জলের অতল গহ্বরে
স্বপ্নের মধ্যে কেটে গেল অর্ধযুগ।
শিকারি জীবন ছেড়ে তোমার কাছে হাঁটু গেড়ে বসি
বলি, ‘আমার শিরশ্ছেদ করো।’
আমি সেই আত্মা, যে টিকটিকির পোশাক চুরি করেছি
তারপর বাথানে ঘুরেছি, সংগ্রহ করেছি উনাহার ফুল।
তুমি আমাকে বলো ফুটন্ত নদীর কথা—
দেহে তার গহনার ঢেউ,
ফর্সা ত্বকে গোপনীয় আগুন।
সে জানে, চুনাপাথরের গুহাটি নদীর উৎসমুখ।
ভূবিজ্ঞানীর জীবন ছেড়ে তোমার প্রেমে পড়লাম।
হৃদয়ে আঁকলাম জিওথার্মাল ম্যাপ।
কেন সক্রিয় হয়ে উঠল মৃত আগ্নেয়গিরিগুলো—
যেন স্বপ্নের মধ্যে আমি সেই নদীতে পড়েছিলাম।
দেহ ঝলসে গেছে। চোখ অন্ধ হয়ে গেছে।
যেদিকে তাকাই, কেবল জলের অতল গহ্বরে
তলিয়ে যেতে থাকি।
ফুলের সিজোগ্রাফ
অপূর্ব চন্দ্রশোভা ম্লান হয় তোমার রূপের কাছে।
হাতে কী আঁকছো ফুলের সিজোগ্রাফ? দেখো, এক
জংলি অজগর নামছে কাদাজলে। তার দেহ হতে
মুছে যায় রঙের প্যাটার্ন— যেন গুপ্তচর। ন্যাশনাল
জিওগ্রাফির এ দৃশ্যে ঢুকে পড়েছি। যেন হাঁটছি
ফ্রাইয়ের অভিযাত্রীক দলে। আমন্ত্রণ জানিয়েছিল
ওয়াওরানি যুবতী। তার দেহে কোকা ফুলের ঘ্রাণ।
একদা সে শিখিয়েছিল বিষমাখা ফুঁকনির কায়দা।
নিয়েছিল সঙ্গে বানর শিকারে। আঁশটে ত্বকে
লেপে দিয়েছিল প্রেমের কলঙ্ক। তারপর আচারিক
নৃত্যগীতে আলগা করেছি বসন-ভূষণ।
বলেছি—
প্রিয় লতার সাপ, আমাকে তোমার প্রেমের নামে
হানো নীল ছোবল।
সরীসৃপের পোশাক
শার্কের প্রেমে পড়েছিলাম, গজিয়েছে দাঁত।
রক্তের ঘ্রাণে উতলা হই, যাকে-তাকে সীল মাছ
ভেবে কামড়ে দিই। আমার এই স্বভাবের জন্য
দায়ী তুমি। বসন্ত ঋতু— বৃক্ষের গায়ে আঁচড়
কাটতে শেখালে তুমি। আমি কি জানি, এর
নাম প্রেম? বনে ফুটছে কনকচাঁপা। পাতার
আড়াল হতে উড়ে যাওয়া পাখিটিকে লক্ষ্য
করে উড়েছি। জেনেছি— তুমি এভিয়ারিতে
থাকো। বর্ষায় তোমার জন্মদিন। উপহার
পাঠানো যেত উৎসুক সরীসৃপ। চেয়েছিলে—
যেন গোখরো পাঠাই। জানি না সাপুড়ে
স্বভাব।
তবু— তোমাকে ভালোবেসে পরিধান
করি সরীসৃপের পোশাক।
প্রেমের টেরারিয়ামে
মনে করো, ধ্বংস হয়ে গেছে পৃথিবী।
তোমাকে দেখি, ব্ল্যাক উইডোর গাউনে।
মিলন-ঋতুতে আকৃষ্ট করেছ; সঙ্গমে
থেঁতলে দিয়েছ মাথা, উগরে দিয়েছ
নিউরোটক্সিন। কোথায় লুটিয়ে পড়ি!
সাজিয়ে রেখেছ প্রেমের টেরারিয়ামে।
কে ছিলাম আমি— মাকড়সা না ফড়িং?
তোমার নিষ্ঠুরতার কাছে হার মেনেছি,
যেন দুর্বল হরিণটি প্রতিপক্ষের কাছে
হার মেনেছে। তৃণলোভী হরিণীটি নাচে
মাংসের লাবণ্যে।
যখন ভাবি, তোমাকে
ভুলে যাব, তোমার অবয়ব সামনে
আসে, বলে— আত্মহত্যা করো।
হত্যার আনন্দে
খরগোশটি দিয়েছে ধরা পাইথনের কাছে—
তাকে খুনের উল্লাসে দেহ প্রসারিত করছে সে।
স্বপ্ন— এত খাদ্যশৃঙ্খল! যে নিঃসঙ্গ শেরপার
মতো মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে যাচ্ছি।
কোথায় তাঁবু টানাই? অক্সিজেন সংকটে…
তোমাকে ভালোবেসে টের পাই, ফুলে ফুলে
উড়ে বেড়ানো প্রজাপতিকে ইনসেক্টারিতে
রাখা অন্যায় হয়েছে। ক্ষয়ে গেছে পাখা।
অনাদরে তার মৃত্যু ঘটেছে। কেন মৃত্যুর
কথা মনে পড়ল পবিত্র উপত্যকায়—
চতুর্দিকে তুষারধস। কোথায় লুটিয়ে পড়ি!
সমগ্র পর্বতই তুমি, জীবন্ত সমাধিক্ষেত্র।
