বৃহস্পতিবার, মে ৩০

টোকন ঠাকুরের ধারাবাহিক : জার্নি অব কাঁটা : পর্ব ২৬

0

কখনো এমন হয়, মনে মনে আমরা একটা পৃথিবী গড়ে তুলি। সেই মনে মনে গড়ে তোলা পৃথিবী দেখতে কেমন? সেই পৃথিবীর রূপ আমরা কি গড়ে তুলি না যার যার মতো করে? একটি বালিকা যে পৃথিবী গড়ে তোলে, একজন বয়স্কা নারীও কি সেরকম পৃথিবীই গড়ে তোলেন? ফিলিস্তিনের রক্তাক্ত শিশুটি যে পৃথিবীর স্বপ্ন দ্যাখে, তেলআবিবের শিশুটির পৃথিবী কি সেই রকমই? যে পৃথিবীতে আমরা বসবাস করি, আমাদের মনে মনে তৈরি করা পৃথিবী কি বসবাস করা পৃথিবীর মতোনই? বাস্তবে পুরান ঢাকার নারিন্দার ভূতের গলি দেখতে কেমন? সেটা গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কেমন ছিল? নব্বুইয়ের দশকে কেমন ছিল? এখন, এই ২০২৩ সালে ভূতের গলি দেখতে কেমন? এইসব প্রশ্ন আসে মাথায়। মাথায় প্রশ্নের ঝাঁপি তৈরি হয়। ঝাঁপি খুলে দিলেই কি প্রশ্নগুলো মাথা থেকে উড়ে যাবে? মাথার ঝাঁপি কি খোলা যায়? যেমন ভাবি, ভূতের গলির মহল্লাবাসি কি মানুষ না ভূত? ভূতের কথা বলছি কেন? কাঁটা কি ভূতের ছবি? না। কাঁটা মানুষের ছবি। সেই মানুষেরা বসবাস করছে ভূতের গলিতে। কেউ কেউ বলেন, ইংরেজ বুট সাহেবের বাসা ছিল এই গলিতে, সেই সূত্রেই বুটের গলি। বুটের গলি থেকেই ভূতের গলি! তাইলে নতুন ঢাকার হাতিরপুল ভূতের গলির নাম কেন ভূতের গলি? এখানে তো বুট সাহেব থাকেননি, তাইলে ভূতের গলি হলো কীভাবে? এত এত প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে একটি সকালকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কী হবে আমার? এর চেয়ে বরং এটা কি ভালো নয়, কাঁটা ছবির ভূতের গলির গল্প বলা? হ্যাঁ, আমি একটি গল্প বলতে চেয়েই ভূতের গলিতে অবস্থান নিয়েছি।


