রবিবার, অক্টোবর ১৮

আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ৬ষ্ঠ পর্ব

0

আজি হৃদয়ের সব আশা

 

পত্রমিতালী যে করবো, আম্মাকে না বলে কি সেটা করা যাবে?

আম্মারে না জিগাইয়া, কেমনে সেইটা করোন যাইবো? বকুলি বা তাহেরা খালাম্মা—এই পত্রমিতালী করা বিষয়ে, তাদের বাড়ির বড়োদের কাউকেই কিছু বলতে যায় নাই। কারণ বড়োরা তাদের কোনোকিছুর দিকে অতো নজর দেওয়ার টাইম পায় না। মাইয়া সিয়ানা হইয়া গেছে, অখন অগো ভালাবুরা অরা বুঝুক। আর, ভালা সম্বন্ধ পাইলে তগনগদ বিয়া দিয়া দিমু। তহন আবার পড়াপড়ি কী! জামাইয়েই দেখবো নে তহন হের বউয়ের আওভাও। এমন এমন নাকি কথা বলে বকুলির আম্মায়, আর তাহেরা খালাম্মার ভাই-ভাউজেরা। কাজেই ডাকপিয়নে তাহেরা খালাম্মা কী বকুলির নামে আসা পত্রগুলা দিয়ে যাচ্ছে হরদম, মুরুব্বিরাও দেখছে সেইটা, কিন্তু ভালোমন্দ কিচ্ছু জিজ্ঞেস করার তাগাদা নাইই তাদের। তারা আছে ভালা-সম্বন্ধের সন্ধানে।

কিন্তু আমার জন্য দুনিয়া কি এমন সোজা নাকি? আমার দুনিয়া হচ্ছে নিষেধে-মানায় গিজগিজ করতে থাকা দুনিয়া। আর বাড়ির বড়োরাই শুধু না, গোষ্ঠীর কেউই তো এমন চিন্তা মাথায় আনে না যে, ভালা সম্বন্ধ আওয়া মাত্র তাগো এই আঁখিরে, এই মাইয়ারে, পার করতে হইবো! তাইলেই ভেজাল শেষ। এমন ভাবনা তো কারো মাথাতেই নড়েচড়ে যেতে দেখা যায়ই না, আমাদের এইদিকে।

তাদের মুখে শুধু এক কথা। পড়া করতে হবে। পড়া করে যেতে হবে, অনেক পড়া। লোকেরে বিপদের কালে প্রাণ দিয়ে আগলে রাখতে শিখতে হবে, নানু যেমন করে, আব্বা যেমন করে, মামা যেমন করে—ঠিক ঠিক তেমন তেমন। আর! আম্মা যেমতে বলে, তেমতে তেমতে চলোন লাগবো।

মানাগুলা মান্যি করতে হইবো। বেদ্দবি করোন তো যাইবোই না।

আমার জন্য অনেক অনেক জাতের মানা আছে।

আম্মারে না জিজ্ঞাস কইরা কিছু করতে, মানা আছে না? আছে। নিজে নিজে লুকায়ে লুকায়ে দোকানের তেঁতুলের আচার খাইতে মানা আছে। গাছে চড়তে, মানা আছে। অকাজে বাড়ির বাইরে এক পাও দিতে মানা আছে। সিনেমার গানের বই, কেউ হাতে দিলেও, সেটা খুলে দেখা যাবে না। মানা আছে। স্কুলশেষে ডিআইটি মার্কেটের দোকানে দোকানে টইটই করোনে মানা আছে। বেশি বেশি ভাত খাওয়ায় মানা আছে। চা তো বাড়িতে ঢুকবেই না। নেশা, নেশা অইটা। খবরদার।

আম্মারে না জিজ্ঞাস কইরা কিছু করতে, মানা আছে না? আছে। নিজে নিজে লুকায়ে লুকায়ে দোকানের তেঁতুলের আচার খাইতে মানা আছে। গাছে চড়তে, মানা আছে। অকাজে বাড়ির বাইরে এক পাও দিতে মানা আছে। সিনেমার গানের বই, কেউ হাতে দিলেও, সেটা খুলে দেখা যাবে না। মানা আছে। স্কুলশেষে ডিআইটি মার্কেটের দোকানে দোকানে টইটই করোনে মানা আছে। বেশি বেশি ভাত খাওয়ায় মানা আছে। চা তো বাড়িতে ঢুকবেই না। নেশা, নেশা অইটা। খবরদার। ঘুম হারাম হবে, মুখচোখ কালাকুষ্টি হবে কিনা, কে বলতে পারে! খাইতে চাইলে ওভালটিন খা। হরলিক্স খা। নাইলে তামানদিন ভইরা লেবুর শরবত খাইতে থাক। কিন্তু চা! আসতাগফেরুল্লাহ!

