শুক্রবার, অক্টোবর ১৬

অক্টোবরের চিঠি ও অন্যান্য কবিতা

0

প্রস্থান মুহূর্ত


টাইগারপাস এলে পায়ের গতি থামিয়ে দেয় অনুজ্জ্বল আলো। স্তিমিত পোলবাতির নিচে ঝরে পড়া মুখরতা; তুমি অস্ফুট স্বরে বিগত স্বপ্নের কথা বলো যেমন। শীতের পাতা থেকে অজগরের খোলস, বিকল রেলের মৌনতা ভ্রুতে এসে ভর করে কেবল। ছায়াবৃত পাহাড়গুলো সহস্র বিকাল চুরি করে দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তার জঙ্ঘা সবুজ; বাতাস আগের মতোই নোনা আছে।


সে


আদতে সে কি আছে? নাকি ভুলক্রমে চাপা পড়ে গেছে ঘোরলাগা মিথের ভেতর? গত রাতের আবছা দুঃস্বপ্নে হঠাৎ মরুঝড় থেমে যাওয়ার পর, যেই সরু উপত্যকা ধরে ফিরে গেল খতরনাক ডাকাতের কাফেলা; মনে হতে লাগল উপকণ্ঠেই বাড়ি তার। কাঠের খিড়কির সামনে দাঁড়ানো অন্তহীন প্রস্তরযুগ। আমার প্রবেশাধিকার নাই।


সহোদরা


প্রার্থিত ফুল হাতে না পেলে, বেদনা ঘিরে আসতে পারে জন্মোৎসবে। হাসপাতালে, শুশ্রূষার পাশ থেকে প্রসবিণী গোণে রাত। ফিনাইল মিশ্রিত ঘ্রাণ ম্যাগনোলিয়ার বাগানের কতোটা সীমা জুড়ে ছড়িয়ে গেছে৷ আয়ুরেখা ধরে গণক বেড়ালও হেঁটে আসতে পারে ওই তমসানির্মিত পথ৷ আক্রান্ত আলোর গর্ভে প্রেম ও ঘৃণা, যমজের মতো শুয়ে আছে।


অক্টোবরের চিঠি


প্রতীক্ষিত অক্টোবর মানেই যেন ঝরে পড়া শিউলি; পথজুড়ে বিছিয়ে আছে মুহূর্তের ভালোলাগার দেশে। এই তো, কার্নিশে কুয়াশা পড়া শুরু হলো মাত্র। কোথাও যাওয়ার তাড়া নাই, অথচ অনেক জায়গায় যাওয়া বাকি এমন সব তামাদি বিকাল। ভাষার কারাবাসে থেকে তখন কতো কিছুই তো লিখতে চাইব তোমাকে। নৈঃশব্দ্য ছাড়া আর কিছুই পৌঁছাবে না তোমার জানালায়।


দূরত্ব


চাইলেই হয়তো শেষ হয় না পথ। দূরে জেগে থাকে কাঁটার মিনার। অথচ দেজাভ্যুর রাতগুলোতে তুমি, খালি পায়ে একাই পেরিয়ে যাচ্ছো পাহাড়, নদী ও সাঁওতালদের গ্রাম। তথাপি আমিও, ক্র্যাচে ভর দিয়ে পা; পেছনে অজস্র ক্রিসমাস ও ডিসেম্বর। শ্বাপদের হানা পথে পথে। বলো, তাহলে আর কতদিনে, যৌথভাবে একা একা, পৌঁছাতে পারব নিজস্ব প্রাগজ্যোতিষ?

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ৭ জুন, গাজীপুর। কবিতা ও গদ্য লিখেন। ভাষা ও মনস্তত্ত্ব বিষয়ক নিরীক্ষাধর্মী প্রচেষ্টার ব্যাপারে উৎসাহী।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।