মিথ
এখনও রওনা হইনি মহিষের উপবনে, পলিগামি রূপের ভেতর আজও বনস্পতি তোমার ভবিষ্যৎ গণনা করি। এখনও মৃত্যু বিচক্ষণ সাপের মতো বসে থাকে পাহাড়ে। উত্থিত সেই পাহাড়েই রওনা হয়েছি।
রিলকের সুমহান বাজপাখি
অপর্যাপ্ত ব্রহ্মদর্শী জীবনের কথা ভাবি। আমিই একমাত্র নিরুপায় ডেডেলাস। ঈষৎ আখের ভেতর গমন করে দেখেছি, গূঢ় ঋষি মোম ও পালকের মতো তুচ্ছ। গণদেবতা কোথায়? আছে পুষ্পজগতেই এমন কেউ। দামিনীর আর্তনাদে সম্পূর্ণ অর্থহীন মৃদু হাওয়া আসে। মেলানকোলিক আবহের ভেতর একবার মৃতের ধর্মজীবন দেখে অর্ধেক ব্যাঘ্রচর্ম পরিহার করেছি। হয়তো রিলকের সুমহান বাজপাখি, আমি এখন; আমি এখন কবিতাই লিখি পিতৃশোকে, আবার শোকও স্তম্ভিত হলে, আবারও গোপবালকের মতো নিদ্রাহীন নিমজ্জিত দ্রাক্ষা খুঁজি। এই পরিসমাপ্তির ধরণিতে, দামিনীর মতো সুমিষ্ট দ্রাক্ষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল; এত কিছু জেনেও কেবল স্বাস্থ্য, স্বর্ণমিথ, উদ্দীপ্ত দারুর অপেক্ষা করতে পারিনি।
সুবর্ণ মৎস্যের লোভে
সুবর্ণ মৎস্যের লোভে তুমি কিনা ইডেনের ফল খাও। পাথরের কাছে এসে শেষ পর্যন্ত অতিকায় হাহাকার করো। পথ হারাও নিজের মিথ্যেরঙিন ঘড়ির দিকে চেয়ে।
বরাহমূর্তির পাশে বসে
বরাহমূর্তির পাশে বসে, হিয়ার ভেতর তোমাকে দেখি। পরিনির্বাণে বেঁচে আছ ভীষণ অলৌকিক প্রদর্শনীতে। মৃতগোলাপও আজ সাক্ষী, আমি তখন হেঁটেছি উচ্চতারার আকাশে, শ্মশানের অনিবার্য অন্ধকারে।
অনন্তকালের মতো ক্ল্যামিডিয়া নিয়ে বসে আছে সামুদ্রিক ওই বস্তুগত পাখিরা। আমি কি তোমাদের কাছে নিয়ে যাব ল্যাভেন্ডার? যেহেতু দেখেছি তুমি আর আসো না তন্ময়তায়, দেখো না নির্জনতার চোখ, বাহু, ভূমণ্ডল— হয়তো এখনই গুটিয়ে নেব চন্দ্রহাঁস, সিমেট্রির অপরিণত জীবন।
আজও চূর্ণ-চূর্ণ ভুল, গোপনীয়তা ভেসে ওঠে জ্যোতির্ময় ধ্যানে। জবাফুলের গল্প থেমে আসে মুহূর্তেই।
শম-শ্রোতা
লুশান পর্বতের চিরতুষারে ঢেকে গেছে সোগির ঐ জীর্ণ মন্দিরটি।
সমস্ত পরিভ্রমণ শেষে
তখন তুমিই ছিলে আমার একমাত্র শম-শ্রোতা।
তোমাকে দেবো সেদিনের সামুদ্রিক যান, অঝর অশ্রু, ক্রমাগত জিরাফের জীবনে একটিমাত্রই হাসি, যদি আর বীণাবাদকের রূপ হও কোনোদিন?
আমার ঝরে পড়বার অন্তিম মুহূর্তে, এসো এই সমুদ্রের অবারিত স্রোতে।
কে জানে, কী ছিল তোমার রূপ! নির্ভার— অচেনা পাখির বেশে— হয়তো প্রতিশ্রুতির এক অন্ধকার অরণ্যের সহস্রবর্ষী সিডার তুমি।

জন্ম: ২৬ জুন। প্রকাশিত বই: গোলাপ ও আফিমের প্রজ্ঞা (২০২২)। ‘পাণ্ডুলিপি সম্পাদক’ হিসেবে কর্মরত।