দিনকাল ভালো না। এই ১৯৭৩ সালে, যেই কন্যারে যেই বাঘা পোলার ভালো লাগতাছে, সিধা তুলে নিয়ে যাইতাছে। বিবাহের জন্য। এইদিক দিয়া এই ডাকাইতগুলারে ভালো লোকই বলা লাগে। মাইয়া তুইল্লা নিয়া, সম্মানের সাথে বিবাহই করতাছে। কোনো একজনেরেও কোনো ছেড়ায় কিছু একটুও অসম্মানী করতাছে না। কিন্তু এইটা কী মগের মুল্লুক! দ্যাশে দেহি কোনো বিচার নাই। এমনে এমনে বড়োলোকের মেয়েগুলারে যে আজাত-কুজাতের পোলারা তুইল্লা নিতাছে গা! এইটা কী হইতাছে! নরমাল বিয়ার প্রস্তাব নিয়া গেলে কি অগো হাতে অই বাপেরা মাইয়া দিতো? কোনোদিনই দিতো না।

দ্যাশে যা হইতাছে! দেশে কোনো আইন-আদালত-বিচার তাইলে নাইই আর। অই তো, টানবাজারের ভাদাইম্মা এক ছেড়া, সে কিনা হুদা এক বকলম ডাকাইত। সে কী করছে, সে বিষম এক ব্যাপার ঘটাইছে। সে কিনা এই নারায়ণগঞ্জের জামাল সোপ ফ্যাক্টরির মাইয়ারেই তুইল্লা নিছে গা! মাইয়ায় ম্যাট্রিকের শেষ পরীক্ষাটা দিয়া বাইর হইয়াও সারে নাই, সেই পোলায় পিস্তল ঘুরাইতে ঘুরাইতে আইসা, মাইয়ারে গাড়িতে তুইল্লা হাওয়া। অমন বড়োলোকের মেয়েই যদি রেহাই না পায়, তাইলে সাদাসিদা অফিসারের ভোলা-বোকা মাইয়ায় কী নিরাপদ নিকি এখন! যুদি কোনো ফাতরা-বদমাইশে নজর দিয়া দেয় এই বাড়ির, মাত্রই মাথা-জাগনা দিতে থাকা মাইয়াটার দিকে!

ওদিকে, আজাইরা বইপুস্তক পড়েটড়ে, এই ভোম্বলের অন্তরেই যদি দীল-খোওয়ানির বাস্না জাগনা দিয়া দেয়! আপথের-কুপথের ডাকে যুদি সে তখন চুপেচুপে, বেতালা হয়ে যায়! অমন আপথের ডাকে উতালা হওনেরই তো বয়স এইটা; এই বেবুঝের। সর্বনাশরে। তখন সর্বনাশ। সীমাছাড়া হওনের বাতাসে যুদি অই চৌদ্দ বছুইরাটারে ধাক্কা দিয়া ফালায়, নিরলে গুপ্তরকমে! মাবুদ মাবুদ!

আল্লায় আমার বেকুব নাবুঝটারে রক্ষা যেন করে। আম্মার পরান সদাসর্বদা টলটলান্তি দিতে থাকে কিনা ডরে? অনেক থাকে।
কাজেই কোনো হাবিজাবি বই-পুস্তক পড়তে যাবা না। আলু-ঝালু কর্মের দিকে পাও বাড়াইবা না। একদম না। পড়লে পড়ো না বই—বাড়ির আলমারিভরা কি বইয়ের কমাকমি আছে? সবই তো তোমার।

