শুক্রবার, জুন ৫

আইজাক বাবেল-এর গল্প : লবণ

0

প্রিয় কমরেড সম্পাদক,

আপনাকে আমি এমন কিছু দেহাতি আর অজ্ঞ বেটিমানুষের কথা বলতে চাই, যারা আমাদের বিপ্লবের ভারী ক্ষতি করে চলেছে। এই বিষয়ে আপনার ওপর আস্থা রাখছি, কেননা আমরা জানি আপনি দেশের নানা ফ্রন্টে ঘুরে বেড়ান, ফাস্টভ স্টেশনটিও নিশ্চয়ই আপনার নজর এড়ায়নি, যে স্টেশনটা বিশাল পর্বতমালা পেরিয়ে বহু দূরে, এক দূরবর্তী দেশের দূরবর্তী প্রদেশে অবস্থিত, কত-শত ভাঁড় ঘরের তৈরি বিয়ার যে সেখানে আমরা ফুর্তি করে গিলেছি। এই স্টেশন নিয়ে লেখার মতো অনেক কিছুই আছে, কিন্তু আমাদের গ্রামে যেমনটা বলে, ‘আগান বাগান ঘুরে গরু ঘরে ফিরলেও মালিকের গোবরের স্তূপ কমে না।’ তাই আমি শুধু সেইটুকুই বর্ণনা করব, যা আমি নিজের চোখে দেখেছি।

সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য জান লড়িয়ে দিতে আমরা তখন উত্তেজনায় ফুটছি, আমাদের নিয়ে ট্রেন ছুটে চলেছে বার্দিচেভের দিকে। কিন্তু হঠাৎই লক্ষ করলাম গাড়ি আর একচুলও নড়ছে না, আমাদের ‘গাব্রিলকা’ (ইঞ্জিন) চাকা ঘোরানোই বন্ধ করে দিলো। জোয়ানদের মনে খটকা লাগল, তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, ‘আমরা এখানে থেমে আছি কেন?’

সাত দিন আগের এক শান্ত, মনোরম রাতে আমাদের নামজাদা ‘রেড ক্যাভালরি’র (লাল অশ্বারোহী বাহিনী) মালগাড়ি যেটা জোয়ানের ঠাসা ছিল, এসে থামল ওই স্টেশনে। সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য জান লড়িয়ে দিতে আমরা তখন উত্তেজনায় ফুটছি, আমাদের নিয়ে ট্রেন ছুটে চলেছে বার্দিচেভের দিকে। কিন্তু হঠাৎই লক্ষ করলাম গাড়ি আর একচুলও নড়ছে না, আমাদের ‘গাব্রিলকা’ (ইঞ্জিন) চাকা ঘোরানোই বন্ধ করে দিলো। জোয়ানদের মনে খটকা লাগল, তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, ‘আমরা এখানে থেমে আছি কেন?’

আর সত্যিই, ট্রেনের হঠাৎই দাঁড়িয়ে পড়াটা আমাদের মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য একেবারে মোক্ষম প্রমাণিত হলো। কারণ একদল ফেরিওয়ালা, সে এক পিশাচের দল, যার মধ্যে বেটিমানুষ ছিল গন্ডায় গন্ডায়, ওরা সকলে রেলওয়ের বাবুদের সাথে ভারী ত্যাড়ামি শুরু করেছিল। অসভ্যগুলো বেপরোয়াভাবে ট্রেনের হাতল আঁকড়ে ধরছিল, কামরার ইস্পাতের ছাদের ওপর লাফালাফি করে হইহট্টগোল বাঁধিয়ে দিলো। তাদের প্রত্যেকের দুই হাতে ধরা ছিল চোরাই লবণের বস্তা, যার প্রতিটিতেই ছিল পাঁচ পুড* লবণ। তবে ওই মুনাফালোভী ফেরিওয়ালাদের দাপট বেশিক্ষণ টিকল না। ট্রেন থেকে আমাদের জোয়ানেরা লাফিয়ে পড়ে যে জোর দেখাল, তাতে ওই রেলের বাবুরা, যারা এতক্ষণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল তারা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।

