সোমবার, জুন ২৪

প্রাক্তন ও অন্যান্য কবিতা : মণিশংকর বিশ্বাস

0

Eid Motif

 

 

 

 

.

দুঃখ


কালো মেঘের মতো জীবন
নিজেকেই কেমন দুঃখী করে রেখেছে!
অথবা আমিই ভেসে গেছি এমত আশ্রয়ের দিকে…

দুঃখ এক বিশাল বোয়িং বিমান—

আর ছোট্ট এই জীবন, একটা পাখি হয়ে আছড়ে পড়েছে
তার প্রপেলারে


প্রাক্তন


০১.

তুমি কালিম্পং চলে যাবার পরেও
তোমার মন, ভৌত, মুদ্রাদোষ
তোমার ফোন, রতি, রসায়ন ইত্যাদি পাবার
চেষ্টা করে গেছি আপ্রাণ—
অথচ এসবই ছিল জানালার কাচের এ-পাশ থেকে
কাচের ওদিকের কুয়াশা মোছার প্রয়াস

 

০২.

রক্তের সম্পর্ক—

এই দাগ আর কখনো উঠবে না


কফিন


ব্যবহার করা হবে—
অধিকৃত হবে, এই-ই তোমার নিয়তি

কেননা,
তোমার ভিতর
তুমি নেই

অন্য মানুষের জন্য জায়গা রয়েছে


কাক


দূর থেকে শান্ত এক জলাশয় মনে হয় তাকে। টলটলে জল। শুধু আমি জানি, আর কেউ নয়, আপাত স্বচ্ছ জলের তলায় ঘোলা জল রয়ে গেছে আজও। উন্মাদ ঘূর্ণি। ছোটো মাসির এক ঢাল চুল, পরী কাকিমার পায়ের গোছ, ঈষৎ নীলচে শিরার ছায়াপথ, গভীর রাতে বড়ো বৌদির বাথরুমে জল-ঢালা, জানালার আলো, থাই পর্যন্ত নাইটি তুলে রাণুদির ইনটেন্স সেলাইমেশিন চালানো। আরও আছে, সদানন্দের মায়ের নাভির নিচে পাতাল পর্যন্ত গভীর খাঁজ, রুদ্রাণী কাকিমার কৃষ্ণগহ্বর…।

ঘোলা জলের উপরে কিন্তু শান্ত গম্ভীর জল, পাখির ছায়া, মেঘ ফুঁড়ে রোদখেলা, দীর্ঘ নারকেল, সুপারি গাছগুলির নিষ্পাপ বিম্ব। শুধু ওই নোংরা জল বেরুবার পথ নেই কোনো। যতদিন না সমস্ত জল শুকিয়ে যায়—

তৃষ্ণার্ত কাক, কা কা করতে করতে উড়ে না-যায় খটখটে শুকনো ফুটিফাটা মাটির উপর দিয়ে…


অনন্যা রায়ের বেড়াল


কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অনুসারে, একটা মানুষ যদি অসীম সংখ্যক বার একটা নিরেট দেওয়ালকে অতিক্রম করবার চেষ্টা করে, তাহলে অসীম সংখ্যক বারের মধ্যে একবার সে দেওয়াল ভেদ করেও চলে যাবে। অথচ আমার সাধারণ জ্ঞান বলছে, খুব সামান্যই দূরত্ব, হৃদয়পুর ৪নং গেটের কাছে তোমাদের দোতালা বাড়ির রাস্তার দিকে ব্যালকনিতে, আমি আর কিছুতেই পৌঁছতে পারব না। তবু আমি চেষ্টা করি, মনে মনে ওই দোতালার শান্ত-নির্জন, হারমোনিয়াম আর রবীন্দ্রনাথ শোভিত ঘরে পৌঁছবার। ছাদে যেখানে তোমরা জামাকাপড় রোদে দাও, আমার একটুকরো হৃদয় কাঁটা ঘুড়ির মতো প্রতিদিন সেখানে গোত্তা খাওয়াই।

অন্ধকারে একটি বিড়াল এক ছাদের থেকে অন্য ছাদে লাফ মেরে চলে গেলে

একটি বিড়াল তবু চিরকাল অন্ধকারে থেকে যায়…

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

লেখালেখির শুরু নব্বই দশকের মাঝামাঝি। কবিতা লেখার পেডিগ্রি বলতে দৈবক্রমে বিনয় মজুমদারের প্রতিবেশী। ‘গান্ধার’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৮ সালের বইমেলায় অল্প কিছু কবিতা নিয়ে গান্ধার থেকেই প্রথম কবিতা সংকলন, ‘নম্র বৈশাখী ও নীলিমার অন্যান্য আয়োজন’ প্রকাশ হয়। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চারটি: ‘চন্দনপিঁড়ি’ (২০১৪) ‘অশ্রুতরবার’ (২০১৯) ‘সৌম্য যেভাবে আকাশ দেখেছিল’ (২০২০) এবং ‘অশ্রুত রবার ফুল’ (২০২১)।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।