যত মনে চায় ফেইরি টেল পড়বা, পড়ো। শরৎচন্দ্র আছে আলমারি বোঝাই, পড়তে থাকো। পুরানা ‘বেগম’ তো গোছানো আছে বোন্দা বোন্দা। পড়ে দেখো। ইত্তেফাক তো রেগুলার, নিত্যি, আসতাছেই। আব্বা আম্মায় কিছু কেনাকাটা করতে গেলেই, তোমার জন্য বইও নিয়ে আসা হইতাছে। হায়াৎ মামুদের রবীন্দ্রনাথের জীবনী বই। পাইছো কিনা? লেবু মামার সপ্তকাণ্ড? পাইছো কিনা? দিলুর গল্প? পাও নাই আচমকা? সুকুমার রায় উপেন্দ্রকিশোর আছে না? লীলা মজুমদার কি তোমার নাই? বন্দে আলী মিয়ার রূপকথা, নাই? আছে তো। এই তো এই রোববারে, আব্বা এক ঝলকের জন্য বইয়ের দোকানে গিয়া পায় নাই নাকি ‘ঝিকিমিকি’ বইখানা? লগে লগে তোমার জন্য কিন্না লয় নাই? লইছে তো!

তাইলে অন্য উল্টা-সিধা বই আবার তোমার দরকার হইবো কেন? অখন আবার কিনা, এই ১৯৭৩ সালে, তুমি ‘বিচিত্রা’ও পাইতাছো ঘরে। আর কিছু কেন লাগবে? চিত্রালী—বনহুর—নীহাররঞ্জন—মাসুদ রানা—ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়—পড়া লাগবো ক্যান? এইসব কী! খবরদার কিন্তু।

এতো এতো ‘খবরদার, খবরদার’ পেতে থাকলে, কোনো পাও কি না-ধড়ফড়ায়ে পারে? অইসব আপথে-বিপথে যাওয়ার জন্য, চুপেচাপে, না-ধড়ফড়ায়ে পারে? পারে না। আমার তো পারে না। আমার তাই খালি অইসব না-এর দিকে যাওয়ার জন্য দিশাছাড়া দিশাছাড়া লাগতে থাকে। চুপেচাপে চুপেচাপে আমার দিন ও রাত খালি ছটর-ফটর করতে থাকে। আর, আমাকে ধাক্কা দিতে থাকে। ফুঁসলাতে থাকে আমার অন্তর, ‘চিত্রালী’ পড়ার জন্য। বনহুর পড়ে যাওয়ার জন্য। নীহাররঞ্জন একদম প্রায় গিলে খাওয়া জন্য। ‘আমি সে ও সখা’ পড়ে পড়ে, তেমন ত্যাগী-প্রেমিক হয়ে ওঠার জন্য, আমাকে ছিন্ন-নিছিন্ন করে দিতে থাকে আমার দিন ও রাতেরা।

অই অই বই কি আম্মারে জিজ্ঞাস করে, তবেই পড়া ধরি আমি? ধরেছি নিজের ইচ্ছামতো। লুকায়ে লুকায়ে। অনেক লুকায়ে। জিজ্ঞাস করলে কি পারমিশন দিতো? এট্টুও দিতো না। তাই আমি ধুম লুকায়ে অইসব বই হরদম হরদম গিলে যেতে থাকি। গেলাই তো বলে ওটাকে। কখন না আবার আম্মার চক্ষে পইড়া যায়! এই ডর নিয়ে নিয়ে থির মনে, রয়সয় করে করে অই বইসকল কক্ষনো কি পড়তে পেরেছি! কেবল হুমদাম তাড়া, কেবল ডর, কেবল যেন দৌড়।

আম্মাও চাচ্ছিলেন পড়ে উঠি ওই সবই। পড়ে পড়ে জেনে নিতে থাকি দুনিয়া। কিন্তু মুরুব্বির রোলটাও তো মাথায় রাখার ঠেকা আছে তাঁর। মুরুব্বিরা সবকিছুতে বড়োগলায় পারমিশন দিলে চলে নাকি? সৃষ্টিসংসার রসাতলে যাবে না তাইলে? সেই কারণে সবই তিনি খেয়ালে রেখেছিলেন, তবে ভঙ্গী করেছিলেন যেন দেখছেন না। কিছুই যেন তাঁর খেয়ালে আসছে না।

তারপরেও কি আমার পড়াপড়ির কোনোকিছুই তার নজর এড়িয়েছিলো? আমার আম্মার? নজর এড়িয়েছিলো কি? অসম্ভব। কিচ্ছুই তার নজর এড়ায় নাই। নজরে রেখেছিলেন ঠিকই। এখন বুঝে উঠতে পারি, আম্মাও চাচ্ছিলেন পড়ে উঠি ওই সবই। পড়ে পড়ে জেনে নিতে থাকি দুনিয়া। কিন্তু মুরুব্বির রোলটাও তো মাথায় রাখার ঠেকা আছে তাঁর। মুরুব্বিরা সবকিছুতে বড়োগলায় পারমিশন দিলে চলে নাকি? সৃষ্টিসংসার রসাতলে যাবে না তাইলে? সেই কারণে সবই তিনি খেয়ালে রেখেছিলেন, তবে ভঙ্গী করেছিলেন যেন দেখছেন না। কিছুই যেন তাঁর খেয়ালে আসছে না।