p 26. 5

নরসিংদীর ঘোড়াশালের ভেতরে গ্রামের মাটির রাস্তায় আমরা


এই ভূতের গলি একটি শহরের পুরোনো অংশে অবস্থিত। আমরা শুটিং করি ভূতের গলিতে। ভূতের গলির আব্দুল আজিজ ব্যাপারী একজন সিঙ্গেল সিটিজেন। অবশ্য তার এক ছুটা বুয়া আছে, যার নাম ‘নিজামের মা’। নিজামের মা কলসিতে করে পানি নিয়ে আসে। আর তার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে বসবাস করে একজোড়া নর-নারী। আমরা ভূতের গলির বাইরেও যাই। ভূতের গলির বাইরে গল্প নিয়ে আমরা শুটিংয়ে যাই নরসিংদী, পলাশের ঘোড়াশালের ভেতরের একটি গ্রামে, সেই গ্রামে মাঠের মধ্যে এক মাটির রাস্তা আছে। সেই মাটির রাস্তাই আমাদের ডাক দেয় গত শতকের ষাটের দশকে। পেছনে নীল আকাশ, আমরা দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করি চারপাশ। তখন শীতকাল। কাঁটাতে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা তিন ঋতুই উপস্থিত আছে। একই লোকেশনে তিন ঋতু মানে বুঝেছেন? যে সব প্রোডাকশন লট ধরে ২২ দিনে শুটিং হয়, সেই প্রোডাকশনে ঋতু ধরা সম্ভব? বাংলাদেশ ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ, এ কথা আমার মাথায় ছিল। তাছাড়া ১৯৮৯-৯০ সালের জানুয়ারি মাসে কাঁটা গল্পটি শুরু হয়। পরের বছর অর্থাৎ ৯০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গল্পের সময়-বিস্তার ঘটে। অর্থাৎ ২২ মাস সময়ের গল্প। ২২ মাস মেনশন করতে চাইলে তার মধ্যে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার উপস্থিতি খুবই অত্যাবশ্যক মনে করেছি আমি। আর পঞ্চাশটি কবুতর ও একটি বিড়াল আছে কাঁটাতে, তীব্রভাবেই উপস্থিত আছে। ২২ দিন লট প্রজেক্টের ছবি করতে চাইলে বিড়ালকে পোষ মানিয়ে প্রধান একটি চরিত্র নির্মাণ সম্ভব? কাঁটাতে আমরা তা করেছি। কষ্ট হয়েছে, অর্থ খরচ হয়েছে, তাও আমরা করেছি। করেছি এই কারণে, যে, বাংলাদেশে ঠিকঠাক পিরিয়ড চর্চার ছবি প্রায় নেই। হয় না। কেউ করতে চায় না। জমির দলিল ছাড়া গরিবদের কিছুই সংগ্রহে থাকে না যেখানে, সেখানে পিরিয়ড ছবি বানানো সত্যিই কষ্টকর। বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ। কাঁটাতে তিনটি সময় নির্মাণ করেছি আমরা। ১৯৮৯-৯০ তো আছে, তারই ফাঁকে ফাঁকে ফ্ল্যাশব্যাক। ৮৯ থেকে আমরা চলে যাব প্রথমে ১৯৭১ সালে। তারপর যাব ১৯৬৪ সালে। সেখান থেকে আমরা আবার আসব ৯০ সালে।


p 26. 1

ভূতের গলির আজিজ ব্যাপারীর বাড়ির উঠোনে খাওয়া-দাওয়ার অমলিন স্মৃতি | ছবি : শাশ্বত মিত্র


আমরা নরসিংদী থেকে নারিন্দায় ফিরে আসি। আজিজ ব্যাপারির বাড়ির উঠোনে বসে বাকি শুটিংয়ের পরিকল্পনা করি। আমরা খাওয়-দাওয়া করি উঠোনে। আজিজ ব্যাপারীর বাড়ির উঠোনে। বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে কিন্তু বাড়ির উঠোনে খাওয়া দাওয়া করার রেওয়াজ ছিল দীর্ঘকাল। সেকালের পরিবারের লোকেদের মতোই কাঁটা একটি পরিবার। উঠোনে খেতে বসি আমরা পারিবারিক কাঠামোর মতো করেই। আমি আমাদের মধুপুরের বাড়িতে ছোটোবেলায় উঠোনে খেতাম। অন্য বাড়িতেও তাই দেখতাম। আমার মামাবাড়ি ভায়নাতেও তাই দেখেছি। আদতে তখন উঠোনেই খেতে বসত গ্রামের লোকেরা। আমি মিড-সেভেনটিজ টু মিড-এইটটিজের কথা বলছি। ওটাই আমার বাল্যকাল। জন্মেছি এর কিছু আগে। কাশবন-বাঁশবনে কেটেছে আমার ছোটোবেলা। নদের ধারে কেটেছে। নদের নাম কুমার। নদীর ধারে কেটেছে। নদীর নাম নবগঙ্গা। নবগঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা—এটুকুই এখনো আমার দৌড়াদৌড়ি।


