বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ডমরুনাথ ও অন্যান্য কবিতা : জুয়েল মাজহার

0

Eid Motif

.

ডমরুনাথ


১.
ছিন্ন করো এ-জরায়ু

আমাকে উদ্ধার করো
মায়াযোনি থেকে, এই ভবযোনি থেকে

আমাকে রাত্রে চুপে নিয়ে চলো
অন্য কোনো ঊরুর প্রদেশে

যাতে আমি
রক্তলাগা নেংটা দেহ
কার্পাস তুলায় ঢেকে চলে যেতে পারি
—ইচ্ছা-মরুদেশে আর স্বপ্নমেরুদেশে আর
নিজের ভেতরে আমি নিজের ইচ্ছায়
পিতামাতা-নিরপেক্ষ জন্ম নিতে পারি

যাতে আমি ডমরুনাথ
প্রতিটি উচ্চণ্ড হাটে গিয়ে
ডমরু-বাজাই দ্রিমি-দ্রিমি

অকথ্য গন্ধের স্বর্গে, পচা শাক-সবজির বাজারে
হতে পারি যেন ক্যানভাসার

চন্দ্র-গুঁড়ো, সূর্য-গুঁড়ো, বিশল্যের শিলাজতু দিয়ে
বানানো মলম বেচে-টেচে
গরিবানা-হালে যেন দিব্যি চলে সামান্য জিন্দেগি

 

২.
সেসব তো পরে হবে। —তারও আগে
মৃতার-নিপল-মুখে মাতৃজঠরভেদী আমি
অতিশয় স্তনধারী, দু:খী আর
নিঃসন্তান ধাইমাদের প্রশস্ত জঘন ভরে
একটু জিরিয়ে নিতে চাই


মধ্যাহ্নভোজন


এ-হোটেলে বাবুর্চিরা
অকালমৃতের অণ্ডে আসমানি সুরুয়া বানায়

জীবনের চড় খেয়ে
স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আজ আমি

নিজের একটি অণ্ড বেচে দিয়ে
এ-হোটেলে দুপুরে খাবার কিনে খাব


খাঁচা


আদিম রোমাঞ্চে কারা মেতেছিল কবে…

তারপর কোনো এক মেরুন প্রদোষে
ধূমায়িত নিশাদলে, ক্ষার-মেঘে ডুবে
ভ্রূণ হয়ে শিশু হয়ে তুমি এসেছিলে;

কিছুই না-থাকা থেকে
অরূপের থেকে তুমি পেয়েছিলে ছাঁচ

—আশ্চর্য শুশুক যেন তুমি!

তোমার মুখের ডৌল আবছায়া, তিমির-ছড়ানো

অশরীরী ধীবরেরা তোমাকে আনলো টেনে মানব-ডাঙায়;
তারা ভাবল:
এ-কেমন আজগুবি, এ-কেমন অলম্ভূত মাছ!

শ্যাওলাজালে ছুড়ে ফেলে তৎক্ষণাৎ তারা চলে গেল

এরপর অনেক জন্তুর দল
স্থলচর-জলচর এলো
দেখল তোমাকে আর ভয় পেয়ে দ্রুত চলে গেল

অবশেষে কুতূহলী দু-পেয়ে জন্তুর দল এলো;
কার্পাস নামের শাদা, সুকোমল তন্তুতে জড়িয়ে
কান্না দিয়ে গড়া আর উপদংশে ভরা
পৃথিবী নামের এক সুরম্য খাঁচায় তোমাকে
রাখল ডিমের মতো যত্ন করে ধীরে

ব্রহ্মদৈত্যের এক খেয়ালি চাটিতে সেই খাঁচা
চ্যাপ্টা হয়ে গেছে আর সেই থেকে

লাটিমের মতো একা অবিরাম ঘুরছে কেবল…

 

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ১৯৬২ সালের ২০ জানুয়ারি। নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার গড়াডোবা ইউনিয়নের সাখড়া গ্রামে। পিতা মুকদম আলী, মা বেগম নূরজাহান (সরু)। দুজনই প্রয়াত। বন্ধু শিরিন সুলতানা ও পুত্র অর্ক মাজহারের সঙ্গে থাকেন ঢাকায়। পেশা সাংবাদিকতা। কৈশোরে নিরুদ্দেশযাত্রা। দীর্ঘ ভবঘুরে জীবন। যৌবনের একটা বড় অংশ কেটেছে বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়ে। বিশেষত হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে। ঘৃণা করেন বৈষম্য, জাতিবৈর, সকল প্রকারের অন্ধতা। ঘৃণা করেন পৃথিবীকে খণ্ডক্ষুদ্র-করে-দেওয়া সীমান্ত নামের ‘খাটালের বেড়া’। লেখেন মূলত কবিতা। কালেভদ্রে সাহিত্যশিল্প বিষয়ে গদ্যও লেখেন। বিচিত্র বিষয়ে প্রচুর অনুবাদও করেন ইংরেজি থেকে বাংলায় আর বাংলা থেকে ইংরেজিতে।

কবিতাবই: ‘দর্জিঘরে একরাত’, ‘মেগাস্থিনিসের হাসি’, ‘দিওয়ানা জিকির’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘রাত্রি ও বাঘিনী’ ও ‘বসন্তরূপক হাসি’।

অনুবাদগ্রন্থ: ‘কবিতার ট্রান্সট্রোমার’ নোবেলজয়ী সুইডিশ কবি টোমাস ট্রান্সট্রোমারের বাছাই করা কবিতার অনুবাদ সংকলন। ‘দূরের হাওয়া’ প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ২০০ কবিতার অনুবাদগ্রন্থ।

পুরস্কার ও সম্মাননা: ১. ‘জীবনানন্দ দাশ কবিতাপুরস্কার ২০১৯’ ২. ভারতের পশ্চিমবঙ্গের (কলকাতার) ঐহিক সাহিত্যগোষ্ঠির ‘ঐহিক মৈত্রী সম্মাননা ২০২০’ ৩. ’নির্বাচিত কবিতা’ বইয়ের জন্য ’বেহুলাবাঙলা বেস্টসেলার বই সম্মাননা ২০১৯' ৪. রাত্রি ও বাঘিনী কাব্যগ্রন্থের জন্য 'শব্দঘর-নির্বাচিত সেরা বই-২০২১' সম্মাননা পুরস্কার।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।