মাঠে পড়ে রইল শুধু বেটিমানুষের দল আর তাদের লবণ ভর্তি বস্তা। দয়া করে জোয়ানেরা কয়েকজনকে ট্রেনের কামরায় উঠতে দিলো, বাকিদের ভাগিয়ে দিলো। আমাদের সেকেন্ড প্লাটুনের কামরায় দুটো ছুকরি এসে উঠল। এর মধ্যেই প্রথম ঘণ্টার টুংটাং শব্দ হতেই কোলে দুধের বাচ্চা নিয়ে জবরদস্ত চেহারার এক বেটি এসে বলল, ‘আমাকে একটু ভেতরে আসতে দাও ওগো আমার কসাক ভাইয়েরা। এই পুরো যুদ্ধের বাজারে কোলে দুধের বাচ্চা নিয়ে স্টেশনে স্টেশনে আমার জান কয়লা হয়ে গেল। এখন আমি বরের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, কিন্তু রেলের যা হাল, আমার যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই! তোমাদের মতো কসাকদের কাছে এটুকু দয়া পাওয়ার হক কি আমার নাই?’

‘শোনো বেটি,’ আমি তাকে বললাম, ‘আমাদের এই প্লাটুন যা ফরমান জারি করবে, সেটাই তোমার ভাগ্য বলে মেনে নিতে হবে।’ এই বলে প্লাটুনের দিকে ঘুরে বললাম, ‘জোয়ানেরা, এখানে এক বেটিমানুষ তার বরের কাছে যাওয়ার আর্জি জানাচ্ছে, আর সত্যিই তার কোলে একটা বাচ্চা আছে। এখন বলো তোমাদের কী ফয়সালা? একে ভেতরে নেবো, নাকি নেবো না?’

‘ওকে ভেতরে আসতে দাও!’ ছেলেরা চেঁচিয়ে উঠল, ‘আমাদের পাল্লায় পড়লে ও নিজের বরের নামই ভুলে যাবে!’

‘না,’ যতটা সম্ভব ভদ্রভাবে ছেলেদের বললাম, ‘তোমাদের কথার ওপর কথা বলছি না জোয়ানেরা, তবে তোমাদের মুখে এমন জানোয়ারের মতো কথাবার্তা শুনে আমি তাজ্জব বনে গেলাম। একবার নিজেদের ছেলেবেলার কথা ভাবো, তোমরাও তো মায়ের কোলে এমন কচি বাচ্চা ছিলে। তার খাতিরেও এমন বুলি তোমাদের মুখে শোভা পায় না!’

তখন কসাকরা বলে উঠল, ‘কী মোক্ষম দাওয়াই দিতে পারে এই বালমাশভ!’ এই বলে তারা বেটিমানুষটাকে কামরায় তুলে নিলো এবং সেও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভেতরে ঢুকল।

এরপর জোয়ানেরা প্রত্যেকে, আমি কতটা খাঁটি কথা বলেছি তা আওড়াতে আওড়াতে, একে অপরের ওপর হুমড়ি খেয়ে তাকে বলতে লাগল, ‘বসো গো মা, ওই কোণটায় গিয়ে বসো। ঠিক যেভাবে মায়েরা তাদের বাচ্চাদের দোল দেয়, তুমিও তোমার বাচ্চাকে সেভাবেই আগলাও। ওই কোণে তোমাকে কেউ ছোঁবেও না। তুমি যেমনটা চেয়েছ, একেবারে অক্ষত শরীরে বরের কাছে পৌঁছে যাবে। তোমার বিবেকের ওপর আমরা ভরসা রাখছি। তুমি আমাদের জন্য নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে। কারণ যা পুরোনো, তা আরও পুরোনো হয়, আর যখন তারুণ্যের দরকার হয়, তখন তা পাওয়া যায় না! আমরাও কম দুঃখ-কষ্ট দেখিনি, কখনো জোর করে ফৌজিতে নামানো হয়েছে, কখনো বা বাড়তি খাটুনি খেটেছি; ক্ষিধের জ্বালায় মরেছি, হাড়হিম করা শীতে জমে গেছি। তাই তুমি নিশ্চিন্তে এখানেই বসে থাকো মা, আর একদম ভয় পেয়ো না!’

