বিদায়
গোরস্থানে চিরস্থায়ী বাসিন্দার মতো
কেউ চিনল না যাকে, নিয়ে তার ক্ষত
মহাবীর সেজে আমি পথে পথে ঘুরি
এমন সম্পদ যদি কেউ করে চুরি—
এই ভেবে সারারাত বসাতে পাহারা
কুকুর পুষেছি আমি, বশ করি তারা
জ্বলন্ত চাঁদের দিকে তাকাই নির্ভয়ে
নিজেরে বিজয়ী ভাবি, যুদ্ধহীন জয়ে
বিস্ফোরিত হয় ক্রমে শিরা উপশিরা
কিছুই বুঝিনা আমি এ কেমন পীড়া
শরীরে পোড়ার গন্ধ, মুখভর্তি ছাই —
কী করে বিদায় বলি, ভাষা জানা নাই!
প্রিয়জন
দরোজাকপাট বন্ধ করে গেল ডাকাতির শেষে
কতল করার পর যেমন
আঁধারে মিশে যায় আলোহীন হাওয়া,
কোথাও হদিস নাই, যেন কেউ আসে নাই মাঝরাতে
যেন হাতেপায়ে পড়ে নাই দড়ি,
যেন ফুর্তি আছে গোঙানির মাঝে,
ডাকাতির শেষে, কাতিল তো হয়নি ডাকাত —
ডাকাতের দয়ায় মুগ্ধতা রাখি,
আমার গিয়েছে শুধু চোখ,
হতে পারে ডাকাত আমার, প্রিয় বাজপাখি
পাখির কান্নার বিপরীতে
পুনরুত্থানের দিনে তুমি
কোথা থেকে উড়ে আসো, বক
সদ্য ফোটা রডোডেনড্রন
মনে হয় আমার শিক্ষক
গতকাল দেখেছি আঁধার
নিয়তির মতো জড়োসড়ো
যবনিকাময় হাওয়া এসো,
তুমি এসে হাত দুটি ধরো
কতোটা অনাথ হলে জল
থাকে আগুনের পরিধিতে
ন্যুব্জ হয়ে আছি চিরকাল
পাখির কান্নার বিপরীতে
কিছুই করার নেই যার
তার থেকে বেশি নিরুপায়
মুমূর্ষু মেঘের দিকে কতো
ডানা ছেঁড়া দিন উড়ে যায়
যেতে যেতে আসে পান্থজন
ছদ্মবেশী গাছেদের কাছে,
জীবনের ষড়যন্ত্রে আজও
আমাদের বেঁচে থাকা আছে
প্রার্থনা
অবিচ্ছিন্ন স্রোতধারায়
ডুবতে থাকি যদি
আমায় তুমি পার করে দিও
তেপান্তরের নদী
যখন পাখি বাজায় মাদল
মহুয়া ফুলের বনে
বৃক্ষ তুমি আমায় রেখো
তোমার আলিঙ্গনে
পাহাড় থেকে বেরিয়ে এলে
ঘাইহরিণীর দল
এসব যেন ভাবতে পারি
মনভুলানো ছল
চাঁদের আলো পড়লে ঝরে
অবিশ্বাসের মতো
আমিও যেন ভুলতে পারি
গতজন্মের ক্ষত
বিপত্তি সব, পেরিয়ে ঘরে
ফিরলে বারেবারে—
জীবন আমায় আগলে রেখো
ফুলের পরিবারে
প্রতিশোধে
দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছি সব
অশ্রুজমাট পাখিদের কলরব—
বলেছি তাদের, একদিন বুঝে নেবো
সকল হিসেব আসলে মিটিয়ে দেবো
এইতো ভীষণ ক্রোধের মধ্যে বসে,
অভুক্ত সব কুকুরের চেনা রোষে—
পেয়েছি নিজের অদ্ভুত পরিচয়,
বিকৃত মুখ, সে আমার কেউ নয়…
মনের খোরাক এভাবে মেটাতে হয়
মার খেয়ে বলি, মুখ বুজে তুমি থাকো
খোদার বিচার এতোটা সহজ নয়—
কেয়ামত হবে, বিচারে ভরসা রাখো
কিন্তু তখন ডানাভাঙা সব পাখি,
অস্ফুটে বলে, এভাবেই মরে যাবো?
ফের ক্রোধ আসে, শিকারে ভরসা রাখি
বন্দুক হাতে এলে কি মুক্তি পাবো?
প্রশ্ন করেছি, কতো যে নিজের কাছে,
সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে মুখ—
প্রতিশোধে এক বিকৃত সুখ আছে,
প্রতিশোধে আছে মরণের মতো সুখ…

জন্ম ২ ডিসেম্বর, ১৯৯১; বরিশাল। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় স্নাতক। পেশায় সাংবাদিক। প্রকাশিত বই : মৃত্যুর মতো বানোয়াট [কবিতা; ২০১৭] থাকে শুধু আলেয়া [কবিতা;২০১৯], হিম বাতাসের জীবন [গল্প ;২০২০], উদাসীনতা, সঙ্গে থেকো; [উপন্যাস; ২০২১] ই-মেইল : dhrubonahid@gmail.com