আম্মাটা! আমার মা-টা, কেমন যে এক বাঘিনী! কেমন যে দশবাহুধারিণী সেই মেয়ে, তার বাচ্চাগুলারে রক্ষা করার জন্য! কেমন যে কঠোর নির্দয়া সেই আম্মা! কেমন যে শীতল পুষ্কুনীর মায়া, সেই আম্মাটা। একে তিনি আছিলেন গার্লস স্কুলের ভূগোল আপা, আবার দুনিয়ার ঝাঁককে ঝাঁক ভাই-ভাতিজি-ভাইস্তা-ভাইগ্না-ভাইগ্নীর একমাত্র সর্দার মুরুব্বি। তাঁর হাতে শাসনভার দিয়েই, তবেই না তাঁর ভাই-ভাউজ-দুলাভাই-বুজিয়ে শান্তিহালে আইওর-নাইওর খেয়ে-বেড়ায়ে চলেছে। দুপুরের নাইলে রাইতের শেষ শো-এ বায়োস্কোপ দেখা চালাতে পারছে তারা সকলে! পোলাপানগো ভালাবুরা দেখোনের মানুষ তো পোলাপাইনটির লগেই আছে। এইজন্যই পোলাপান বিষয়ে কোনো পেরেশানি আসে নাই তাদের দিলে।

সেই আম্মারে না-জিজ্ঞাস করে আমি পত্রমিতালী করতে যামু! এত্তাবড়ো কইলজা নিকি আমার! ইনভেলাপ পাওয়া গেছে, কেমনে প্রথম চিঠিটা লিখবো, সেইটাও মনে মনে গুছায়ে নেওয়া গেছে, কোনখানে সেই চিঠি পোস্ট করবো, তাও সাব্যস্ত করা গেছে; কিন্তু আম্মারে না-জিজ্ঞাস করে ওই পত্রমিতালীর কর্মে আগানো যাবে নাকি! এইটা তো লুকায়ে বনহুর পড়া না। বা, ইস্কুলের টাইমে মাসুদ রানা পড়ে, সেইখানেই ফেরত দিয়ে আসার কর্ম না এটা। এই যে পত্র দেবো, সেটার কি উত্তর আসবো না? আসবে। সেটা তো লুকায়ে রাখার বিষয় হবে না। তখন!

কী করবো আমি! কী করবো! এদিকে দিনের পরে দিন যাইতাছে গা! সেই ছেলে তো তারপরে আর আমার চিঠির উত্তরই দিবে না। কেমনে দেবে? এতোদিনে সে কি হাজারে-বিজারে পত্র পেয়ে যায় নাই? গেছে তো নির্ঘাৎ। তাহলে আমার পত্র নিয়ে সে আর কী করবে! বেহুদা বোঝা হয়ে যাবে না নাকি!

আম্মারে না জিগাইয়া কেমনে লেখমু আমি তবে! এত্তা হিম্মত আমার কবে আছিলো! হিম্মত নাই, কিন্তু আমি লয়-লক্ষ্মী ভালা কেউ? ভিতর-বুইদ্ধা বান্দর কি নই আমি? হিম্মত নাই, কিন্তু গোপনে-পলাইয়া নিষেধ অমান্যি করতে ছাড়ি না, এমুন খারাপ আমি। এমুন বেদ্দব। আইচ্ছা, বেদ্দব বান্দর হই, আর যা হই, এই পত্রমিতালীর কর্মখানা আমি আম্মারে না-জানান্তি দিয়া করতে যামু না।

‘আম্মা গো, শোনেন।’ আমি আমার ধুক্কুর-মুক্কুর অন্তররে হেঁচড়ে-মেচড়ে নিয়ে যাই আম্মার সামনে; ‘আম্মা! আমি পত্রমিতালী করমু। করি?’

‘কী?!!’ আম্মার স্বর শোনা যায় ঠিকই, কিন্তু আমি যেন দেখি যে, অই স্বর য্যান মাত্র ধার-দেওয়া বটির মতন শনশনা দেখায়; ‘এইটা কী জিনিস?’

