১.
দরজা খুলে চলে যাব সমুদ্রে
এমন রোদ দুপুরের দিনে
হাঁটাপথ তুমি দৌড়ে যেতেই পারো।
যদি ঘুমাও
যদি পাখি ডাকে
যদি অযথা জন্মায় অনেক মানুষ
যদি এমন ঘোর দুপুরে
মরমী গানের মায়া ছেড়ে গ্রাম ছাড়ে কোনো পা ভাঙা চড়ুই।
তবে সেইসব শীতের রাতে এরচে বেশি অপরাধী কী দৃশ্য দাঁড়ায়?
তবু যদি ভাতঘুম হয়,
আজানের সঙ্গেই বাজে শাঁখ
যদি ভীড় হয় জানলায়
তবে দরজা খুলে চলে যাব সমুদ্রে।
কারণ বিদায়বেলায় আমার সঙ্গে যাবে কেবল এক পরম বন্ধুহীনতার ভীড়, এক করুণ শব্দহীনতা।
২.
দু’চোখ তোমার দু’রকম—
তোমাকে বাঁচাতে গিয়ে এমন এক যুদ্ধ বাঁধালাম, নিরবধি।
এখন ভুলে গেছি তোমার বাড়ির পথ
ফিরব কোথায়?
আমার ভালো থাকার উপায় এখন যেকোনো মানুষই এক লাইনে বলে দিতে পারে
মদ্যপ জীবনের ফলাফল সকলেরই জানা।
ছায়া মাড়িয়ে যেতে যেতে আমরা এত আনন্দিত!
শরীর ডিঙানোর লোভ আমাদের নেই
তবুও পৃথিবীর বিরুদ্ধে একটা দীর্ঘ মতামত আছে।
সেসব বলার আগে বলে রাখা ভালো—
বাকি সব কথা একদিন বলে রেখো
যেভাবে মেয়েরা দ্রুত বর্ণনা করে বলে তাদের ছোটোবেলা।
তুমিও রেখে দিও অ্যাকুরিয়ামের মাছের সামনে মাটির বিড়াল।
দুঃখিতদের ছেড়ে যেও যদি দেখো সমুদ্রের চাঁদ।
আরও যদি পারো
দীর্ঘ কথপোকথন চুমুতে কমিয়ে এনো
কারণ সকল সহজ কথাই দুর্বোধ্য ভীষণ।
৩.
পৃথিবী ধ্বংস করে দেয়ার মতো রাগ লাগে আমার
তাই আমি তোমার দিকেও চোখ তুলে তাকাই না।
ছোটোবেলার মতন আরেক জীবন লুকায় রাখি স্বপ্নে
আর সারাদিন খোলা রাখি বিশ্বাসের দ্বিতীয় চোখ।
৪.
শীতের মাতন তোলা শাড়ি তোমার
বুক ঢেকে ঢেকে আর কতদূর হাঁটবে বলো
হৃদয়ের সব ফুল যার শরীরে গড়ায় তার সঙ্গে এত কিসের কথা
কিসের এত হিসাব নিকাশ
শাড়ির পাড় তুলে হেঁটে আসো টিএসসি, মগবাজার, বার্লিন কিংবা কলকাতা।
মনে রেখো,
চলে যাবার বেলায় সব চোখ বদলায়।
ঢাকার পরীবাগে প্রত্যেক দিন নতুন প্রেম হয়
তবু তুমি এত কিসের ক্ষমার কথা বলো
যে কাজ স্বয়ং খোদাও এড়ায়।
৫.
পরিচয় সংকটে কেটে গেছে প্রায় আমার পুরো জীবন
লোকেদের বলে বলে বারবার বুঝেছি— বলার মতন করে বলা হচ্ছে না কিছুই।
আমার মা সারাজীবন ধরে বলে গেছেন আল্লাহর ভয় করো
আমি সারাজীবন ধরে মানুষের ভয়ই কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
মেঘডাকা ভোরের মতো ভয়ংকর সুন্দর শব্দরা আমার ঘুমের ভেতর থেকে
ভায়োলিন বাজাতে বাজাতে ছিঁড়ে ফেলেছে তার,
সে শব্দ মেরামতের কোনো কারিগর আমার নেই।
আমার ঘুমেরা আমাকে রেখে চলে গেছে আজমির কিংবা বার্লিনে
আমি প্রচণ্ড বিরক্তিতে শুনছি প্রায় একশ চড়ুইয়ের ডাক।

মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর। প্রথম কবিতার বই— ‘পৃথিবীতে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত ঈশ্বর’ (২০২৪), দ্বিতীয় কবিতা বই— ‘প্রথম জন্মের দিকে দৌড়াচ্ছে একটা ঘোড়া’ (২০২৬)।