তৃতীয় ঘণ্টা পড়ল আর ট্রেন স্টেশন ছেড়ে ঝমঝমিয়ে চলতে শুরু করল। মায়াবী রাত যেন তার মস্ত তাঁবুটা খাটিয়ে দিলো চারিদিকে। আর সেই তাঁবুর গায়ে লণ্ঠনের মতো ঝুলতে লাগল তারার মেলা। জোয়ানদের মনে পড়ে গেল কুবানের সেই রাতগুলোর কথা, আর সবুজ তারার কথা। তাদের ভাবনাগুলো পাখির ডানার মতো উড়তে লাগল। ট্রেনের চাকাগুলো খটখট খটখট শব্দে বেজে চলল।

সময় গড়িয়ে যখন রাতের পাহারাদারি শেষ হলো আর পুব আকাশে ভোরের ঢুলিরা তাদের লাল ঢোলে চাঁটি মারল, তখন কসাকরা আমার কাছে এলো। তারা আমাকে দেখে বুঝল সারারাত আমি দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি, অসম্ভব বেজারমুখে বসে আছি।

কসাকরা জানতে চাইল, ‘বালমাশভ, আপনি কেন এমন ভয়ানক বিরস বদনে ঘুমহীন বসে আছেন?’

‘জোয়ানেরা, আমি তোমাদের কুর্নিশ জানিয়ে একটা অনুরোধ করছি, তোমরা আমাকে ওই বেটিমানুষটার সাথে গোটা কয়েক কথা বলার অনুমতি দাও।’

এই বলে থরথরিয়ে কাঁপতে থাকা শরীরটা বাঙ্কবেড থেকে টেনে তুলে উঠে দাঁড়ালাম; যেখান থেকে গতরাতে ঘুম পালিয়েছিল, ঠিক যেভাবে খেঁকি কুকুরের তাড়া খেয়ে নেকড়ে পালায়। আমি বেটিমানুষটার কাছে হেঁটে যাই, তার কোল থেকে বাচ্চাটাকে তুলে নিই, ওর গায়ে জড়ানো ছেঁড়া কাপড় আর ডায়াপারটা ছিঁড়ে ফেলি, আর অমনি ডায়াপারের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে চল্লিশ পাউন্ড ওজনের মস্ত এক লবণের থলে।

‘কী খাসা বাচ্চা রে ভাই, কমরেডগণ! এই বাচ্চা মায়ের দুধের জন্য চ্যাঁচায় না, মায়ের কাপড়ে পেচ্ছাপ করে না, আর মানুষের ঘুমও ভাঙায় না!’

‘আমাকে মাপ করে দাও, আমার কসাক ভাইয়েরা,’ মহিলা একটুও না ঘাবড়ে ঠান্ডা গলায় আমাদের কথার মাঝখানে ফোড়ন কাটল, ‘আমি আপনাদের ধোঁকা দেইনি, আমার কঠিন জীবনটাই ধোঁকা দিয়েছে।’

‘আমি, বালমাশভ, তোর এই কঠিন জীবনকে মাফ করে দিলাম,’ আমি বেটিমানুষটাকে বললাম, ‘এর জন্য বালমাশভের পকেট থেকে খুব বেশি খসবে না। বালমাশভ যে দামে জিনিস কেনে, সেই দামেই বেচে দেয়! কিন্তু তুই জবাব দে ওই কসাকদের কাছে, যারা তোকে এই প্রজাতন্ত্রের এক খেটে খাওয়া মা হিসেবে মাথায় তুলেছিল। তুই জবাব দে ওই ছুকরি দুটোর কাছে, যারা গত রাতে আমাদের হাতে নিগ্রহের শিকার হয়ে এখন কোনায় বসে ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদছে। তুই জবাব দে কুবানের গমের খেতে রোদে পোড়া আমাদের ঘরের মা-বোনদের কাছে, যারা মরদ ছাড়া নিজেদের শরীরের সমস্ত রক্ত জল করে দিচ্ছে, আর জবাব দে তাদের স্বামীদের কাছেও; যারা একা থাকার যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে বাধ্য হয়ে পথে-ঘাটে দেখা পাওয়া মেয়েদের ইজ্জত লুটছে! অথচ তোকে অসভ্য জীব, এরা কেউ স্পর্শও করেনি; যদিও সবার আগে তোর ওপরই তাদের হাত ওঠার কথা ছিল! তুই জবাব দে এই চূর্ণবিচূর্ণ, ব্যথায় গোঙানো রাশিয়ার কাছে!’