p 26. 7

পাকিস্তানি ফৌজ ঢুকে পড়েছে নারিন্দায়, ভূতের গলিতে


কাঁটা টিমের লোকেরাও আমার সঙ্গে উঠোনে খেতে বসত। উঠোনে একটা আয়তকার টেবিলের চারপাশ ঘিরে বসতাম আমরা। খেয়ে-দেয়ে গল্প করতে করতে রাত ভোর হয়ে গেছে অনেক সময়। হয়তো ভোরে উঠেই দেখি, ভূতের গলিতে ফৌজ ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তানি ফৌজ। কারণ, আমরা তখন যুদ্ধের ভেতরে। ১৯৭১। পশ্চিম পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে নামতে হলো বাঙালিদের। ২৫শে মার্চ ১৯৭১, মাঝরাতে ঢাকা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়েছে পাকিস্তানি ফৌজ। নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করেছে পাখির মতো, গুলি করে। পরদিন ২৬শে মার্চ। আগের রাতে সেনাদের ঘটানো অপারেশন সার্চ লাইট এর কারণে ২৬শে মার্চ পূর্ব পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২৭শে মার্চ তদানীন্তন পাক-প্রশাসন কারফিউ অর্ধবেলা শিথিল করে। শহর ছেড়ে সাধারণ মানুষ যেন পালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া মানুষের ওপরেও গুলি করে পাক-বাহিনী। বহু মানুষ, যারা কিনা বাঙালি, হতাহত হয়। সেই পলায়নপর মানুষের দলে সুবোধ-স্বপ্নাও ছিল। তারা নদী পার হয়ে গ্রামের দিকে চলে যেতে চায়, পারে না। তখন ‘চাইরোদিকে মিলিটারি। মিলিটারিরা সমানে মানুষ মারতাছে। তয় হালাগো মেইন টার্গেট হিন্দু।’ এ খবর আমরা পাই। একটা ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয় সুবোধ-স্বপ্নার জন্য।


p 26. 9

সারা রাত জেগে ছিলাম ভোরের পদ্মা দেখব বলে


ভোর মীড় ভাঙে মুন্সিগঞ্জে, পদ্মায়। আমরা সারা রাত জেগে থাকি ভোর দেখব বলে। দীপন’দা, রোমান, শুভ, সূর্য, শক্তি, কৃতী—আমরা পরের দিন ভোর হওয়া ধারণ করব বলে আগের রাতে জেগে থাকি নদীতীরে। অর্থাৎ রেকি করি। জীবনে হয়তো দ্বিতীয়বার ওইখানে আর আমাদের যাওয়া হবে না। অনেকটা যুদ্ধের সময় সৈনিকেরা যেমন পাড়ি দেয় গ্রামগঞ্জ, খালি-বিল, যেখানে হয়তো তারা আর আসবে না। ভোর তো আমাদের দরকার ছিল, চিত্রনাট্যেই ছিল। একে বলতে পারি ভোরের প্রার্থনা। কাঁটা ছবিতে একটা নিখাঁদ ভোর আমরা ধরেছি এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। এটা কষ্টকর, ভোর ধরা। একটু দেরিতে উঠলেই ভোর পালিয়ে যায়। তাই রাত চারটা নাগাদ রেডি হয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমাদের সাধারণ অভ্যাস, আমরা সকালে উঠি। রাত চারটায় উঠতে খুবই কষ্ট। তাও মালিরঅঙ্ক বাজারের পাশে যে বাংলাতে টিমের বাকিদের রেখে এসেছি, দুই কিলো হেঁটে গিয়ে নদী। নদীর কী ধাঁধা! শুটিং ইউনিটের ঘুম ছুটিয়ে দেবেই।


p 26. 4

মহল্লাবাসি বিচলিত, তারা ঘুরে ফিরে আসে আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে


