শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮

শেষকৃত্য ও অন্যান্য কবিতা

0

জন্ম


আমি তো এই জন্ম চাইনি
জন্মের পূর্বাবস্থায় আমার আমির কোনো অস্তিত্ব ছিল না
কেবল দুজন নরনারীর সাময়িক আনন্দের ফসল এই জন্ম
এরপর ধীরে ধীরে এই ব্যক্তি-আমির অস্তিত্বের উদ্ভব
সেই থেকে এই জন্মের ভার আমার ওপর চেপে বসেছে
একে না বয়ে নিতে পারছি, না তো ছুড়ে ফেলতে পারছি
জন্ম—এই জন্মই আমাকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে!


আকুতি


যদি বুকের মাঝ বরাবর ছুরি চালিয়ে
দুপাশে, দুহাত ঢুকিয়ে, টেনে, হাঁ করানো হয়
দেখা যাবে, বক্ষ জুড়ে কেবল দুঃখ আর দুঃখ
কেবল, অনারোগ্য ক্ষত, কেবল
জীবন থেকে মুক্তি লাভের আকুতি!


মুক্তি


জন্মের আহ্লাদ, আমার, ফুরিয়ে গেছে;
জেনে গেছি, পৃথিবী, সবার জন্য নয়।
যারা ভালো আছে, তারা, আরও
ভালো থাক, জয়গান গাক পৃথিবীর
তাদের জন্য শুভকামনা অন্তহীন।

জন্মের আহ্লাদ, আমার, ফুরিয়ে গেছে;
জেনে গেছি, মৃত্যু ছাড়া অনেকের আর কোনোভাবে মুক্তি নেই!


ক্ষত


নিজের যে চোখ দিয়ে নিজেকে দেখা যায়, আমি তার থেকে দূরে দূরে থাকি। নিজের যে সত্তা নিজেকে মুখোমুখি দাঁড় করায়, আমি তার থেকে দূরে দূরে থাকি। ক্রমাগত ভুল আর সময়ের অপচয় করা ছাড়া, কী আছে ঝুলিতে?

সেসব ভুল, সেসব অপচয় করা সময় আজ সুদে-আসলে শোধ নিচ্ছে। অপরদিকে তা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছে- হেরে যাওয়া মানুষগুলো কী দুঃসহ ক্ষত নিয়ে বাঁচে, কিংবা, কেউ কেউ কেন বেছে নেয় স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ!


শেষকৃত্য


একটা কাভার্ড ভ্যান ডেকে নিজের মৃতদেহটা নিয়ে নিজেই একা শ্মশানে যাই। শ্মশানের চুলায় নিজের মৃতদেহকে শুইয়ে দিয়ে শুকনো চেলাকাঠে ঢেকে দিই পুরো আপাদমস্তক। এরপর নিজেই নিজের মুখাগ্নি সারি। কাছ থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকি মাথা থেকে পা অবধি কি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। নিজের প্রতি, চারপাশের মানুষের প্রতি, পৃথিবীর প্রতি অনেক আগে থেকেই একটা নির্লিপ্ত ভাব এসে গেছিল বলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এভাবে নিজের পুড়ে যাওয়া দেখতে খারাপ লাগে না একটুও। সবটা দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর, পর্যাপ্ত পরিমাণ জল ঢেলে, চুলাটা পরিষ্কার করে, পৃথিবী থেকে চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাই!

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম বলরামপুর, শাল্লা, সুনামগঞ্জ। প্রকাশিত কবিতার বই একটি। ‘কেবল একটি কবিতা’ (২০২১)।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।