বিষাদ
এইসব দেখে অন্তরে উল্লাস হয় খুব
শিকল পরিয়ে বাঁধি নিজ হাত নিজে
চাবি গিলে ফেলে উল্লাসে মাতি খুনে
গোপনে প্রোফাইল ঘেঁটে দেখে আসি
খুব রাতে জেগে আছো কি না
আত্মহত্যার ভস্ম মাখি ফর্সা হওয়ার লোভে
এইসব পুণ্য লেখা হবে সার্ভিস বুকে
ভবিষ্যনিধির খাতা কাটাকুটিহীন সতী
পাকা করে যাচ্ছি দেওয়ালের ভিত
হৃদয় বন্দকী রেখে শোধ করা সব দেনা
অযথা মরে গেলে ভুল করে
কক্ষনো কোনো আঙুলও নাচবে না
ক্রমশ পাথর করে নিচ্ছি অতল
সজলতা শুধু বিলাসীকে মানায় বলে
খুনিরও কী গোপন অশ্রু থাকবে না?
হিসাব
পথের সূচনা ও অন্তিমের মাঝে
উন্মুখ হয়ে আছে মাধবীর লতা
সূর্যমুখীর দেখা পেয়ে যেতে পারো
ফুটেছে কিছুটা আর স্বপ্নের ভারে
কুঁড়িরা দুলছে ঈষৎ লাজুক যেন
ভুল করে যদি ভুল করে থাকো
কান পেতে শোনো বনানীর গান
হৃদয় বিলানো কামিনীর থোকা
তুলে নিতে পারো চোখের খোঁপায়
নাগরিক শ্বাস দোলাচল ভয়
জোর করে কিছু ঠিক করা ভুল
ফুলেরাই বলে দেবে নিরাময়
সময়ের কাছে হাত পেতে দেখ
স্রোতের আজান আলুথালুময়
দীর্ঘশ্বাসের চুলে ঠোঁট রেখে
মলিন পায়ের কাদা মুছে দিয়ে
বলে সবটুকু নয় অপচয়
যতই কাঁদো
ধরো, আমি নেই, ছিলাম না কোনো কালে
বলে তো ছিলাম, সহ্য করার ছলে
বেশি দিন কিছু রাখাই যায় না। কেউ
পারে তো, কেউ না
আমিও ভাবছি, ছিলই না কেউ তীরে
ক্রমশ অন্ধ, তলাচ্ছি ধীরে ধীরে
উঁচিয়ে আঙুল তারাদের খুব বকি
একটুও আর না
ফুলের মতোই দূরেই সফেদ থাকো
মুচড়ে ভাঙ্গা সুবিশ্বাসের সাঁকো
যতই কাঁদাও, কাঁদো, সহজে তো কেউ
কাউকে পায় না
পণ
কিছুতে ছোঁব না আগুন, তরল
ছাতিমের মদে পাগল বাতাস
শিরায় শিরায় বদ্ধ প্রলাপ
উদাসীন ভেজে শিশিরের চাঁদ
সুবাধ্য সুখ আবার সুখের কাছে যাক
এই তো দারুণ কুয়াশার ঘোর
হাতের আঙুলে মূর্ছিত শোক
তালুর পিপাসা জিভে পুড়ে খাক্
সুখ থেকে উঠে সুখ ফের তার কাছে যাক
কিছুতে ছোঁব না আগুন, তরল
স্বচক্ষে চোখ নিজেই দেখুক
সুখ চেটে খায় সুখের অসুখ
সুখ থেকে উঠে সুখ ফের তার বুকে যাক
ইচ্ছে
কান্না পেলে যেন হেসে উঠতে পারি
ঝিলমিলিয়ে উঠে চোখের রুপো জলে
অন্ধদের ঠিক পথ দেখাতে পারি
একা হলেও যেন একা গাইতে থাকি
ভয়ের কারিকুরি ভেঙে দৃপ্ত হাতে
জ্বালিয়ে আলো রাখি, সুরে না দিই ফাঁকি

একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং গবেষক। তিনি কলকাতার সরসুনা কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় পিএইচডি সম্পন্ন করা ড. বীর বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণার জন্য পরিচিত। এছাড়া তিনি ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ নিয়েও কাজ করেছেন। সম্পাদনা, গবেষণা ও মৌলিক গ্রন্থ—সব মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা কুড়ির অধিক।