মহল্লার লোকেরা আসে আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে। যুদ্ধের সময় সবাই যেমন টেনশনে থাকে, ভূতের গলির মহল্লাবসিদেরও টেনশন বাড়ে। ভয় বাড়ে। অসহায়ত্ব বাড়ে। উপায় না দেখে তারা আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে আসে। ব্যাপারীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করে। বেঁচে থাকতে হবে তো! মহল্লায় হিন্দু খুঁজতে আসে পাকিস্তানি ফৌজ। ফৌজদের ক্যাপ্টেন সরফরাজের গলায় আমরা একটি ইয়াশিকা ক্যামেরা ঝোলানো দেখতে পাই। ক্যাপ্টেন কি ছবি তুলে বেড়াচ্ছে কাঁটা ছবির মধ্যে? এই ভেদ ভাঙা যাবে না জার্নি অব কাঁটাতে। এটা বুঝতে হলে, জানতে হলে বা দেখতে হলে ‘কাঁটা’ দেখতে হবে আপনাকে।


p 26. 10

কাঁটা ছবিতে এই পাতকুয়াটি একটা বড় চরিত্র হিসেবে ধরা পড়েছে


ব্যাপারীর বাড়ির উঠোনের পাতকুয়াকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে ভূতের গলির দুষ্টু ছেলের দল। তাদের হাতে শাবল, হ্যামার। তারা কি করতে চায়? কেন করতে চায়? কুয়ার ওপর তারা সংক্ষুব্ধ কেন? আবার সেই প্রাগুক্ত কথা বলতে হবে এখানে, কাঁটা ছবিটা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে পরিষ্কার হবে। এ কথা সত্যি, পিরিওডিক্যাল ছবি হিসেবে কাঁটাতে উপস্থিত ইতিহাসের তিনটি সময়। আমরা ১৯৮৯-৯০, ১৯৭১ সাল ও ১৯৬৪ সালে ভূতের গলির পটভূমি দেখতে পাব ছবিতে। একই ছবির মধ্যে তিন ছবি। তিন ছবি মিলেই আবার এক ছবি। ভূতের গলির ছবি। ভূতের গলিই বাংলাদেশ। মহল্লাবাসি ও সুবোধ-স্বপ্নাই বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র কাঁটাতে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাইই। এভাবেই জনাব শহীদুল জহির হয়তো বাংলাদেশ বিন্যাস করেছেন। বিন্যাস করেছি আমিও। তাহলে পৃথিবীর সব দেশই কি সে দেশের একটা ভূতের গলি? সব দেশেই কি সুবোধ-স্বপ্না আছে, বা নেই? পাঠক, আপনি কি মহল্লাবাসি? নাকি আপনি সুবোধ বা স্বপ্না? আপনি কি কোথাও সুবোধ বা স্বপ্না আর আপনিই কোথাও গিয়ে হয়ে যান মহল্লাবাসি? হ্যাঁ, আপনার কাছেই এ প্রশ্ন আমার, আপনি কে? বুঝলাম আপনি লেখার পাঠক বা ছবির দর্শক, কিন্তু আদতে আপনি কে? সুবোধ না স্বপ্না? নাকি আপনি একজন মহল্লাবাসি? এই গভীরতর প্রশ্নের মুখোমুখি আমি আপনাকে করতে চাই। করছি। আপনি কে? আপনি যে কে, তা তো আপনি জানেন না। জানে অন্যেরা। জানি, কাঁটা দেখার পরেই আপনি বলতে পারবেন, আপনার পরিচয় কি? আপনার নাম কি? কোত্থেকে এসেছেন আপনি? তাহলে কথা এটুকুই দাঁড়াল, কাঁটা দেখার পর নির্ণীত হবে, আপনি কে? ওকে? সিরিয়াস প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম কিন্তু! একেবারে অস্তিত্বে টান দিলাম হয়তো!


p 26. 13

বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে একজোড়া শালিক হয়ে যায় সুবোধ-স্বপ্না


তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে ভূতের গলি। ভিজে যাচ্ছে আজিজ ব্যাপারীর বাড়ি। বৃষ্টিতে ভিজছে দুজন। ওদের নাম, সুবোধ চন্দ্র দাস ও স্বপ্নারানী দাস। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ওরা শালিক হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কীভাবে শালিক হতে পারে? পারে। মানুষকে নিয়েই তো দাশ বাবু লিখেছেন, ‘যে জীবন দোয়েলের, ফড়িঙের, মানুষের সাথে তার হয় নাক দেখা।’ অর্থাৎ মানুষের কেউ দোয়েল যেমন, ফড়িং যেমন, মানুষের কেউ শালিকও হয়। বাবুই হয়। কাক হয় না? তিতির তো হয়ই। মানুষের কেউ কবুতর হয়। সেই কবুতর বাকবাকুম বাকুম করে।