তখন সে মুখ বাঁকিয়ে আমাকে বলল, ‘লবণ তো আমার এমনিও গেছে, তাই কোনো কিছুকে তার আসল নামে ডাকতে আমার ভয় নাই! রাশিয়াকে বাঁচানোর ওই সব লম্বা চওড়া বুলি আমার কাছে আওড়াতে এসো না— তোমাদের আসল দরদ তো ওই ইহুদিগুলোর জন্য, লেনিন আর ট্রটস্কির জন্য!’

জেলখাটা কয়েদির মতো জানপ্রাণ এক করে লেনিন আর ট্রটস্কি আমাদের টেনে নিয়ে চলেছেন মুক্তির আলোয়। অথচ তুই, বিষধর প্রাণী, তুই হলি সেই “শ্বেত” জেনারেলের চেয়েও নিকৃষ্ট এক প্রতিবিপ্লবী, যে জেনারেল তার হাজার-রুবলের ঘোড়ার পিঠে চড়ে আমাদের দিকে ধারাল তলোয়ার উঁচিয়ে ধরে আছে।

‘এই মুহূর্তে আমাদের কথাবার্তার বিষয় ইহুদিরা নয়, শয়তান বেটি! আর শোন, লেনিনের কথা আমি অতটা জানি না, তবে ট্রটস্কি হলেন তাম্বোভের গভর্নরের সেই তেজী ব্যাটা, যে নিজের উঁচুজাতের চৌদ্দপুরুষের মুখে ছাই দিয়ে খেটে খাওয়া মজুরদের দলে এসে ভিড়েছে। জেলখাটা কয়েদির মতো জানপ্রাণ এক করে লেনিন আর ট্রটস্কি আমাদের টেনে নিয়ে চলেছেন মুক্তির আলোয়। অথচ তুই, বিষধর প্রাণী, তুই হলি সেই “শ্বেত” জেনারেলের চেয়েও নিকৃষ্ট এক প্রতিবিপ্লবী, যে জেনারেল তার হাজার-রুবলের ঘোড়ার পিঠে চড়ে আমাদের দিকে ধারাল তলোয়ার উঁচিয়ে ধরে আছে। সেই জেনারেলকে তাও দূর থেকে চেনা যায়, আর একজন মজুরের স্বপ্ন কেবল একটাই, তাকে খতম করা! কিন্তু তোর মতো অসৎ যে নিজের ওই ভুয়া বাচ্চা নিয়ে ঘোরে, যে বাচ্চা রুটির জন্য বায়না ধরে না কিংবা খোলা হাওয়ায় ছুটোছুটি করে না, তোকে দেখে চট করে ধরাও যায় না। তুই ঠিক যেন উপোসী ছারপোকার মতো কুটকুট করে কেবল কামড়াস, কামড়াস আর কামড়াস!’

আমি অকপটে স্বীকার করছি, আমিই ওই বেটিটাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলাম, একেবারে নিচের বাধের ওপর। কিন্তু মাগী যেমন হৃষ্টপুষ্ট আর নিরেট হাড়ের ছিল, ধপাস করে পড়েই উঠে বসল, নিজের স্কার্টটা ঝেড়েঝুড়ে আবার নিজের পাপের রাস্তায় হাঁটা দিলো। চারপাশের ভাঙাচোরা রাশিয়াকে সাক্ষী রেখে ওই আস্ত মাগীটাকে যখন হেঁটে যেতে দেখলাম, চারিদিকে শস্যহীন ন্যাড়া কৃষিক্ষেত্র, ধর্ষিতা মেয়েগুলো, আর আমার কমরেডরা, যাদের অনেকেই ফ্রন্টের দিকে যাচ্ছে কিন্তু খুব কমজনই বেঁচে ফিরবে— এসব কিছু জেনেবুঝে আমার প্রবল ইচ্ছে হলো ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ি এবং হয় নিজেকে শেষ করে দিই, নয়তো তাকে হত্যা করি। কিন্তু কসাকরা আমার ওপর দয়া করে বলল, ‘আরে ভাই, ওই রাইফেলটা দিয়েই ওকে সাবাড় করে দাও না!’

