্ষোভ উপচে উঠে চুলায় বসানো দুধের মতো, ও বলতে থাকে।

নেহাল তার সহোদর বলে নেসারকে মাফ করে দিতে বলে আমাকে? কিন্তু নেসার না হয়ে ওর জায়গায় অন্য কেউ হলে নেহাল আমাকে বিশ্বাস করত?

বন্ধুদের মধ্যে একমাত্র তৃষা সমবয়সি বন্ধুর প্রেমে না পড়ে বন্ধুর বড়ো ভাই নেহালের প্রেমে পড়েছিল। সেইবার, যেবার বান্দরবানের জিরো পয়েন্টে সূর্যোদয় দেখতে দেখতে নেহাল মুগ্ধ দৃষ্টিতে তৃষার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ঘুম ভেঙে তোমাকে দেখলেই তো সূর্যোদয় দেখা হয়ে যায়! তৃষার ভেতরে একটা তোলপাড় লেগে যায় তখনই।

অথচ চৈতী-নেসার, রীতু-আহাদ, নেহা-ইশতিয়াক কী সুন্দর সবগুলো সমবয়সি সহপাঠী বন্ধুর মতো ঘুরে বেড়ায় আর পড়াশোনার পাট শেষ হলে চুটিয়ে সংসার করবে।

মা পাটপাতা কুড়াতে কুড়াতে ভেতরে ঢুকে যান, আরও ভেতরে। তৃষা চিৎকার করে ডাকে মা সন্ধ্যা হয়ে আসছে আর ভেতরে যেয়ো না, আর পাটপাতা কুড়াতে হবে না… মা…। হু হু করে কাঁদে তৃষা।

দলছুট সিনিয়র নেহাল দলে ভিড়ে যায় শুধু তৃষার জন্য। আর নেহালের সাথে যাবতীয় ঝগড়াঝাটি, ঝামেলা নিয়ে তৃষাকে গিয়ে পড়তে হয় নেসারের কাছে। নেহাল দিব্যি দায়িত্বে অবহেলা করতে পারে নেসারের কারণে। সেবার চাকরির ট্রেনিংয়ে গেল তো নেহালের ছুটি নেই, দিব্যি নেসারকে দিয়ে পাঠিয়ে দিল। নেসার বন্ধু বলে সমবয়েসি বলে বরং সুবিধাই হতো তৃষার।

এই সুবিধাতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল বলেই সেদিন রাতটা মেসে থাকতে গিয়েছিল। অফিসে ট্রেনিং শেষে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিতে বাসায় ফেরার বাস পাচ্ছিল না তৃষা। মাত্র কয়েক গজ দূরে নেসারের মেস।

অথচ নেসার! একটা রাতের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইল না!

বন্ধুরা কেউ ভাবেনি তৃষা বিষয়টা নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করবে, সে রাতে মেসে আর কেউ ছিল না, সুযোগে নেসার শুধু একটু মজা নিতে চেয়েছিল, পারেনি। এ আর এমন কী! যেন ব্যাপারটা যেরকম নেসার ভেবেছে সেরকমই হালকা।

তৃষা জানালার পাশে দাঁড়ায়। রাস্তা পেরিয়ে সারি সারি বিল্ডিং। বিল্ডিং নয়, সারিসারি পাটগাছ। পাটখেত। মা পাটের কচি পাতা কুড়াচ্ছেন। মা বলেন নালি পাতা। আতপ চালের গুঁড়িতে চুবিয়ে ভাজি হবে। আমার খুব পছন্দ। মা পাটপাতা কুড়াতে কুড়াতে ভেতরে ঢুকে যান, আরও ভেতরে। তৃষা চিৎকার করে ডাকে মা সন্ধ্যা হয়ে আসছে আর ভেতরে যেয়ো না, আর পাটপাতা কুড়াতে হবে না… মা…। হু হু করে কাঁদে তৃষা।

চৈতী কাঁধে হাত রাখে, বলে, আমি জনশুমারির কাজে চওরা গ্রামে গিয়েছিলাম তৃষা। এইসব জনশুমারি, ভোট, চেয়ারম্যান, মেম্বার, তোর আমার বন্ধুরা কেউ নারীর জন্য নৌকা ভিড়ানো ঠেকাবে না। কিন্তু আজ কোর্টে দাঁড়িয়ে তুই সত্যিটা বলবি। বলবি অ্যাটেম্প টু মার্ডার যদি অপরাধ হয়, অ্যাটেম্প টু রেইপও অপরাধ। আমাদের লড়াইটা শুরু করা দরকার।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

গল্পকার, নাট্যকার, মঞ্চাভিনেত্রী, শিক্ষক। বাংলাদেশ তার গল্পের আত্মা জুড়ে থাকে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে আশা, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, বেদনা ও বৈষম্যকে বিষয় করে তিনি গল্প লেখেন, যা একই সঙ্গে ডকুমেন্টেশন এবং শুধু ডকুমেন্টেশনই নয়, আখ্যান; কথাসাহিত্য। তার গল্পে জীবনের বাঁকবদল স্পষ্ট এবং অন্যদের থেকে আলাদা এক স্বর, যে-স্বর আমাদের আত্মা খমচে ধরে, বেদনাহত করে। সমকালীন বাংলাদেশ তার সমস্ত রকমের ঘা, রক্তপুঁজ নিয়ে উপস্থিত থাকে। ব্যবচ্ছেদের গল্পগুলি (২০১৫), প্রসঙ্গটি বিব্রতকর (২০১৬), গোল (২০১৮), সেলিব্রেটি অন্ধকারের রোশনাই (২০২০), নদীর নাম ভেড়ামোহনা (২০২০) তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত বই। মঞ্চ তার অদ্বিতীয় সত্ত্বা। গড়েছেন নাট্যদল- জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠী। মঞ্চায়িত হয়- কমলাবতীর পালা, বিভাজন, জ্যোতি সংহিতা ইত্যাদি নাটক।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।