সুবোধ-স্বপ্না ভিজতে ভিজতে ঘরে ফেরে। বৃষ্টিতে উঠোন ভেসে যায়। পাতকুয়াতে জল বাড়ে। রাতে, সেই কুয়ার জলে সাঁতার কাটে টলটলে এক চাঁদ। তারপর কি হয়? কুয়ার জলের বিম্বিত চাঁদ ধরতে চাইলে কাঁটা দেখতে হবে। চাঁদ কি ধরা যায়? যাবে না কেন? চাঁদে মানুষ হেঁটে বেড়াচ্ছে, চাঁদের মাটি খামচে নিয়ে পৃথিবীতে চলে আসছে আর চাঁদ ধরা যাবে না, তা আর হয় না। তাই বলে জলে বিম্বিত চাঁদ ধরা যাবে? যাবে হয়তো। সুবোধের বালিকা বউ স্বপ্নারানী ধরতে চেয়েছে সেই চাঁদ। এটুকুই বলে রাখলাম, বাকিটুকু দেখেবন রুপালি পর্দায়।


p 26. 14

এক ফাঁকা মাঠে মাটির রাস্তায় শুটিং হয়েছিল সুবোধ-স্বপ্নার


আমাদের মাঠের শুটিং শেষ হয়ে আসে। মাঠে, মাটির রাস্তা ধরে বাইসাইকেলে সুবোধ-স্বপ্না যায়। কোথায় যায়? সুবোধ-স্বপ্নার সঙ্গে বাকি লোকজন কারা? আমরাই। আমরা কারা? আমরা কাঁটা টিমের লোক। নির্মাণ শ্রমিক আমরা। আমরা কাঁটা নির্মাণ করছি। আমরা ভূতের গলিতে এসেছি এ কারণে যে, একটি ভালো ছবি দেখাব দর্শককে। ঠিক যেরকম ছবি তারা দেখার সুযোগ সচরাচর পায় না, আমরা সেটা করছি। আমরা কারা? বারো জায়গার বারো ভূত আমরা। এসেছি ভূতের গলিতে। ভূতের গলি থেকে একদিন আমরা শুটিং শেষ করে চলেও যাব।

চলে এসেছি আমরা। এখন, পোস্ট প্রোডাকশন কারখানার মিস্ত্রিদের নিয়ে আছি। কিছু দিনের মধ্যেই আপনারা কাঁটা দেখবেন। দেরি-ফেরির কথা তোলার কোনো মানে নেই। ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কি ভালো কিছু পেয়েছেন কখনো? দেখেছেন কখনো?


আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ১ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ২য় পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৩য় পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৪র্থ পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৫ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৬ষ্ঠ পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৭ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৮ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ৯ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা ১০ম পর্ব
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১১
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১২
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৩
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৪
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৫
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৬
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৭
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৮
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ১৯
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২০
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২১
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২২
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২৩
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২৪
আরও পড়ুন : জার্নি অব কাঁটা পর্ব ২৫


কাঁটা প্রোডাকশন ফটোগ্রাফি : হোসেইন আতাহার

 

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ১ ডিসেম্বর, ১৯৭২, ঝিনাইদহ। বেড়ে ওঠা, বসবাস:  ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, খুলনা ও ঢাকা। একাডেমিক (সর্বশেষ) পড়ালেখা: চারুকলা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রন্থ প্রকাশনা: কবিতার বই কয়েকটি, গদ্যের বই কয়েকটি। সম্পাদিত গ্রন্থ: ২টি। ছবি নির্মাণ: ‘ব্ল্যাকআউট’ (২০০৬) আনরিলিজড। ‘রাজপুত্তুর’ (২০১৪), ‘কাঁটা’ (২০২৩) । পেশা: আর্ট-কালচার চষে বেড়ানো।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।