‘চিঠি লেখুন্তি আম্মা। দূরের কেউরে চিঠি লেখুন্তি। চিঠি লেইক্ষা লেইক্ষা বন্ধুত্বি করোন। আমি করমু আম্মা?’

‘তর কি বন্ধু কম পড়ছে?’ আম্মার ঠান্ডা গলা শুধায়; ‘এইদিকে নাজনীনে। আনারে। সাগাইয়ায় আছে মনসুরে। ইস্কুলে বকুলে, জিনাতে, জায়েদায়। রোকেয়ায় তো আছেই। আরো লাগবো? কতো বন্ধু লাগে একজনের?’

‘আম্মা, এইটা অমুন বন্ধু হওন না। এইটা চিঠি লেইক্ষা লেইক্ষা চিনাজানা হওন। চিঠি লেখার বন্ধু আম্মা এইটা। লেখি চিঠি?’
‘চিঠিই যুদি লেখতে চাস, তাইলে তর খায়ের ভাইরে ল্যাখ। ভৈরব বাজারে। নাইলে তর ছোটো চাচিরে ল্যাখ। বহুত খুশি হইবো নে, এই নয়া বউয়ে। অচিনা কেউরে চিঠি লেখোন লাগবো ক্যান! এইটা কিয়ের হাউস?’

‘আম্মা! হগলতে করতাছে আম্মা, পত্রমিতালী। আমারও করতে মোনে চায়। লেখি?’

‘হারামও না। অচিনা এক পোলারে তুমি চিঠি লেখবা, হেইটা জানলে তোমার দাদায় তোমার বুবুয়ে কী কইবো! বড়ো হইতাছে, না একটা বেশরম নিলাজ হইতাছে এই মাইয়ায়! কইবো না? আর তোমার বড়ো কাকায় হোনলে, বাড়ি ফাটাইয়া ফালাইবো না? আমি তাগো কোন জব দিমু? তাগো বংশের মাইয়া, এমুন বেলাইনের কর্ম করতাছে! কইবো না, মায়ের লাইয়ে মাইয়ায় এমুন পত্র দেওয়া-দেওয়ি করতাছে! আমি পরের ঝি, আমারে দুষি করোন তো সহজ। খবরদার কইতাছি।’


আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ১ম পর্ব
আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ২য় পর্ব
আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ৩য় পর্ব
আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ৪র্থ পর্ব
আমাদের নিরুদ্দেশের ট্রেন : ৫ম পর্ব


[বি. দ্র. লেখকের নিজস্ব বানানরীতি অনুসরণ করা হয়েছে।]

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

বাংলা ভাষার একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার। আকিমুন রহমানের গ্রন্থসমূহ হলো : ‘আধুনিক বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ (১৯২০-৫০)’, ‘সোনার খড়কুটো’, ‘বিবি থেকে বেগম’, ‘পুরুষের পৃথিবীতে এক মেয়ে’, ‘রক্তপুঁজে গেঁথে যাওয়া মাছি’, ‘এইসব নিভৃত কুহক’, ‘জীবনের রৌদ্রে উড়েছিলো কয়েকটি ধূলিকণা’, ‘পাশে শুধু ছায়া ছিলো’, ‘জীবনের পুরোনো বৃত্তান্ত’, ‘নিরন্তর পুরুষভাবনা’, ‘যখন ঘাসেরা আমার চেয়ে বড়ো’, ‘পৌরাণিক পুরুষ’, ‘বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতার দলিল (১৩১৮-১৩৫০ বঙ্গাব্দ)’, ‘অচিন আলোকুমার ও নগণ্য মানবী’, ‘একদিন একটি বুনোপ্রেম ফুটেছিলো’, ‘জলের সংসারের এই ভুল বুদবুদ’, এবং ‘নিরুদ্দেশের লুপ্তগন্ধা নদী’।

আকিমুন রহমান ভালোবাসেন গন্ধরাজ আর বেলীফুল আর হিজলের ওড়াভাসা! আর তত্ত্বের পথ পরিক্রমণ! আর ফিকশন! ঊনবিংশ শতকের ইউরোপের সকল এলাকার গল্পগাঁথা আর এমিল জোলার কথা-বৈভব! দূর পুরান-দুনিয়ায় বসতের সাথে সাথে তিনি আছেন রোজকার ধূলি ও দংশনে; আশা ও নিরাশায়!

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।