দেরি না করে আমি দেয়াল থেকে আমার বিশ্বস্ত রাইফেলটা পেড়ে নিলাম এবং একগুলিতে এই শ্রমজীবী ভূমি আর প্রজাতন্ত্রের কপালে সেঁটে থাকা কলঙ্ক মুছে দিলাম।

আমরা, সেকেন্ড প্লাটুনের যোদ্ধারা—আপনার সামনে, প্রিয় কমরেড সম্পাদক, এবং আপনাদের সামনে, সম্পাদকীয় দপ্তরের সমস্ত কমরেডবৃন্দ, কসম খেয়ে বলছি যে: সেই সকল বিশ্বাসঘাতকের হাত আমরা গুঁড়িয়ে দেবো, যারা আমাদের নরকের গহ্বরে টেনে নামাতে চায়, যারা সময়ের স্রোতকে উল্টো দিকে ঘোরাতে চায় এবং গোটা রাশিয়াকে লাশের স্তূপ আর মরা ঘাসে ঢেকে দিতে চায়।

সেকেন্ড প্লাটুনের সমস্ত যোদ্ধাদের তরফ থেকে, নিকিতা বালমাশভ, বিপ্লবের এক সাধারণ সিপাহি।


Isaac Babel

আইজাক বাবেল

লেখক পরিচিতি: রুশ সাহিত্যে শুধু নয় আইজাক বাবেল (Isaac Babel) কে বিংশ শতাব্দীর একজন অগ্রগণ্য লেখক হিসেবে ধরা হয়। মূলত ছোটোগল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও, একাধারে তিনি নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রাক্তন রাশিয়া এবং বর্তমান জর্জিয়ার ওডেসা শহরে এক ইহুদি পরিবারে ১৮৯৪ সালে আইজাক বাবেল জন্মগ্রহণ করেন।

আইজাক বাবেল রুশভাষা ছাড়াও ইউক্রেনীয়, হিব্রু এবং ওডেস ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর প্রথমদিকের গল্পগুলো অবশ্য তিনি ফরাসী ভাষাতেই লিখেছিলেন। ‘রেড ক্যাভালরি (Red Cavalry) ওডেসা টেলস্ (Odessa Tales), স্টোরি অফ মাই ডোভকট্/কোট (Story of My Dovecote) ইত্যাদি আইজাক বাবেলের উল্লেখযোগ্য রচনা।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আইজাক বাবেল বলশেভিক সরকারের ধামা ধরায় আগ্রহী ছিলেন না। যা ক্ষমতাশীল সরকার প্রধান স্ট্যালিনের মোটেও পছন্দ হয়নি। তারই খেসারত হিসেবে আইজাক বাবেলকে স্টালিনের মহাশুদ্ধিকরণ (Great Purge) অভিযানের বলি হতে হয়। ১৯৩৯ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত লুবিয়াঙ্কা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪০ সালে তাঁকে গোপনে হত্যা করা হয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল।

গল্পটি পিটার কনস্টানটাইন অনূদিত ‘দ্য কমপ্লিট ওয়ার্কস অব আইজাক বাবেল’ থেকে নেওয়া হয়েছে।


পাদটিকা: পুড (Pood) এক সময়ের রুশ ওজনের একক, যা প্রায় 16.38 কিলোগ্রাম বা 36.11 পাউন্ড সমান। সেই হিসাব ধরে five pood এ ধরা হতো ৪০ পাউন্ড।

এই এককটি রাশিয়া, বেলারুশ, এবং ইউক্রেনে ব্যবহৃত হতো, বিশেষ করে কৃষি ও কেটলবেল ওজন পরিমাপে। যদিও এটি ১৯২৪ সালে সরকারিভাবে বাতিল করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন রুশ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বা ঐতিহ্যবাহী প্রবাদে এখনও এটি ব্যবহৃত হয়।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

জন্ম ঢাকায়। বর্তমান আবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত একজন গল্পকার এবং অনুবাদক। পাশাপাশি প্রবন্ধ, চলচ্চিত্র-সাহিত্য সমালোচনা লিখে থাকেন। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭টি।

error: আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় ।